Bitter gourd cultivation - সহজ পদ্ধতিতে করলা চাষ করে আয় করুন অতিরিক্ত অর্থ

KJ Staff
KJ Staff
Bitter gourd field (Image Credit - Google)
Bitter gourd field (Image Credit - Google)

করলা প্রধানত উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলের ফসল। ক্রান্তিয় ও উপক্রান্তিয় অঞ্চলে এর উৎপাদন অত্যন্ত বেশী, তাছাড়া ৩০ ডিগ্রী-এর কম উষ্ণতা সম্পন্ন অঞ্চলেও এর উৎপাদন সম্ভব। ভারতে সমতল অংশে (০-১৫০০ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন অংশে) এই সবজির উৎপাদন প্রচুর। এই করলার চাষের জন্য দীর্ঘ উষ্ণ, শুষ্ক, ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়ার প্রয়োজন, বিশেষ করে ফল পাকবার সময় শুষ্ক আবহাওয়ার খুবই প্রয়োজন। সঠিক সুরক্ষা দিতে পারলে শীতেও এর থেকে ফলন পাওয়া যায়।

যেহেতু করলা জন্মায় প্রধানত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে, তাই দক্ষিণ ও মধ্য ভারতে করলাচাষের উপযুক্ত জলবায়ু পাওয়া যায় ও সারাবছর এই অঞ্চলগুলিতে করলা চাষ হয়ে থাকে। ভারতে যে সব করলার চাষ হয়ে থাকে, তার মধ্যে পুসা দো মৌসমী, অর্ক হরিত, কোয়েম্বাটোর লং, প্রিয়া (VK-I), MDV-I, পুসা ভিশেষ ইত্যাদি বিখ্যাত জাত।

করলার জাত পরিচিতি (Variety) -

পুসা দো মৌসমী - 

সাধারণত আঞ্চলিকভাবে এই করলা চাষ হয়ে থাকে বসন্ত, গ্রীষ্ম, ও বর্ষা ঋতুতে। নিউ দিল্লীর IARI গবেষণাগারে এই প্রজাতির উদ্ভাবন করা হয়েছে। সাধারণত বোনার ৫৫ দিনের মধ্যে এই প্রজাতির উৎপাদন খাদ্যোপযোগী হয়। ফসলের রং গাঢ় সবুজ, লম্বা, মাঝারি মানের পুরু হয়। কোনো কোনো গাছের ফলন দণ্ডের মতো হয়। পরিপক্ক ফল প্রায় ১৮ সেমি লম্বা হয় ও ৮ থেকে ১০ টি ফলের ওজন হয় প্রায় এক কেজি।

অর্ক হরিত -

এই প্রজাতির বীজ উৎপাদন হয়েছে IIHR ব্যাঙ্গালোর থেকে, এই প্রজাতির ফল প্রধানত বয়েম আকারের হয়, ফলত্বক মোটা ও পুরুষ্ট, মাঝারি তিক্ত স্বাদের হয় ও বীজের সখ্যা খুব কম। গ্রীষ্ম ও বর্ষাতে এর ফলন হলেও বর্ষাতেই সবথেকে বেশী ফলন হয়। বীজবপনের ৩২-৩৪ দিনের মধ্যেই ফলন খাদ্যোপযোগী হয়ে ওঠে, ১০০-১১০ দিনে হেক্টর প্রতি ১২০ কুইন্ট্যাল ফলন পাওয়া যায়।

কোয়েম্বাটোর লং -

কোয়েম্বাটোর এর AIRC, এই প্রজাতির উদ্ভাবন করেছে। ফলগুলি প্রধানত লম্বা, কচি, ও সাদা রঙের হয়। বর্ষাকালেই এর ফলন খুবই ভালো হয়, একেকটি বাগান খুব উৎপাদনশীল ও লাভজনক।

VK-I (প্রিয়া) -

এই জাতটির উৎপন্ন হয়েছে কেরালা এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি (KAU)-তে। এর ফলগুলি প্রায় ৪০ সেমি লম্বা, বীজবপণ এর ৬০ দিনের মধ্যে প্রথম ফসল পাওয়া যায়, প্রতি গাছে গড়ে ৫৫ টি করে ফলন পাওয়া যায়।

MDV-I -

এই জাতটি সবথেকে লম্বা ও উচ্চফলনশীল। এর গাছের শাখাপ্রশাখা খুব মাঝারি মানের হয় ও খুব তাড়াতাড়ি ফুল ধরে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০-২৫ টি ফল ধরে এবং হেক্টর প্রতি ২৫০ কুইন্ট্যাল ফলন ধরে।

পুসা বিশেষ -

এই বিশেষ প্রজাতির ফলনটি উৎপাদিত হয়েছে IARI থেকে, এর ঝার খুব ছোট ও খুব সহজেই একে সংরক্ষণ করা যায়, এর ফলগুলি খুব আকর্ষনীয় সবুজ রঙের হয়, এবং প্রচুর অসমান্তরাল গুটি বিদ্যমান, এর বীজ বপনের ৫৫ দিন পর থেকে ফলন পাওয়া যায়।

ফসফরাসে সমৃদ্ধ এই মরসুমি সব্জিটি স্বাদে তিক্ত হলেও মানবদেহকে রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এর জুড়ি মেলা ভার। মানবদেহে ফসফরাস জাতীয় চাহিদা পূরণ হয় এর সেবনে। নিয়মিত করলার দেহে উদ্দীপনা নিয়ে আসে এবং রক্ত সঞ্চালনকে বিশুদ্ধ করে, প্লীহা ও লিভারের কার্যক্ষমতাকেও বাড়িয়ে তোলে এবং ডায়াবেটিসেও এটি অত্যন্ত উপকারী।

আসুন জেনে নেই করলা চাষের জন্য কি কি করণীয়-

উপযুক্ত সময় -

জানুয়ারী থেকে মার্চ এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর।

করলার চাষ পদ্ধতি (Cultivation method) -

করলার জন্য যদিও বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ বিশেষ উপযোগী।  এছাড়াও এঁটেল দোআঁশ মাটিতেও ভালো জন্মে। করলার জন্য  প্রথমে মাটির সাথে গোবর সার, খৈল, সুপার ফসফেট ও ছাই মিশাতে হয়।পরে পানি দিতে হবে। সার প্রয়োগের ৭-১০ দিন পরে উঁচু জায়গায় ৩-৪ টি বীজ বপন করতে হয়।করলার বীজের বীজত্বক পুরু হওয়ার কারণে বীজ ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে বপণ করতে হয়। একদিন পর পানি সেচন করলে ছয় সাত দিনে বীজ জার্মিনেট হয়। চারা গজানোর মাস খানেক পরে ইউরিয়া ও পটাস সার মিশাতে হবে। চারা বড় হওয়া শুরু করলে খুঁটি বা বাউনি দেয়া প্রয়োজন যাতে ভালোভাবে অঙ্গজ বৃদ্ধি হয়। করলা লতানো উদ্ভিদ তাই মাচা তৈরী করে দিতে হবে।

যত্ন (Crop care) -

ক) গ্রীষ্মপ্রধান ও আর্দ্র ভাবাপন্ন জলবায়ু করলার জন্য উপযোগী।

খ) গাছ একটু বড় হলে মাচা করে দিতে হবে।

গ) গাছে নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

ঘ) সঠিক পরিমানে সার দিতে হবে।

ঙ) করলার বীজ থেকে চারা বেরনোর পর উক্ত চারায় মাঝে মধ্যে পানি দিতে হবে।

চ) করলা ধরা শুরু করলে সরিষার খৈল পচা পানি পাতলা করে গাছে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর নিয়মিত দিতে হবে।

ছ) কিছুদিন পর পর নিড়ানি দিয়ে খুড়িয়ে দিতে হবে যাতে মাটি ঝুরঝুরে হয়।

প্রয়োজনীয় সার - 

বেলে দো-আঁশ মাটিতে করলা ভাল হয়। করলা চাষ করার জন্য প্রথমে ২ ভাগ দোআঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ২০-৩০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ২০-৩০ গ্রাম পটাশ সার, একত্রে মিশিয়ে ড্রাম ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন। অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে।

কীটপতঙ্গ পরিচালন (Pest management) –

এই উদ্ভিদে কীটপতঙ্গের আক্রমণ অপেক্ষাকৃত কম হয়।  কীটপতঙ্গ দেখা দিলে জৈব কীটনাশক স্প্রে করুন। পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধে কার্বারিল .১৫ % প্রয়োগ করতে পারেন।  

তবে করলার সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা হল ফল ছিদ্রকারী পোকা। এই পোকার আক্রমণ হলে তার থেকে রক্ষা পেতে ১৫ দিন করলা গাছে ভাল কীটনাশক স্প্রে করতে হবে । এছাড়াও ছাদ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে । তাহলে পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

এছাড়াও পোকার মধ্যে কয়েক প্রকারের কাঁটালে পোকা, ফলের মাছি,লাল কুমড়া পোকা প্রধান। পোকা দমনের জন্য সেভিন কিংবা নেক্সিয়ন এবং ডায়াজিনন এর স্প্রে করা হয়।

আরও পড়ুন - Almond Farming: এই বর্ষায় বাড়িতেই করুন পুষ্টিকর আমন্ডের চাষ

করলা সংগ্রহ -

মার্চ থেকে মে অথবা জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। কাঁচা অবস্থায়ই করলা সংগ্রহ করা হয়। একটি গাছ থেকে বেশ কয়েকটা সবজি পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন - Cashew Farming: লাভের নতুন দিশা দেখাচ্ছে কাজু বাদাম চাষ

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters