মালটা চাষে আগাছা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচর্যা পদ্ধতি

KJ Staff
KJ Staff
Malta Tree (Image Credit - Google)
Malta Tree (Image Credit - Google)

সাইট্রাস ফসলের মধ্যে মালটা একটি অন্যতম জনপ্রিয় ফল। মালটা সাইট্রাস পরিবারভুক্ত একটি বিদেশি ফল। মালটা ফলটি জাম্বুরা (Citrus maxima) এবং কমলা (Citrus reticulata) এই দুই ফলের শংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর ইংরেজি নাম 'সুইট অরেঞ্জ' (Sweet orange), হিন্দিতে 'সান্তারা' এবং অসমীয়া ভাষায় একে 'সুমথিৰা টেঙা' বলা হয়।

বিশ্বের সর্বমোট উৎপাদিত সাইট্রাস ফসলের দুই তৃতীয়াংশ হলো মালটা। ভিয়েতনাম, উত্তর পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ চীন মালটার আদি উৎপত্তি স্থল। তবে বর্তমানে এই ফলটি বিশ্বের উষ্ণ ও অব–উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় বেশী চাষ করা হচ্ছে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা মালটা চাষ করে সফল হচ্ছেন। উন্নত জাত ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করে এর উৎপাদন বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব।

আগাছা পরিষ্কার (Weed management) -

আগাছা খাবারে ভাগ বসায়। ক্ষতিকর পোকার আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার হয়। তাই বাগান সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। গাছের গোড়া হতে একটু দূরে শুকনো লতাপাতা, খড়, কুটা বিছিয়ে মালচিংয়ের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। এতে আগাছা জন্মাবে না। মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

সেচ-

ভালো ফলের জন্য শুষ্ক মৌসুমে বা খরার সময় নিয়মিত সেচ দেওয়া একান্ত দরকার। বর্ষার সময় গাছের গোড়ায় যেন জল না জমে, সে জন্য দ্রুত নিষ্কাশন ব্যাবস্থা করতে হবে।

ডাল-পালা ছাঁটাই -

মালটা গাছের জন্য ডালা ছাঁটাই অপরিহার্য। গাছ লাগানোর পরে ফল ধরার পূর্ব পর্যন্ত ধীরে ধীরে ডালা ছেঁটে গাছকে নিদিষ্ট আকার দিতে হবে, যাতে গাছ উচু না হয়ে চারদিকে ছড়াতে পারে। কারন পার্শ্ব ডালে ফল বেশী ধরে। কাণ্ডের এক মিটার উচ্চতার সকল ডালা ছাঁটাই করতে হবে। ডালা ছাঁটাইয়ের পরে কাঁটা অংশে বোর্দো পেস্টের প্রলেপ দিতে হবে। এছাড়া জল তেউড় বা water sucker উৎপন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেটে ফেলতে হবে। মরা, শুকনা, রোগাক্রান্ত ডালা ছেঁটে ফেলতে হবে।

ফল পাতলাকরণ –

মালটা গাছে থোকা থোকা ফল ধরে .আর বারী মালটা ১ জাতের গাছে প্রতি বছর প্রচুর ফল আসে। সমস্ত ফল রাখা হলে ফল ছোট ও নিন্ম মানের হয়। এজন্য প্রতি পুস্প মঞ্জুরিতে সুস্থ্ ও সবল দেখে দুটি ফল রেখে, বাকীগুলো ছোট (মার্বেল আকৃতি) থাকা অবস্থায় ছাঁটাই করে দিতে হবে। কলমের গাছ প্রথম বা দ্বিতীয় বছর থেকে ফল দেওয়া শুরু করে। গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য প্রথম ২ বছর ফল না রাখাই ভালো। ফলের আকৃতি সবুজ হওয়ায় পাখি বা পোকার আক্রমণ কম হয়। তবে পরিপক্কতার পূর্বে ব্যাগিং করলে অবাঞ্ছিত পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন - কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের অন্যতম সেল প্রতিরোধক মালটা ফল

ব্যাগিং-

ব্যাগিং করা মালটা চাষের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি । চীনে উৎপাদিত এ ব্যাগ এখন আমাদের দেশেও পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাগিং করলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হয় না। তাই ফল পরিপক্বতার আগেই ছত্রাকনাশক (টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মিলিলিটার/১ লিটার) প্রয়োগ করে ব্যাগিং করতে হবে। এর কিছু বাড়তি সুবিধাও আছে। যেমন - পাতার ঘর্ষণ থেকে ফলকে রক্ষা করে। তীব্র সূর্যকিরণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বিভিন্ন পাখি এবং বাদুড়ের উপদ্রব হয় না। ফল নিরাপদ হয়। পরিবেশ ভালো থাকে। বাজার মূল্য পাওয়া যায় বেশি। এ ব্যাগ দুই-তিন বছর ব্যবহার করা যায়। দেশীয় পদ্ধতিতে পলিথিন, কাপড় কিংবা বাটার পেপার দিয়ে ব্যাগিং করা যেতে পারে।

ফল সংগ্রহ-

ফলের পরিপক্কতার সাথে সাথে ফলের সবুজ বর্ণ, হালকা সবুজ বর্ণে বা ফ্যাকাশে সবুজ হতে থাকে। বারী মালটা- ১ সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাসে আহরন করা যায়। ফল সংগ্রহের পর নষ্ট বা আঘাত প্রাপ্ত ফল আলাদা করতে হবে। ভালো মানের ফলগুলি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ঠাণ্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে।

আরও পড়ুন - মালটা ফসলে রোগ পোকা ও তার নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters