জৈব তরমুজ চাষে লাভ ২ লক্ষ টাকা! জেনে নিন এক শিক্ষিকার সাফল্যের গল্প

KJ Staff
KJ Staff
Watermelon (Image Credit - Google)
Watermelon (Image Credit - Google)

দেশজুড়ে করোনা আবহে চলছে লকডাউন | এই লকডাউনে অতিরিক্ত সময়ে সুগার কুইনের বিভিন্ন ধরণের তরমুজ চাষ করলেন সীমা রথীশ | তিনি কেরালার কসরগোদ জেলার গণিতের শিক্ষিকা | অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়েছেন এই সময় এবং অনেকেই আবার নিজের দেশে ফিরে গেছেন | সীমা কৃষিক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার আড়াই একর জমিতে জৈব তরমুজ চাষ (Organic Watermelon Farming) শুরু করেছিলেন ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে এবং মৌসুম শেষ হওয়ার পরে এপ্রিল পর্যন্ত ৫ টন ফলের ফলন করেছেন।

সীমা কৃষি পরিবারের একজন সন্তান, তাই কৃষির গুরুত্ব তার কাছে খুবই বেশি | তার বাবার ১৫ একর জমিতে ধান, বাদাম, রাবার ও কলা চাষ হতো | তিনি বোঝেন কৃষিকাজে আগের মতো অর্থ উপার্জন হচ্ছেনা এবং দৈহিক পরিশ্রমের তুলনায় প্রাপ্ত অর্থ খুবই কম | তাই, তিনি কৃহসীর পদ্ধতি বদলাতে চান এবং জৈব উপায়ে কৃষিকাজ করতে চান | তার পারিবারিক বন্ধু নাশিদ তাকে পরামর্শ দেন লাল মিষ্টি স্বাদের তরমুজ চাষ করতে |

কিভাবে অর্গানিক বা জৈব উপায়ে তরমুজ চাষ হয় (Organic watermelon farming process)?

প্রথমে চারা রোপণের আগে জমি থেকে আগাছা পরিষ্কার করে উর্বর মাটিকে সরলরেখায় ভাগ করা হয় । এর উপরে কম্পোস্ট এবং শুকনো পাতা দেওয়া হয়। অবশেষে, একটি ড্রিপ সেচ ব্যবস্থার জন্য জলের পাইপের পাশাপাশি মাটির উপরে মালচিং ব্যাগগুলি রাখা হয় |

এরপর জমিটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করার পর প্রায় 20 নভেম্বর তিনি  বীজ রোপণ করেন| ড্রিপ সেচ ব্যবস্থা দ্বারা ফসলে দিনে ৩ বার জল সরবরাহ করা হয় | তিনি প্রত্যহ সকাল ও সন্ধ্যায় ১ বার করে ফলন দেখতে ও জমি পরিচর্যা করতে আসতেন | ১ মাসের মধ্যে, চারাগুলি বড় হয়ে ওঠে এবং গাছগুলির ফলন বৃদ্ধি করতে সার সরবরাহ করতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সরাসরি গাছগুলিতে স্প্রে করার পরিবর্তে জলে মিশিয়ে এবং  ড্রিপ সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে মিশ্রণটি দিয়েছিলেন |

তার সফল চাষের অন্যতম কারণ হলো জৈব সার | এই  জৈব সার এর একটি অংশ জলের একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশানো হয় এবং তারপরে ড্রিপ সেচ ব্যবস্থার জন্য জলের সাথে ট্যাঙ্কে যুক্ত হয়।  কেবল জলের পরিবর্তে ফসলগুলিকে দিনে ৩ বার জৈব সার দেওয়া হত, এতে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে খুব ভালোভাবে |

আরও পড়ুন - Oil Seed Farming: কম জলে তৈলবীজ চাষ! শ্রেষ্ঠ কৃষকের সম্মান পেলেন আমিরুল

ফসল সংগ্রহ:

২০২১ জানুয়ারিতে সীমা তার তরমুজগুলির প্রথম ফসল তোলেন | কসারগোদ, কান্নুর ও থ্যালাসেরিসহ বিভিন্ন জেলার গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৩ টন ফল  বিক্রি করেন তিনি | ফলগুলি 15 দিনের জন্য টাটকা ছিল এবং প্রতি কেজি 25 টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এপ্রিলে মরসুমের শেষে, তিনি 5 টন পর্যন্ত ফল বিক্রি করেছিলেন এবং প্রায় 2 লক্ষ টাকা আয় করেছিলেন। তরমুজের মরসুম শেষ হওয়ায় তিনি একই জমিতে ঢেঁড়স চাষ শুরু করেছেন, শীঘ্রই তিনি লঙ্কা ও পেঁয়াজের চাষও করবেন |

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন - মাছ চাষ করে সারা রাজ্যে আজ আরতী বর্মন মহিলাদের কাছে এক আইকন

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters