কৃষিকাজ থেকে ১০০ কোটির টার্নওভার: হেলিকপ্টারের পর এবার উড়োজাহাজের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব আনবেন ড. রাজারাম ত্রিপাঠী

ছত্তিশগড়ের বস্তারের মতো চ্যালেঞ্জিং ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে উঠে এসে নিজের কঠোর পরিশ্রম, জেদ এবং উদ্ভাবনের জোরে কৃষি জগতে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি তৈরি করা ড. রাজারাম ত্রিপাঠী আজ কোনো পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কাহিনী একটি অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা, যা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একজন প্রবেশনারি অফিসারের নিরাপদ চাকরি থেকে শুরু করে মাটির প্রতি তাঁর অগাধ প্রেম পর্যন্ত পৌঁছায়। ড. ত্রিপাঠী কেবল নিজের জীবনই পরিবর্তন করেননি, বরং ১,২০০ একরেরও বেশি জমিতে ঔষধি গাছ, মশলা এবং ভেষজ চাষের মাধ্যমে শত শত আদিবাসী কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন।

KJ Staff
KJ Staff
Dr. Rajaram Tripathi
Dr. Rajaram Tripathi

ছত্তিশগড়ের বস্তারের মতো চ্যালেঞ্জিং ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে উঠে এসে নিজের কঠোর পরিশ্রম, জেদ এবং উদ্ভাবনের জোরে কৃষি জগতে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি তৈরি করা . রাজারাম ত্রিপাঠী আজ কোনো পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কাহিনী একটি অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা, যা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একজন প্রবেশনারি অফিসারের নিরাপদ চাকরি থেকে শুরু করে মাটির প্রতি তাঁর অগাধ প্রেম পর্যন্ত পৌঁছায়। ড. ত্রিপাঠী কেবল নিজের জীবনই পরিবর্তন করেননি, বরং ,২০০ একরেরও বেশি জমিতে ঔষধি গাছ, মশলা এবং ভেষজ চাষের মাধ্যমে শত শত আদিবাসী কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন।

অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ড. ত্রিপাঠী শিক্ষার ক্ষেত্রেও অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি ছয়টি বিষয়ে এম.. (M.A.) করেছেন, এল.এল.বি. (LLB) পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং বিলাসপুর হাইকোর্টে নিবন্ধিত আইনজীবীও ছিলেন। আদিবাসী গবেষণাসহ একাধিক বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন, অধ্যাপক ছিলেন এবং পরবর্তীতে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু এক পলকে তিনি চাকরি, পদ এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ ছেড়ে কৃষিকাজকেই নিজের জীবন বানিয়ে নেন। গত ৩০ বছর ধরে তিনি কৃষিকাজে এমনভাবে মগ্ন হয়ে আছেন যেন কোনো সাধক নিজের তপস্যায় লীন হয়ে আছেন।

ড. ত্রিপাঠীর ফার্ম কোনো সাধারণ ফার্ম হাউসের মতো মনে হয় না; বরং এটি কোনো তপস্বীর আশ্রমের অনুভূতি দেয়। এখানে দেশের কোণায় কোণায় থাকা কৃষকই শুধু নয়, বিদেশ থেকেও কৃষকরা শিখতে এবং বুঝতে পৌঁছান। বিশেষ বিষয় হলো, তিনি আজ পর্যন্ত কোনো কৃষককে হতাশ করেননি। এখন পর্যন্ত ২৫ লক্ষের (. মিলিয়ন) বেশি কৃষক কোনো না কোনোভাবে তাঁর সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হয়েছেন।

তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য তাঁকে হরিৎ-যোদ্ধা (সেউজ যোদ্ধা), কৃষি-ঋষি, ভেষজ রাজা (Herbal King)’ এবং ভারতের সবচেয়ে ধনী কৃষক-এর মতো উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। আগে চাষের জন্য হেলিকপ্টার কিনে শিরোনামে আসা ড. ত্রিপাঠী এখন কৃষি কাজের জন্য একটি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে তিনি হবেন ভারতের প্রথম "উড়োজাহাজ থাকা কৃষক"। প্রায় ১০০ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার থাকা একটি গোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দেওয়া সত্ত্বেও তাঁর সরলতা, আধ্যাত্মিক চিন্তা এবং মাটির সাথে টান তাঁকে একজন প্রকৃত ‘কৃষি-ঋষি’ করে তোলে।

কৃষি জাগরণ (Krishi Jagran) এবং ড. ত্রিপাঠীর মধ্যে হওয়া বিস্তারিত কথাবার্তার সম্পাদিত অংশ এখানে তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: বর্তমানে আপনি কোন কোন প্রধান ফসলের চাষ করছেন?

উত্তর: আমরা মূলত বহুমুখী চাষ (Multi-layer farming) করি। আমরা উঁচু গাছ রোপণ করি এবং সেগুলিতে গোলমরিচের মতো লতা জাতীয় গাছ তুলে দিই। গাছের নিচে আমরা হলুদ, আদা, সাদা মুসলি (Safed Musli), স্টিভিয়া, অশ্বগন্ধা, কালমেঘ, ব্রাহ্মী এবং ইনসুলিন প্ল্যান্টের মতো ঔষধি ফসল ও মশলার চাষ করি। আমরা একই জমিতে একসাথে চার-পাঁচটি ফসল ফলাই। 'কৃষি পরাশর'-এর মতো প্রাচীন গ্রন্থেও লেখা আছে যে পৃথিবীর বিশ্রামের প্রয়োজন। তাই বছরে তিনটি আলাদা আলাদা ফসল নেওয়ার পরিবর্তে একই সময়ে বড় গাছ, ঝোপঝাড় এবং ছায়ায় জন্মানো উদ্ভিদের সমন্বয় (Combination) সবচেয়ে লাভজনক।

প্রশ্ন: আপনি একটি নিরাপদ ব্যাঙ্কের চাকরি ছেড়ে দিলেন আজকের যুবকদের জন্য 'চাষ না চাকরি' এই দ্বন্দ্বের বিষয়ে আপনার মতামত কী?

উত্তর: এটি সত্য যে প্রতিটি শিক্ষিত যুবক আই.এ.এস. (IAS) অফিসার বা কালেক্টর হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে আপনি কালেক্টর হোন বা পিয়ন, খাবার ছাড়া শান্তি পাওয়া যায় না। খাবার আসে খেত থেকে; তাই চাকরির চেয়ে চাষ বেশি জরুরি। ব্যবস্থা বজায় রাখার জন্য একটি চাকরি প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য খাদ্যশস্য এবং তা উৎপাদনকারী কৃষকই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি ব্যাঙ্কের চাকরি ছেড়ে চাষ বেছে নিয়েছিলাম কারণ আমি ব্যবস্থার অংশ হওয়ার পরিবর্তে ব্যবস্থাকে পুষ্ট করতে চেয়েছিলাম।

প্রশ্ন: . ত্রিপাঠী, আপনি গোলমরিচের একটি বৈপ্লবিক জাত MDBP-16 উদ্ভাবন করেছেন এই যাত্রা এবং এর পেছনের ৩০ বছরের লড়াইয়ের বিষয়ে বিস্তারিত বলুন

উত্তর: MDBP-16 এর উদ্ভাবন কেবল একটি কৃষি সাফল্য নয়, এটি তিন দশকের তপস্যার ফল। ঐতিহাসিকভাবে গোলমরিচের চাষ কেবল দক্ষিণ ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ বলে মনে করা হতো। যখন আমি মধ্য ভারতের বস্তারে এর চাষের কথা বলেছিলাম, বিশেষজ্ঞরা সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন যে এখানে কেবল গাছই বাড়বে, ফল ধরবে না; আর যদি ফল ধরেও, তার গুণমান খারাপ হবে।

কিন্তু যখন আমি গুণমান পরীক্ষা করালাম, আমাদের গোলমরিচে পাইপারিন-এর (Piperine) পরিমাণ ১৬% পাওয়া গেছে, যা দেশে সর্বাধিক। এই গবেষণা এবং সাফল্যের ভিত্তিতেই আমরা ২০১৬ সালে এটিকে নিবন্ধনের জন্য পেশ করেছিলাম, তাই এর নাম MDBP-16 রাখা হয়েছে। আজ এই জাতটি ১৬টি রাজ্যে সফলভাবে চাষ করা হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর উৎপাদন ক্ষমতা। যেখানে সাধারণ গাছে ১.৫ থেকে ২.৫ কেজি ফলন পাওয়া যায়, সেখানে MDBP-16 প্রতি গাছে ৮ থেকে ১০ কেজি গোলমরিচ দেয়। বিজ্ঞানীরা একে "বস্তারের কালো সোনা" (Black Gold of Bastar) বলেছেন।

প্রশ্ন: প্রথাগত কৃষিতে পলি হাউসের (Poly house) কী বিকল্প উপলব্ধ আছে?

উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেড়ে যাওয়া গরম একটি বড় সমস্যা। অত্যধিক তীব্ৰ আলোর কারণে গাছগুলি সকাল ১০:৩০ থেকে বিকেল ৩:৩০ এর মধ্যে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) করতে পারে না, যার ফলে উৎপাদন কমে যায়। পলি হাউস এই আলো কমানোর জন্য প্লাস্টিক ব্যবহার করে, যা নিষিদ্ধ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

প্রকৃতি নিজেই এর শ্রেষ্ঠ বিকল্প দিয়েছে—গাছের মাধ্যমে 'প্রাকৃতিক ছায়া' তৈরি করা। গাছ লাগিয়ে আমরা এমন একটি মডেল তৈরি করেছি যা কেবল ছায়াই দেয় না, বরং এর পাতাগুলি চমৎকার সারও তৈরি করে। এই গাছগুলি (যেমন অস্ট্রেলিয়ান টিক) নাইট্রোজেন ফিক্সেশন-এর (Nitrogen fixation) মাধ্যমে মাটিকে প্রাকৃতিক ইউরিয়া যোগান দেয়। এই মডেলে ৯০% জায়গা খালি থাকে যেখানে আপনি অন্য ফসলের চাষ করতে পারেন। পাশাপাশি এই গাছগুলিতে গোলমরিচ বা গিলয়-এর মতো লতা বগিয়ে ৩০-৪০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উৎপাদন নেওয়া যায়। যেখানে শস্যের শীষ কেবল ৬-৮ ইঞ্চিতে সীমাবদ্ধ থাকে এবং বাকি অংশ খড় (আবর্জনা) হয়ে যায়, সেখানে এই প্রাকৃতিক বিকল্প এক একর জমিকে ৫০-৬০ একরের উৎপাদন ক্ষমতায় রূপান্তরিত করতে পারে। ভারতের জন্য এই প্রাকৃতিক বিকল্প কোনো বরদানের চেয়ে কম নয়।

প্রশ্ন: ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য পলি হাউসে চাষ করা কতটা ব্যবহারিক?

উত্তর: যাদের কাছে বিনিয়োগের জন্য প্রচুর অর্থ আছে সেই পুঁজিপতিদের জন্য পলি হাউস ভালো, কিন্তু সাধারণ কৃষকের জন্য এটি লোকসানের কারণ হতে পারে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক একর জমিতে পলি হাউস স্থাপনের খরচ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। ৫০% ভর্তুকির পরেও কৃষককে বড় ঋণ পরিশোধ করতে হয় এবং তাঁকে কেবল সুদ এবং কিস্তির জন্য প্রতি বছর ৬-৭ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে হবে, যা অত্যন্ত কঠিন। যদি আপনার নার্সারি বা বিদেশি শাকসবজি (Exotic vegetables) এবং ফুলের রপ্তানি অর্ডার থাকে তবেই এটি লাভজনক। সাধারণ শাকসবজি চাষ করার নামে ৪০ লক্ষ টাকার 'সাদা হাতি' পোষার ফলে কৃষকের জমিও নিলাম হতে পারে।

প্রশ্ন: চাষ থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের বিষয়টি কতটা সত্যি?

উত্তর: চাষ থেকে কোটি টাকা উপার্জন করা যেকোনো শিল্প বা খেলাধুলায় (যেমন ক্রিকেট) সাফল্য পাওয়ার মতোই সত্যি। সঠিক কৌশল এবং সঠিক পদ্ধতিতে কাজ করা অনেক কৃষক চাষ থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। কিন্তু আমাদের এটিও বুঝতে হবে যে প্রতিটি খেলোয়াড় শচীন তেন্ডুলকর বা বিরাট কোহলি হতে পারেন না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা খেলা ছেড়ে দেব। আজ যারা কোটি টাকা উপার্জন করছেন, ২৫ বছর আগে তাঁদের ইতিহাসও সাধারণ কৃষকদের মতোই ছিল। তাঁরা সংগ্রাম, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন। ভারতীয় কৃষিতে সমস্যাও আছে এবং রেকর্ডও আছে।

প্রশ্ন: এমন কোনো একটি ফসল আছে কি যা সব কৃষকের করা উচিত?

উত্তর: আমি বিশ্বাস করি যে এমন কোনো নির্দিষ্ট ফসল নেই যা সব কৃষকের করা উচিত। কৃষিতে বৈচিত্র্য (Diversity) থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিটি কৃষককে ফসল নির্বাচন করার সময় নিজের খেতের মাটি, উপলব্ধ সেচ সুবিধা এবং নিজের বিনিয়োগের ক্ষমতার কথা মাথায় রাখা উচিত।

তাছাড়া কৃষককে কখন টাকা ফেরত দরকার সেটিও বিচার করা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, একজন বড় কৃষক ২ বছর অপেক্ষা করতে পারেন, কিন্তু একজন ক্ষুদ্র কৃষককে নিজের জীবিকার জন্য নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন হয়। তাই নিজের প্রয়োজনীয়তা, মূলধন এবং জলবায়ু (Climate)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি দেখেই ফসল নির্বাচন করা উচিত, কারণ সব জলবায়ুতে সব ফসল হয় না।

প্রশ্ন: আপনার মতে কৃষিতে সবচেয়ে বড় ভুলটি কী?

উত্তর: অন্যকে অন্ধভাবে অনুকরণ করে চাষ করাটাই সবচেয়ে বড় ভুল। প্রায়ই কৃষকরা অন্যের উপার্জনের কথা শুনে চিন্তা না করে একই ফসলের চাষ শুরু করেন। যখন আমরা এই ধরনের 'ভেড়ার মতো দৌড়' (Herd mentality) অনুসরণ করি, তখন প্রায়ই আমাদের বড় লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

প্রশ্ন: কৃষিতে ধৈর্য কতটা প্রয়োজনীয়?

উত্তর: আমি বিশ্বাস করি যে কৃষির শুরুই হয় ধৈর্য দিয়ে। যখন আপনি একটি বীজ বপন করেন, সেটি অঙ্কুরিত হওয়া এবং বেড়ে ওঠা পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হয়। কবীর দাস জি যেমন বলেছেন—"মালী একশো কলস জল দিলেও, ঋতু এলেই ফল ধরবে।" এর অর্থ হলো শস্যে ফল তখনই আসবে যখন তার সঠিক সময় আসবে। কৃষকের চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল আর কেউ নেই। খরা হোক বা বন্যা, এই চ্যালেঞ্জগুলির পরেও কৃষক পরের বছর আবার পূর্ণ ধৈর্যের সাথে বীজ বপন করেন। তাই আমি বিশ্বাস করি যে কৃষি এবং ধৈর্য একে অপরের পরিপূরক; কৃষি ধৈর্যেরই আর এক নাম।

প্রশ্ন: একজন কৃষকের প্রথমে কী শেখা উচিতউৎপাদন না বিপণন (Marketing)?

উত্তর: আমি বিশ্বাস করি যে একজন কৃষকের প্রথমে বিপণনের ওপর নিজের 'হোমওয়ার্ক' করা উচিত। তাঁর বাজারে চাহিদা এবং জোগানের (Demand and supply) পরিস্থিতি গভীরভাবে অধ্যয়ন করা উচিত। যদি আপনি এমন একটি ফসল উৎপাদন করেন যার বাজারে চাহিদাই নেই বা খুব কম, তবে আপনাকে সেটি বিক্রি করতে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। তাই চাহিদা এবং জোগানের মাঝে কতটা ব্যবধান আছে এবং বাজার প্রকৃতপক্ষ্যে কী চায় সেটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি, কারণ বাজারই 'রাজা'। বাজারের প্রয়োজনীয়তা আমাদের উৎপাদনের পরিমাণ এবং গুণমান (Quality) উভয় স্তরেই পূরণ করতে হবে। বাজার যে মানের কোয়ালিটি চায়, আমাদের সেটিই প্রদান করতে হবে।

Dr. Rajaram Tripathi

প্রশ্ন: কৃষির জন্য সবচেয়ে লাভজনক ফসল কোনটি?

উত্তর: দেখুন, এর জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট ফসলের নাম নেওয়া সম্ভব নয়। কিছু ফসল দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা দেয় যাতে দুই-চার বছর অপেক্ষা করতে হয়, আবার কিছু ফসল মাত্র তিন মাসেই প্রস্তুত হয়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি যে একজন কৃষকের 'নিজের সব ডিম একই ঝুড়িতে' রাখা উচিত নয়। লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ফসলের পাশাপাশি অন্যান্য বিকল্পও রাখা উচিত।

'হাই ভ্যালু' (High value) ফসল তিন প্রকারের হয়:

১. নিয়মিত আয় দেওয়া ফসল: যা আপনাকে ধারাবাহিকভাবে উপার্জন দিতে থাকে।

২. স্বল্পমেয়াদী ফসল: যা খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যায়।

৩. দীর্ঘমেয়াদী (Long-term) ফসল: যা অনেক দিন পর বড় লাভ দেয়।

একে আমরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উদাহরণ দিয়ে বুঝতে পারি—যেমন আমরা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট (FD) এবং রিকারিং ডিপোজিট (RD) রাখি, একইভাবে আমাদের তিন ধরনের চাষ করা উচিত যাতে আমরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী থাকি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা এমন গাছ লাগিয়েছি যা ১০-১২ বছরে কাঠ দেয়; পাশাপাশি গোলমরিচ লাগিয়েছি যা ২-৩ বছরে ফলন দেয়। এই গাছগুলির মাঝে আমরা প্রতি বছর সাদা মুসলি, স্টিভিয়া এবং হলুদের মতো ফসল করি যা প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর আয় দেয়। এভাবে তিন ধরনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়। ভবিষ্যতের বড় খরচের জন্য কাঠ একটি 'ডিপোজিট'-এর মতো কাজ করে যা নষ্ট হয় না। তাই 'বহুমুখী চাষ' (Multi-layer farming) যেখানে গ্রহণ করা হয়, সেটিই সবচেয়ে লাভজনক।

প্রশ্ন: কৃষি নীতিতে (Agriculture Policy) এমন কী কী কথা আছে যা অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত?

উত্তর: প্রথম কথাটি হলো যে যখনই কৃষি নীতি তৈরি করা হয়, তাতে 'প্রকৃত কৃষকের' অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। আমি কেবল পাগড়ি বেঁধে রাজনীতি করা লোকেদের কথা বলছি না, বরং সেই সব কৃষকের কথা বলছি যারা মাঠে নেমে সত্যি চাষ করেন এবং তৃণমূল স্তরের সমস্যাগুলি ভালো করে বোঝেন। প্রায়ই সরকারের উদ্দেশ্য ঠিক থাকে, কিন্তু পরিকল্পনা তৈরি করা লোকেদের কৃষির ভূমির বাস্তবতার জ্ঞান থাকে না, যার ফলে বেশিরভাগ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

প্রশ্ন: কৃষিতে নারীদের অংশগ্রহণ কতটা জরুরি?

উত্তর: ভারতের বেশিরভাগ প্রান্তে, বিশেষ করে আদিবাসী এবং জনজাতীয় অঞ্চলে চাষ পুরোপুরি নারীদের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের বস্তারে কৃষি কার্যে নারীদের ভূমিকা ৭০% পর্যন্ত। কৃষিতে নারী শক্তির এই ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি শুভ লক্ষণ। অন্য রাজ্যেও নারীরা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেন, কিন্তু তাঁরা যে কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য তা পান না। সম্বোধন প্রায়ই ‘ভাই ও বোনেরা’ বলে শুরু করা হয়, কিন্তু এটি প্রকৃতপক্ষে ‘বোন ও ভাইয়েরা’ বলে শুরু হওয়া উচিত।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতের ফসল এবং বাজারের চাহিদাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

উত্তর: ভবিষ্যৎ হলো ‘শ্রী অন্ন’ (মিলেটস), জৈবিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্যশস্য এবং সুপারফুডের (Superfoods)। স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্টিভিয়া, কুইনোয়া এবং চিয়া বীজের মতো ফসলের চাহিদা অনেক বাড়বে। স্টিভিয়া চিনির চেয়ে ২৫ গুণ বেশি মিষ্টি এবং এতে জিরো ক্যালোরি থাকে; এর ভবিষ্যতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রশ্ন: ড্রোন (Drones) দিয়ে চাষ করা কতটা বৈপ্লবিক হতে পারে?

উত্তর: দেখুন, ড্রোনের ব্যবহার এখন প্রাথমিক স্তরে আছে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে এটি ভবিষ্যতের কৃষিতে খুব উপযোগী হবে। ওষুধ ছিটানো থেকে শুরু করে বীজ বপন এবং রোগ শনাক্ত করা পর্যন্ত এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। তবে এটি এখনও একটি ব্যয়বহুল প্রযুক্তি। সরকার এর জন্য অনেক প্রকল্প শুরু করেছে, কিন্তু এটি এখনও গ্রামে পুরোপুরি পৌঁছে যায়নি। মোবাইলের পর গ্রামীণ মানুষ যখন ড্রোন চালানো শিখবে, তখন তারা এর সুবিধা নিতে পারবে। বর্তমানে এটি সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে। একে সুলভ করা বাধ্যতামূলক, কারণ নিজের মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার পেট্রোল ভরতে অসুবিধা পাওয়া কৃষক একজনের পক্ষে লক্ষ টাকার সরঞ্জাম কেনা একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ।

প্রশ্ন: আদিবাসী অঞ্চলে কৃষি কাজ করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

উত্তর: আদিবাসী অঞ্চলে চাষ করা কঠিন করে তোলায় সরকারের কিছু নীতি ও নিয়ম বড় বাধা। এমন অনেক ধারা ও আইন তৈরি করা হয়েছে যে যদি কেউ আদিবাসী কৃষকদের সাথে মিলে যৌথ চাষ করার চেষ্টা করে, তবে তাকে ভুলভাবে প্রচার করা হয়। রাজনীতির কারণে আদিবাসী ভাইদের, যারা স্বভাবে সরল, তাঁদের স্বার্থের জন্য উস্কানি দেওয়া হয়। যখনই কোনো কৃষক বড় পরিসরে কাজ করতে বা কৃষকদের একত্রিত করতে চেষ্টা করেন, তখনই সেখানে থাকা নেতারা নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক হারানোর ভয় পেতে শুরু করেন এবং সেই ব্যক্তিকে টার্গেট করা হয়। তবে আদিবাসী সমাজ শিক্ষিত হয়ে নিজের লাভ-লোকসান বুঝতে পারলে ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন: হাইড্রোপনিক্স (Hydroponics) ভবিষ্যতের প্রযুক্তি না কি কেবল একটি হাইপ (Hype)?

উত্তর: হাইড্রোপনিক্স নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যৎ এবং এর ওপর গবেষণা হওয়া উচিত, বিশেষ করে মহাকাশ গবেষণার দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু বর্তমানে ভারতের মতো দেশে এর কোনো ব্যবহারিক ভবিষ্যৎ নেই। এখানে এক একরে খরচ কোটি কোটি টাকা হয়, যেখানে আমাদের ৮৪% কৃষকের কাছে ৪ একরের কম জমি আছে এবং তাঁদের বার্ষিক আয়ও খুব কম। হাইড্রোপনিক্সের মাধ্যমে উৎপাদিত শাকসবজির খরচ খোলা মাঠের তুলনায় বহুগুণ বেশি। এই প্রযুক্তি কেবল উচ্চবিত্ত শ্রেণিকে ‘সুপার ফুড’ বা ‘মাইক্রো গ্রিন’-এর নামে উচ্চ দামে বিক্রি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ভারতের দেড় বিলিয়ন জনসংখ্যার পেট ভরাতে হলে আমাদের প্রকৃতির সাথেই চলতে হবে। আমাদের এমন প্রজাতির ওপর গবেষণা করা উচিত যা কম জল, অধিক গরম এবং বিপরীত পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে।

প্রশ্ন: আপনি নিজেকে একজন সফল কৃষক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন না একজন কৃষি বিজ্ঞানী?

উত্তর: আমার মূল পরিচয় একজন কৃষকেরই। আমার জীবনে স্কুলে যাওয়ার আগেই মাঠে যাওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল; আমরা সকালে মাঠে যেতাম এবং তারপর ১০ টায় স্কুল। তাই আমার কাছে চাষ আগে এবং পড়াশোনা পরে। পড়াশোনাও খুব প্রয়োজনীয় হলেও একজন ‘কৃষক’ হিসেবে পরিচয় দিতে আমি গর্ব অনুভব করি।

প্রশ্ন: আপনাকে সারা দেশে হেলিকপ্টার থাকা কৃষক হিসেবে জানা যায় আপনি ভবিষ্যতেও এই ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা চালিয়ে যাবেন কি?

উত্তর: দেখুন, হেলিকপ্টার আমার জন্য কোনো বিলাসিতা নয় বরং চাষের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন। আজকের যুগে যেখানে ড্রোনের সীমা শেষ হয়, সেখান থেকে হেলিকপ্টারের প্রকৃত উপযোগিতা শুরু হয়। শস্যে রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য যখন আমরা ওষুধ ছিটানো হয়, তখন নির্ভুলতা (Precision) খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি মাঠের একটি ছোট কোণও ছিটানো থেকে বাদ পড়ে যায়, তবে ব্যাকটেরিয়া বা পোকামাকড় সেখান থেকে পুনরায় গোটা মাঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ কারণেই পশ্চিমা দেশগুলোতে উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো একটি সাধারণ কৃষি প্রক্রিয়া। আমরা এই উদ্দেশ্য মনে রেখেই হেলিকপ্টার নিয়েছিলাম। তবে ভারতে কৃষি ক্ষেত্রে এদের বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং অনুমতি সংক্রান্ত নীতি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আমি এই বিষয়ে সরকারকে জানিয়েছি এবং আশা করছি যে খুব শীঘ্রই একটি স্পষ্ট নীতি আসবে, যার সরাসরি সুবিধা আমাদের ক্ষুদ্র কৃষকরা পাবেন। এর পাশাপাশি আমরা এখন আমাদের কৃষি কারিগরি সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত করতে বিশেষ করে কৃষি কাজের জন্য একটি উড়োজাহাজ কেনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রশ্ন: সম্প্রতি ভারত ধান উৎপাদনে শীর্ষে পৌঁছেছে আপনার মতে কৃষকদের এত বড় পরিসরে ধান চাষ চালিয়ে যাওয়া উচিত কি?

উত্তর: ভারতের বহু অঞ্চলে ভাত মূল খাদ্য, তাই ধান চাষ তো করতেই হবে। কিন্তু আমাদের আন্তর্জাতিক স্তরে বলা কথাগুলিও বুঝতে হবে—"ধান চাষ এবং দারিদ্র্যের একটি গভীর সম্পর্ক আছে"। ছত্তিশগড়কে ‘ধানের বাটি’ বলা হয়, কিন্তু এখানকার ক্ষুদ্র কৃষকরা আজও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হন। ধান চাষে খুব বেশি লাভ সম্ভব নয় বলে আমি বিশ্বাস করি।

সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো জলের; এক কিলো ধান উৎপাদন করতে প্রায় ১,২০০ লিটার জল লাগে। যদি আমরা প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে জলের মূল্য যোগ করি, তবে এক কিলো ধানের দাম ২৪,০০০ টাকা দাঁড়াবে। জল সমগ্র মানবজাতির একটি সাধারণ সম্পদ, কোনো একটি দেশ বা ব্যক্তির নয়। তাই আমাদের বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (Rainwater harvesting) করা উচিত এবং ধানের এমন জাত উদ্ভাবন করা উচিত যা কম সময়ে এবং কম জলে প্রস্তুত হয়ে যায়।

প্রশ্ন: আধুনিক কৃষি (Modern Farming) দরিদ্র কৃষকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, এটি একটি তিতা সত্য। চাষে যেভাবে খরচ বাড়ছে, তা চিন্তাজনক। উদাহরণস্বরূপ, টমেটোর বীজ প্রতি কিলোতে ৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায় এবং ভুট্টার বীজ প্রতি কিলোতে ৬০-৭০ টাকা, যেখানে উৎপাদন মাত্র ২০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হয়। সরকারের বড় ভর্তুকির পরেও সার ও বীজের দাম বাড়ছে, যার ফলে সাধারণ কৃষকের জন্য চাষ একটি লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

যদি কোনো নতুন যুবক ৫ একর জমিতে আধুনিক কৃষি শুরু করতে চান এবং তাঁর কাছে পৈতৃক জমি নেই, তবে তাঁকে অন্তত ৬০ লক্ষ টাকার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা জমি ক্রয়ের জন্য এবং প্রায় ১০ লক্ষ টাকা সীমানা, বোরওয়েল, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য লাগবে। বাস্তবে চাষ খুব ব্যয়বহুল এবং কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের সেই সব উদ্ভাবনী মডেল এবং বিজ্ঞানীর প্রয়োজন যারা চাষের খরচ কমানোর উপায় খুঁজে পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, ড্রোন খুব উপযোগী, কিন্তু ১০-১২ লক্ষ টাকার ড্রোন একজন একা দরিদ্র কৃষক কিনতে পারেন না; এটি কেবল গোষ্ঠীতেই (৪-৫ জন কৃষক মিলে) গ্রহণ করা সম্ভব।

Dr. Rajaram Tripathi
Dr. Rajaram Tripathi

 করে তুলছে?

উত্তর: নতুন প্রযুক্তির গবেষণা এবং বিকাশে বড় অংকের খরচ হয়, যা কোম্পানিগুলো উসুল করতে চায়, তাই শুরুতে প্রযুক্তি সবসময় ব্যয়বহুল হয়। কিন্তু যখন এটি বড় পরিসরে উৎপাদন হয় এবং ব্যবহার বৃদ্ধি পায়, তখন দাম কমে যায়—যেমন মোবাইল এবং টেলিভিশনের ক্ষেত্রে হয়েছিল।

কৃষি সম্পর্কিত প্রযুক্তি সুলভ করতে সরকারকে কোম্পানিগুলোর গবেষণা এবং উদ্ভাবনে ভর্তুকি দেওয়া উচিত। সরকারকে প্রতিটি স্তরে সাহায্য দেওয়া উচিত কারণ প্রযুক্তির বিকাশের সুবিধা শেষ পর্যন্ত পুরো জাতি ও সমাজ পায়।

প্রশ্ন: হাইড্রোপনিক্স (Hydroponics) ভবিষ্যতের প্রযুক্তি না কি কেবল একটি হাইপ?

উত্তর: হাইড্রোপনিক্স নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যৎ এবং এর ওপর গবেষণা হওয়া উচিত, বিশেষ করে মহাকাশ গবেষণার দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু বর্তমানে ভারতের মতো দেশে এর কোনো ব্যবহারিক ভবিষ্যৎ নেই। এখানে এক একরে খরচ কোটি কোটি টাকা হয়, যেখানে আমাদের ৮৪% কৃষকের কাছে ৪ একরের কম জমি আছে এবং তাঁদের বার্ষিক আয়ও খুব কম। হাইড্রোপনিক্সের মাধ্যমে উৎপাদিত শাকসবজির খরচ খোলা মাঠের তুলনায় বহুগুণ বেশি। এই প্রযুক্তি কেবল উচ্চবিত্ত শ্রেণিকে ‘ছুপাৰ ফুড’ বা ‘মাইক্রো গ্ৰীন’-এর নামে উচ্চ দামে বিক্রি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ভারতের দেড় বিলিয়ন জনসংখ্যার পেট ভরাতে হলে আমাদের প্রকৃতির সাথেই চলতে হবে। আমাদের এমন প্রজাতির ওপর গবেষণা করা উচিত যা কম জল, অধিক গরম এবং বিপরীত পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে।

প্রশ্ন: রাসায়নিক চাষ (Chemical farming) কি পুরোপুরি নির্মূল হতে পারে?

উত্তর: সন্তুলিত রাসায়নিক চাষ বর্তমানে বজায় থাকবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের বুঝতে হবে যে পৃথিবীর রাসায়নিক পদার্থের প্রয়োজন নেই। একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝুন—মানুষের পেট প্রকৃতির এমন এক সৃষ্টি যা ফল, শিকড়, দুধ এবং দই সবই হজম করতে পারে, কিন্তু এতে রাসায়নিক পদার্থের জন্য কোনো জায়গা নেই। যেভাবে রাসায়নিক পদার্থ হজম করে মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে পারে না, একইভাবে মাটির বন্ধু ব্যাকটেরিয়া এবং পোকামাকড় রাসায়নিক পদার্থের ফলে ধ্বংস হয়ে যায়। পৃথিবী রাসায়নিক পদার্থের জন্য সৃষ্টি হয়নি; তাই ভবিষ্যতে আমাদের পুরোপুরি রাসায়নিক চাষ থেকে সরে আসতেই হবে। তবে এই পরিবর্তনটি রাতারাতি সম্ভব নয়; এর জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে।

প্রশ্ন: একজন কৃষক কি একটি ব্র্যান্ড (Brand) হতে পারে?

উত্তর: কৃষক প্রকৃতপক্ষে ইতিমধ্যে একটি ব্র্যান্ড হয়ে গেছেন, কিন্তু তাঁকে কেবল বিপণনের জন্যই ব্যবহার করা হয়। নির্বাচনই হোক বা বহুজাতিক কোম্পানির বিজ্ঞাপন, আপনি সব জায়গায় একজন কৃষকের ছবি (পাগড়ি ও লাঠি সমেত) দেখতে পাবেন। পরিতাপের বিষয় এই যে যে সব কোম্পানি চাষের 'ক' অক্ষরটিও শেখেনি, তারাও কৃষকের নাম ব্যবহার করে। প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক যে 'ব্র্যান্ড ভ্যালু', রয়্যালটি এবং সম্মান পাওয়া উচিত, তা তিনি পাচ্ছেন না।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে কোন রাজ্য একটি এগ্ৰিকালচাৰ মডেল হতে পারে?

উত্তর: সব রাজ্যই নিজ নিজ পর্যায়ে ভালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু ছত্তিশগড়ে খুব ভালো সম্ভাবনা আছে কারণ এটি ভারতের মধ্যভাগে অবস্থিত এবং এর জলবায়ু প্রায় ৯০% ফসলের জন্য অনুকূল। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং বিহারের মতো রাজ্যেও অনেক সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে যে সব রাজ্য ‘বাই ডিফল্ট’ জৈবিক হয়ে আছে (যেখানে আর্থিক সঙ্কটের কারণে রাসায়নিক সারের অধিক ব্যবহার হতে পারেনি), তাঁদের চাষে অগ্রণী হওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ আছে। ভবিষ্যতে এখন পর্যন্ত পিছিয়ে পড়া বলে গণ্য হওয়া রাজ্যগুলোর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

প্রশ্ন: ভারতীয় কৃষি কোন বিষয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে?

উত্তর: ভারতীয় কৃষিতে আমরা পিছিয়ে আছি বলে আমি স্বীকার করব না। ভারতের কৃষকরা ফল-মূল, শাকসবজি এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনে নিজেদের রক্ত-ঘাম এক করে দেশের ভাণ্ডার উপচে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা প্রকৃতপক্ষে এগ্রো প্রসেসিং (Agro-processing)-এ খুব পিছিয়ে আছি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত এগ্রো ওয়্যারহাউস এবং আধুনিক ভাণ্ডার নেই, যার ফলে উৎপাদন নষ্ট হয়। ভারত সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সঠিক মজুতকরণের অভাবে প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার শাকসবজি এবং ফল নষ্ট হচ্ছে। আমাদের তহশিল পর্যায়ে ছোট ছোট ইউনিট, কোল্ড স্টোরেজ এবং প্রসেসিং কেন্দ্র চাই যাতে কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সংযোজন (Value addition) করতে পারেন। আমার বিশ্বাস যে পরিকাঠামোর এই অভাবের জন্য ভারত অনেক পিছিয়ে আছে।

প্রশ্ন: কৃষকের জন্য কী প্রয়োজনীয়এম.এস.পি. (MSP) না কি রপ্তানির স্বাধীনতা (Export Freedom)?

উত্তর: দুটোরই প্রয়োজন। এটি ঠিক তেমনই যেমন আপনি জিজ্ঞেস করবেন যে খাবার খাবেন না জল খাবেন, তখন উত্তরটি হবে যে দুটোরই জীবনের জন্য প্রয়োজন। তাছাড়া আমার কৃষকদের পরামর্শ এই যে তাঁরা চাষে কারো 'ভেড়ার মতো দৌড়' বা অন্ধ অনুকরণ করবেন না। কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা উচিত এবং নিজেদের সহযোগী সফল কৃষকদের উদ্ভাবন থেকে শেখা উচিত।

প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ (Investment) কীজমি, জ্ঞান না নেটওয়ার্ক?

উত্তর: দেখুন, জমি প্রথম প্রয়োজন, কারণ জমিই না থাকলে চাষ কোথায় করবেন? কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে জ্ঞান (Knowledge) সমপরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। একে আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমানুসারে সাজাতে পারি: জমি, জ্ঞান, তারপর মূলধন, পরিশ্রম, সাহস এবং শেষে সরকারের সামান্য উৎসাহ।

প্রশ্ন: চাষকে নিয়ে সবচেয়ে বড় মিথ (Myth) কী?

উত্তর: চাষ আসলে মিথ-এর ঊর্ধ্বে এক বাস্তব। এটি মাটির সাথে সম্পর্কিত, যেখানে কেবল কল্পনা কাজ করে না। এখানে 'মেনে নেওয়া' দিয়ে কাজ চলে না। এটি সত্যি যে একটি দানা বপন করলে ৫০টি দানা পাওয়া যায়, কিন্তু এটিও সমানে তিতা সত্য যে মাটিতে বপন করা প্রতিটি দানা গজাবেই এমন কোনো কথা নেই। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে যদি কেউ বলে যে চাষ খুব দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে বা কৃষকের আয় খুব বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আমি একে একটি 'মিথ' বা 'মিথ্যা' বলেই মনে করি।

প্রশ্ন: চাষে সফলতার জন্য বিপণনের (Marketing) গুরুত্ব কত?

উত্তর: আমি বিশ্বাস করি যে একজন কৃষকের উৎপাদনের আগে বিপণনের ওপর হোমওয়ার্ক করা উচিত। বাজার 'রাজা'। বাজার কী চায় আমাদের তা বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী গুণমান ও উৎপাদন নির্ধারণ করতে হবে। চাহিদা ও জোগানের অংক না বুঝে চাষ করা বিপজ্জনক। ভারতের কৃষক প্রায়ই মাঠে নয়, বরং বাজারে হারে।

প্রশ্ন: আদিবাসী অঞ্চলে কৃষি কাজ করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

উত্তর: আদিবাসী অঞ্চলে চাষ করা কঠিন করে তোলায় সরকারের কিছু নীতি ও নিয়ম বড় বাধা। এমন অনেক ধারা ও আইন তৈরি করা হয়েছে যে যদি কেউ আদিবাসী কৃষকদের সাথে মিলে যৌথ চাষ করার চেষ্টা করে, তবে তাকে ভুলভাবে প্রচার করা হয়। রাজনীতির কারণে আদিবাসী ভাইদের, যারা স্বভাবে সরল, তাঁদের স্বার্থের জন্য উস্কানি দেওয়া হয়। যখনই কোনো কৃষক বড় পরিসরে কাজ করতে বা কৃষকদের একত্রিত করতে চেষ্টা করেন, তখনই সেখানে থাকা নেতারা নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক হারানোর ভয় পেতে শুরু করেন এবং সেই ব্যক্তিকে টার্গেট করা হয়। তবে আদিবাসী সমাজ শিক্ষিত হয়ে নিজের লাভ-লোকসান বুঝতে পারলে ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন: আপনি নিজেকে একজন সফল কৃষক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন না একজন কৃষি বিজ্ঞানী?

উত্তর: আমার মূল পরিচয় একজন কৃষকেরই। আমার জীবনে স্কুলে যাওয়ার আগেই মাঠে যাওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল; আমরা সকালে মাঠে যেতাম এবং তারপর ১০ টায় স্কুল। তাই আমার কাছে চাষ আগে এবং পড়াশোনা পরে। পড়াশোনাও খুব প্রয়োজনীয় হলেও একজন ‘কৃষক’ হিসেবে পরিচয় দিতে আমি গর্ব অনুভব করি।

প্রশ্ন: কৃষকদের কি রাজনীতিতে আসা উচিত?

উত্তর: আজকের রাজনীতির অনেক অধ:পতন ঘটেছে এবং এটি একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি এর জন্মদাতা হয়ে পড়েছে। কিন্তু যেখানে সমস্যা আছে, সেখানে সমাধানও আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। রাজনীতিতে ছড়িয়ে থাকা 'আবর্জনা' এবং দুর্নীতি সাফ করার জন্য কৃষকদের এগিয়ে আসা উচিত, কারণ কৃষকরাই এই দেশের রাজনীতি ঠিক করতে পারেন। দেশের প্রায় ৬৫% থেকে ৭০% জনসংখ্যা কৃষির সাথে জড়িত, তবুও সরকার মাত্র ৩৮-৪০% ভোটে গঠিত হয়। যদি এই ৭০% কৃষক একত্ৰিত হয়, তবে রাজনীতির সব ত্রুটি দূর হয়ে যাবে। দুর্ভাগ্যবশত কৃষক এখনও রাজনীতি বোঝেননি; তিনি ভোট দেওয়ার সময় জাতি ও ভাষায় বিভক্ত হয়ে পড়েন, অথচ খরা বা রোগ কারো জাতি দেখে আসে না। যে পর্যন্ত কৃষকরা একত্ৰিত হয়ে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন না, সে পর্যন্ত তাঁদের স্বার্থে পরিকল্পনা তৈরি হবে না।

প্রশ্ন: . রাজারাম ত্রিপাঠী ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করতে পারেন কি?

উত্তর: দেখুন, ভবিষ্যতের বিষয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। তবে আমি যদি বর্তমানের দৃষ্টিকোণ থেকে বলি, রাজনীতি হলো সেই অন্তিম স্থান যেখানে আমি কখনও যেতে চাইব না। রাজনীতি আমি যত কাছ থেকে এবং দূর থেকে দেখেছি, আমার মনে হয় যে আমাদের মতো লোকেদের জন্য সেখানে কোনো জায়গা নেই। আজকের রাজনীতিতে সফল হওয়ার জন্য প্রায়ই তোষামোদ এবং দালালি-র মতো দুৰ্গুণের আশ্রয় নেওয়া হয়। এমন নয় যে রাজনীতিতে ভালো মানুষ নেই, কিন্তু তাঁদের প্রায়ই একপাশে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাজনীতি হবে সেই অন্তিম বিকল্প যা আমি বেছে নিতে চাইব। তবে জীবনে আমি যা ভেবেছি, প্রায়ই তার বিপরীত ঘটেছে। আমি কখনও ভাবিনি যে আমি ব্যাঙ্কে চাকরি করব; আমার মনে হতো যে ব্যাঙ্কাররা পৃথিবীর সবচেয়ে দয়নীয় প্রাণী যারা নোটের পাহাড়ের মাঝে থেকেও একটি নোটও খরচ করতে পারেন না—যেমন সাগরের মাঝে থেকেও তৃষ্ণার্ত হয়ে থাকা। কিন্তু আমাকে সেই চাকরিটি করতে হয়েছিল। একইভাবে আমি ভেবেছিলাম যে চাষ হলো সেই অন্তিম পেশা যেখানে কারো যাওয়া উচিত কারণ এখানে কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন, কিন্তু আমি চাষের মধ্যেই এলাম। প্রকৃতি প্রায়ই আমাকে সেখান থেকেই নিয়ে যায় যেখান এটি চায়। তবুও আপনি যদি আমার ব্যক্তিগত মতামত জিজ্ঞেস করেন, আমি রাজনীতির থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে চাইব। আমি সেই দিকে তাকাতেও চাই না এবং রাজনীতির বিষয়ে কিছু শুনতেও চাই না।

Dr. Rajaram Tripathi
Dr. Rajaram Tripathi

প্রশ্ন: এমন কী একটি অভ্যাস ছিল যার জন্য আপনি সফলতা পেলেন?

উত্তর: হাল না ছাড়ার সংকল্প (জয়ী হওয়ার জেদ)। আমি বিশ্বাস করি যে আপনি যেকোনো কাজ শুরু করুন না কেন, তাতে চ্যালেঞ্জ এবং বিফলতা আসবেই, কিন্তু আপনাকে অটল থাকতে হবে। আমার জীবনে এমন একটি সময় এসেছিল যখন আমার জমিগুলো নিলাম হওয়ার পথে ছিল এবং আমাকে ‘ডিফল্টার কৃষক’ বলা হচ্ছিল। কিন্তু আমি চাষ ছাড়িনি এবং নিরন্তর কাজ করে গেলাম। ফলস্বরূপ, যে ব্যাঙ্ক আমাকে ডিফল্টার বলেছিল, সেই ব্যাঙ্কই পরে আমাকে প্রশংসাপত্র দিল এবং তাঁদের নতুন শাখার উদ্বোধনও আমার হাতেই হলো। জীবনে উত্থান-পতনের পরেও জয়ের প্রতি দৃঢ় থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

প্রশ্ন: আপনার জন্য সফলতার প্রকৃত অর্থ কী?

উত্তর: সফলতার অর্থ হলো সমাজ, পরিবেশ এবং চারপাশকে সাথে নিয়ে উন্নতি করা। আপনি যে কাজ করছেন, তা ‘বহুজন হিতায়’ (সকলের মঙ্গলের জন্য) হতে হবে। যদি আপনি একাকী সফল হন, কিন্তু আপনার সমাজ বা পরিবেশের তার থেকে কোনো লাভ না হয়, তবে আমি তাকে প্রকৃত সফলতা বলে গণ্য করি না।

This story is translated by AI. Original article link is here: https://hindi.krishijagran.com/success-stories/success-story-of-bastars-herbal-king-dr-rajaram-tripathi-black-pepper-farming-innovation/

Published On: 14 May 2026, 03:31 PM English Summary: 100 Crore Turnover from Farming: After a Helicopter, Dr. Rajaram Tripathi Will Now Bring an Agricultural Revolution with an Airplane

Like this article?

Hey! I am KJ Staff . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters