Pabda Fish Farming - পাবদার মিশ্রচাষে অনন্য উদ্ভাবন “মাটির কলসি” কৌশল

স্বপ্নম সেন
স্বপ্নম সেন
Pabda fish (Image Credit - Google)
Pabda fish (Image Credit - Google)

মৎস্যভুক পাবদা মাছের (Pabda Fish Farming) বাচ্চা বাঁচানোর কৌশলই হল পাবদা চাষের অন্যতম প্রযুক্তি জ্ঞান। চাষি পর্যায়ে এর স্বার্থক রূপায়ন হয়েছে হলদিয়া ব্লকে। মাটির কলসি পুকুরের তলদেশে বসিয়ে রেখে বাঁচানো যায় পাবদা মাছের বাচ্চা। এর পর অন্যান্য মাছের মতোই সঠিক পরিচর্যা নিলেই পাবদা চাষের মাধ্যমে অধিক লাভের মুখ দেখবে মাছ চাষিরা। পুকুরের তলদেশে মাটির পাত্র বা কলসির ব্যবহার করা মাছ চাষীদের দ্বারা গৃহীত অনন্য দেশীয় কৌশল। তবে চাষের কৌশল ঠিক মতো আয়ত্ত করতে পারলে পাবদা মাছের চাষে লাভ অনেক অনেক বেশি।

অনেক সময়ে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, পাবদা মাছের একক চাষ লাভজনক না মিশ্রচাষ। কিন্তু বিভিন্ন মাছ চাষিদের চাষের মাধ্যমে বাস্তবিক অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে পাবদা মাছের আঁতুড় পুকুর চাষটি একক এবং পালন পুকুর চাষটি মিশ্রভাবে করতে পারলেই বেশি লাভ।

পাবদার চাষে মাটির পাত্র বা কলসির ব্যবহার (Use of earthen pots in pabda cultivation) -

আসলে পাবদা মাছের ১ গ্রাম থেকে ৮-১০ গ্রাম ওজন নিয়ে যাওয়াটাই আসল বিষয়। এই সময় মাছের মৃত্যুর হার বেশি হয়। বেশির ভাগ মাছ চাষি এই সময়ে চাষে ক্ষতির মুখে পড়েন। এই ১ গ্রাম থেকে ৮-১০ গ্রাম ওজনের পাবদা সময় নেয় ৪৫-৬০দিন। আর ৮-১০ গ্রাম থেকে ৬০-৭০ গ্রাম ওজন ৫-৬ মাসে হয়ে যায়। তাই পাবদার চাষকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। এই ৮-১০ গ্রাম অবদি আঁতুড় পুকুর চাষে একক পাবদার চাষ আর ৮-১০ গ্রাম ত্থেকে ৬০-৭০ গ্রাম অবধি রুই, কাতলা, সিলভার কার্পের সাথে মিশ্রচাষ।  আর এই পাবদার এই আঁতুড় পুকুর চাষে মাছ চাষীদের দ্বারা গৃহীত অনন্য দেশীয় কৌশল হল পুকুরের তলদেশে মাটির পাত্র বা কলসির ব্যবহার। সাধারণত প্রতি ডেসিম্যাল পুকুরে ৫-৬টি মাটির কলসি বা পাত্র ব্যাবহার করা হয়। পুকুরের জলের তলায় ডুবে থাকে এই মাটির কলসি বা পাত্রগুলি। এর মধ্যে পাবদার আশ্রয়স্থল তৈরি হয়। 

জৈব জুস -

এই সময় আর একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান দেওয়ার দরকার সেটা হল জৈব জুস। ঈস্ট (২ কেজি), চিটে গুড় (১২ কেজি), বাদাম খোল (১২ কেজি), চালের গুঁড়ো (১০ কেজি), গমের আটা (৬ কেজি) এবং পাকা কলা (১ কেজি) তিন গুন জলের সাথে মিশিয়ে ঢাকনা লাগানো পাত্রে দুদিন রাখা হয়। তারপর পুকুরে প্রয়োগ করা হয়, যা ভাল জুপ্লাঙ্কটনের উৎপাদন দেয় এবং জলের গুনমান নিয়ন্ত্রণ করে।

পালন পুকুরে মিশ্রচাষে পাবদার সাথে ১৫০ গ্রাম ওজনের ২০ টি রুই ও ২০০ গ্রাম ওজনের ৮ টি সিলভার কার্প, ৩৫০ গ্রাম ওজনের ৪ টি কাতলা মাছ ছাড়া যায়। ৭-৮ মাস পর পাবদা ৬০-৭০ গ্রাম হলে পরে বিক্রি করতে হবে।

এই সময়ে কাতলা দেড় কেজি ওজনের ও এর মধ্যে দু’বার রুই ও সিলভার কার্প মাছ যথাক্রমে ৬০০ গ্রাম ও ১ কেজি ওজনের ধরে বিক্রি করা যাবে। তবে মাঝে রুই ও সিলভার কার্প ধরার সময়ে রুই ও সিলভার কার্প সম পরিমানে ছাড়তে হবে।

আরও পড়ুন - Terrace Farming – জেনে নিন ছাদবাগানের জন্য মাটি প্রস্তুতি, গাছ রোপণ ও সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে

পুকুরে চাষে সতর্কতা -

এছাড়া পাবদা চাষে যে বিষয় গুলি নজর দেওয়া দরকার সেটা হল, মাছের কৃত্রিম খাবার দেওয়ার সময়। পাবদা মাছকে রাতে খাবার দিতে হয়। দুই সাইপ্রিনাস ও মৃগেল মাছ বাদ দিয়ে অন্য পোনা মাছের সঙ্গে পাবদা মাছও পুকুরে চাষ করা হয়।

যাইহোক, পাবদা আসলে নদীর মাছ। বিপন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে পাবদা মাছ। ত্রিপুরার স্টেট ফিস হল পাবদা। সবার কাছেই পাবদা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু মাছ। কাঁটা কম থাকায় ছোটদের কাছেও মাছটি প্রিয়। তবে হলদিয়া ব্লকের মাছচাষিরা পুকুরে পাবদা মাছের সফল চাষ করছেন। দেখা দিয়েছে অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগ। পাবদা মাছের চাহিদা স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের সর্বত্রই রয়েছে।

আরও পড়ুন - Rooftop Gardening – ছাদ বাগানে কি কি গাছ করতে পারেন আপনি? জেনে নিন ছাদ বাগানের জন্য উপযোগী ফসল সম্পর্কে

Like this article?

Hey! I am স্বপ্নম সেন . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters