Bamboo Farming: বাঁশ চাষে আপনিও হতে পারেন কোটিপতি, জেনে নিন সম্পূর্ণ পদ্ধতি

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Bamboo tree (image credit- Google)
Bamboo tree (image credit- Google)

বাঁশ একটি সপুষ্পক, স্থায়ী এবং চিরসবুজ উদ্ভিদ, যা Poaceae এর ঘাস পরিবারের অন্তর্গত। এটি একটি বহুমুখী, শক্তিশালী, পুনর্নবীকরণযোগ্য | সেইসাথে পরিবেশ বান্ধব উপাদান যা সহজেই বিভিন্ন উদ্দেশ্যে চাষ করা যায়। বাঁশকে পৃথিবীতে দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কাঠের উদ্ভিদ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

ভারতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা ফসলের মধ্যে বাঁশ অন্যতম এবং এটি 'দরিদ্র মানুষের কাঠ' হিসেবেও পরিচিত | চীনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁশ উৎপাদনকারী দেশ। দেশে বার্ষিক বাঁশের উৎপাদন আনুমানিক ৩.২৩ মিলিয়ন টন |

এশিয়ায়, বাঁশ সংস্কৃতির সবচেয়ে সংহত অংশ এবং এটি কাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রধানত নির্মাণ সামগ্রী, আসবাবপত্র, সজ্জা এবং পাতলা কাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ভারত নিতান্তই খুব ভাগ্যবান যে এখানে বাঁশের উৎপাদন সবচেয়ে ভালো । সর্বোপরি, বাঁশের কান্ডগুলি খাদ্য হিসাবে খাওয়া হয় এবং পুষ্টির ভাল উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। দেশের উত্তর -পূর্ব রাজ্যগুলি প্রধান বাঁশ উৎপাদনকারী রাজ্য। যদিও দেশে প্রায় ১৩৬ প্রজাতির বাঁশের অস্তিত্ব রয়েছে, তবুও তাদের মধ্যে কয়েকটি কেবল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব।

জলবায়ু(Climate):

বাঁশ বাগান গরম থেকে উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াতে ভাল জন্মায়। তবে এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে গ্রীষ্মে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় না | যেহেতু বাঁশের পাতলা শিকড় এবং যথেষ্ট বৃদ্ধি আছে, তাই এটিকে সবসময় শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ বা ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও, যে অঞ্চলে ঠান্ডা বাতাস আসে সেখানে বাঁশ চাষের জন্য উপযুক্ত নয় |কারণ শৈত্যপ্রবাহে বাঁশের পাতা শুকিয়ে মরে যেতে পারে |

আরও পড়ুন - Vegetable Planting Calendar: ১২ মাসে কোন ফসল কোন সময়ে চাষ করবেন?

মাটি(Soil):

সাধারনত, বাঁশগুলি কলম কাটিং বা রাইজোমের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হয়। কিন্তু এগুলি বীজের মাধ্যমেও বংশ বিস্তার করা যায়, যা খুব কমই পাওয়া যায় | বাঁশের চারাগুলি মূলত নার্সারিতে বেড়ে ওঠে  এবং ১ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সেগুলিকে  মাটি ভর্তি পাত্রগুলিতে বাড়তে দেওয়া হয়। পরে চারা মূল জমিতে স্থানান্তরিত করা হয়। রাইজোম রোপণ পদ্ধতিতে একটু যত্নের প্রয়োজন হয়। এখানে, শিকড় সহ ১ বছরের কলম খনন করে ১ মিটার আকারে কাটা উচিত এবং বর্ষায় রোপণ করা উচিত।

রোপণ পদ্ধতি(Plantation):

সাধারণত বর্ষায় বাঁশের চারা রোপণ করা হয়। ৬০*৬০ আকারের মাটিতে গর্ত খুঁড়তে হবে | ৫*৪  মিটারের জায়গায় নার্সারি থেকে নিয়ে আসা চারা রোপণ করতে হবে। ১ একর জমিতে প্রায় ২০০ টি বাঁশের চারা একসাথে লাগানো যেতে পারে | বাঁশ রোপণে বেড়ে ওঠার সময়কাল ৫ বছর। অতএব আদা, মরিচ বা হলুদের মতো সাথী ফসস্ল অনায়াসে চাষ করে কিছু অতিরিক্ত আয় করা যায় | তাই, প্রথম ৩ বছরের মধ্যে বাঁশের সাথে এই সাথী ফসলগুলি সহজেই চাষ করা যেতে পারে |

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

উচ্চ মানের এবং সর্বোত্তম ফলনের জন্য, সার ব্যবহার করা হয়। যখন মূল জমিতে চারা রোপণ করা হয় তখন সার এবং কীটনাশক গুরুত্বপূর্ণ | যেহেতু বাঁশ গাছগুলি ভারী খাদক, এমনকি খুব উচ্চ মানের মাটিও হার মেনে যাবে যদি এই চাষে সার প্রয়োগ করা না হয় | কিন্তু সবসময় ফসল তোলার পর সার প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং গাছে সেচ প্রদান করার আগে | পটাসিয়াম এবং নাইট্রোজেন সার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান | এই ২ সারের প্রয়োগে যার কারণে বাঁশ গাছ বেড়ে ওঠে। এছাড়াও অবশ্যই সবুজ সার, জৈব কম্পোস্ট, কাঠের ছাই এবং রাসায়নিক সার পরিমাণমতো ও প্রয়োজনমতো প্রয়োগ করতে হবে। পাতা কামড়ানো এবং পাতার রস চুষে খেয়ে নেওয়া পোকামাকড় দেখা যায় | তাই এই কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ(Irrigation):

নার্সারিতে  বাঁশ জন্মানোর সময় নিয়মিত সেচ দিতে হবে। নার্সারি থেকে মূল জমিতে চারা রোপণের সময় অবিলম্বে জল সরবরাহ করতে হবে। এটি অবশ্যই লক্ষ করা উচিত যে বাঁশের গাছ জলাবদ্ধতার জন্য সংবেদনশীল তাই বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাত বা বন্যার সময় মাটি বের করতে হবে। জলের ভাল ব্যবহারের জন্য  ড্রিপ সেচ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে |

ফসল সংগ্রহ(Harvesting):

পঞ্চম বছর থেকে ফসল কাটা শুরু করা যেতে পারে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে, ৬ বছর থেকে ফসল তোলা আবশ্যক।  প্রথমবার  ষষ্ঠ বছরে ৬  টি কলম এবং এরপর ৭ বছরে ৭ টি কলম কত হয় এবং পরবর্তীতে এভাবে চলতে থাকে | ১  একর বাঁশ রোপণের জন্য ৫ বছরে  খরচ  প্রায় ৯৪০০  টাকা। বাঁশ চাষ থেকে ফলন এবং আয়, প্রতি ৬ বছর থেকে বৃদ্ধি পায়। অতএব আমরা বলতে পারি যে বাঁশ হল একটি লাভজনক ফসল যার দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম অর্থনৈতিক পুনরাবৃত্তি লাভ দেয়।

আরও পড়ুন - Composting Cow Dung: কিভাবে গোবর থেকে জৈব সার বানাবেন? শিখে নিন পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters