বাড়িতে আদা চাষ করে উপার্জন করুন সহজেই

KJ Staff
KJ Staff

আদা, গুণের দিক থেকে যেমন এর জুড়ি মেলা ভার, তেমনই ব্যবসায়িক দিক থেকেও এটির চাষ বেশ লাভজনক৷ অনেক মশলার মাঝে আদার মূল্যই বুঝিয়ে দেয় এর চাহিদার এবং বিশেষত্বের বিষয়টি৷ বাড়িতে অনেকে অনেক কিছুই চাষ করেন যত্ন নিয়ে৷ কিন্তু জানেন কি খুব কম পরিশ্রমেই অর্থকরী আদা চাষ সম্ভব৷ এর জন্য খুব বেশি জায়গাও প্রয়োজন হয় না৷ এর সহজ চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে উল্লেখ করবো, তবে তার আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন আদার গুণাগুণ সম্পর্কে৷

আদার গুণাগুণ- আদার ভেষজ গুণ অগণিত৷ জিঙ্ক, লবণ, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম প্রভৃতি বিভিন্ন উপাদানে ভরপুর আদা আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়৷ খাদ্যে মশলা হিসেবে হোক বা পানীয়তে অথবা ওষুধ বা সুগন্ধি তৈরি, বিভিন্ন কাজে লাগে এই আদা৷ গ্যাস্ট্রিক-এর সমস্যা কমাতে হোক বা ব্যাথা কমাতে আদা অনেকেই খেয়ে থাকেন৷ আদায় উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল উপাদান শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে৷ আদাতে শরীরে রক্তপ্রবাহের মাত্রা ঠিক থাকে৷ খিদে বাড়াতে এবং বমি বমি ভাব কমাতে আদা খান অনেকে৷ সর্দি-কাশি কমাতেও আদার টুকরো মুখে রাখেন৷ এছাড়া, বদহজম, আমাশয়, পেট ফাঁপার মতো অসুবিধাও দূর করে এটি৷ পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে৷ অনেকেই গলা পরিষ্কার রাখতে আদাজল বা আদার টুকরো খান৷ নিয়মিত আদা খেলে ত্বক, চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে৷ গুণে সমৃদ্ধ আদা আমাদের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে৷ তাই লকডাউনে ইচ্ছে হলে বাড়িতেই চাষ করতে পারেন আদা৷

আদা চাষের পদ্ধতি- সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখের মধ্যে আদা চাষ করলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ বেলে-দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটিতে আদা চাষের উপযুক্ত সময়৷ তবে আদার ফলন অনেকাংশে বীজের আকারের উপর নির্ভর করে।

আদা চাষের জন্য মাটি ঝুরঝুরে হতে হবে, যাতে তাতে জল না জমে যায়৷ বীজ আদার আকার বড় হলে ফলন বেশি হয়। প্রথমে লম্বা টব বা প্লাস্টিকের পাত্রে সমান পরিমাণ মাটি এবং জৈব সার মিশিয়ে নিতে হবে৷ মাঝারি সাইজের টবে কমপক্ষে ১০-১৫ গ্রামের ২টি আদার কন্দ রোপন করা যেতে পারে৷ কন্দ সরাসরি টবে রোপন করতে পারেন, অথবা এই কন্দ ভিজে বালিতে ১-২ দিন রেখে দিলে অঙ্কুরোদগম হলে, এরপর এটি টবে দিলে সময় আরেকটু কম লাগে৷ তবে অতিরিক্ত জল যাতে বের হয়ে যায় তার জন্য টবের নীচে একটি ছিদ্র করে রাখতে হবে৷

যত্ন- এর জন্য উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন৷ ছায়াযুক্ত স্থানে এই টব রাখতে হবে৷ টবে আদা চাষে খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না৷ তবে আগাছা হলে তা সাবধানে পরিষ্কার করে দিতে হবে৷ জল দিতে হবে ২-৩ দিন পর পর৷ কম পরিমাণে৷ তবে আদা চাষে জৈব সার প্রয়োজন হয়৷

প্রায় দু তিন মাস পর গাছ হবে৷ আদা লাগানোর থেকে প্রায় ৮-৯ মাস পরে ফসল তোলা যেতে পারে৷ সময় মতো গাছ টেনে তুললে নীচে দেখতে পাবেন আদা ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠেছে৷ আপনি বেশি পরিমাণে চাষ করতে পারলে তা বিক্রির মাধ্যমে অর্থও উপার্জন করতে পারবেন৷ অথবা আদা কেনার থেকে টাকা সাশ্রয়ও করতে পারবেন৷ শরীরের জন্যও যেমন এটি উপকারী, তেমনই অর্থকরীও৷

আরও পড়ুন- চিচিঙ্গা চাষ (Snake Gourd) পদ্ধতি ও তার রোগ-ব্যবস্থাপনা

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters