Kiwi Farming - বিদেশী ফল কিউয়ি চাষ করে উপার্জন করুন অতিরিক্ত অর্থ

KJ Staff
KJ Staff
Kiwi Fruit (Image Credit - Google)
Kiwi Fruit (Image Credit - Google)

কিউই ফলটির স্বাদ এবং পুষ্টিগুণের কারণে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে যেমন- হিমাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, সিকিম, মেঘালয়, অরুনাচল প্রদেশে, নীলগিরি ও ত্রিপুরায় বাণিজ্যিকভাবে কিউয়ি ফলের চাষ বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গে এখনও এর চাষ খুব প্রচলিত নয় জলবায়ুর কারণে। তবে দার্জিলিং কিউই চাষের উপযুক্ত অঞ্চল।

পুষ্টিমান (Nutrition Value) -

ভিটামিন সি ছাড়াও এ ফলে আরও অনেক অন্যান্য উপাদান আসে যা মানবদেহের পুষ্টিসাধন ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। প্রতি ১০০ গ্রাম কিউয়ি ফলে রয়েছে –

এনার্জি- ৬০ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট- ১৪.২৩ গ্রাম, চিনি- ১০.৯৮ গ্রাম, খাদ্যআঁশ- ২ গ্রাম,  ফ্যাট- ০.৫৬ গ্রাম, প্রোটিন- ১.২৩ গ্রাম,  থায়ামিন- ০.০২৪ মিলিগ্রাম,  রিবোফ্লেভিন- ০.০৪৬ মিলিগ্রাম,  নিয়াসিন- ০.২৮ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড- ০.৫ মিলিগ্রাম,  ভিটামিন বি৬- ০.০৫৭ মিলিগ্রাম,  ফোলেট- ৩৪ আইইউ,  ভিটামিন সি- ১০৫.৪ মিলিগ্রাম,  ভিটামিন ই- ১.৪৫ আইইউ,  ভিটামিন কে- ৫.৫ আইইউ,  ক্যালসিয়াম- ২০ মিলিগ্রাম, আয়রন- ০.২৯ মিলিগ্রাম,  ম্যাগনেসিয়াম- ১৪ মিলিগ্রাম,  ম্যাংগানিজ- ০.০৫৮ মিলিগ্রাম,  ফসফরাস- ২৯ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম- ৩১৬ মিলিগ্রাম,  সোডিয়াম- ৩ মিলিগ্রাম এবং জিংক- ০.১০ মিলিগ্রাম।

জাত (Variety) -

এখনও কিউয়ি ফলের কোন জাত আবিষ্কৃত হয় নাই। তবে বিশ্ব ব্যাপী এই ফলের অনেক জাত আসে। তাদের মধ্যে কয়েকটি জাত হলো- ফুজি কিউয়ি ফল,গোল্ডেন কিউয়ি ফল, বেবি কিউয়ি ফল, আর্কটিক কিউয়ি ফল, রেড কিউয়ি ফল, সিলভার ভাইন, পার্পল কিউয়ি ফল এবং চাইনিজ গুজবেরী। এছাড়াও ভারতীয় কিছু জাত রয়েছে, যথা- অ্যাবোট, ব্রুনো, হেওয়ার্ড, অ্যালিসন, মন্টি ইত্যাদি।

উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া (Climate) -

জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ ও সুনিষ্কাশিত বেলে দোআঁশ মাটি কিউয়ি চাষের জন্য উপযোগী। মাটির উপযোগী PH অবশ্যই ৬.৫ -৭.০ হতে হবে।

উষ্ম ও আর্দ্র আবহাওয়া কিউয়ি চাষের জন্য উপযোগী। এই ফল সমুদ্রতল থেকে ৮০০-১৫০০ মিটার উঁচু জমিতে ভাল জন্মে। গাছ বড় হওয়া থেকে গাছে ফুল আসা অব্দি বার্ষিক ১৫০-২০০ সেমি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। গাছে ফুল থাকা অবস্থায় ঝড়হাওয়া ও তুষারপাত মারাক্তকভাবে গাছের ক্ষতি করে। প্রখর সূর্যতাপ ফল ধারনে ব্যাঘাত ঘটায়। ভালো ফলনের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ৩০-৩৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড।

জমি তৈরি - 

জমি ৪-৫ টা চাষ দিয়ে মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। জমি ভালোভাবে আগাছামুক্ত করে নিতে হবে। জমি শেষ চাষের সময় জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর গর্ত তৈরি করে নিতে হবে

বংশবিস্তার -

বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা যায়। এছাড়া কাটিং ও গ্রাফটিং এর মাধ্যমেও সফলভাবে বংশবিস্তার করা যায়। টি বার ও পারগোলা ট্রিনিং সিস্টেমে কিউয়ি বাগান করা হয়।

চারা রোপণ (Seedling Plantation) - 

গাছ সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়। কিউয়ি চারা রোপণের জন্য গাছ থাকে গাছের দূরত্ব হবে ৫-৬ সেমি এবং সারি থাকে সারির দূরত্ব ৪ মিটার। প্রথমে নার্সারি বেডে চারা লাগানোর হয় । পরে ট্রান্সপ্লান্টিং করা হয়। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ভিন্ন ভিন্ন গাছে হয়। ১ টি পুরুষ গাছ দ্বারা ৯ টি স্ত্রী গাছের সফলভাবে পরাগায়ন সম্ভব। পতঙ্গ দ্বারাও পরাগায়ন হয়ে থাকে।

সেচ ও সার ব্যবস্থাপনাঃ

গাছের বয়স ২-৩ বছরের মধ্যে প্রয়োজনমতো সঠিকভাবে পানি দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০-১২ দিন অন্তর অন্তর গাছে পানি দিতে হবে।

বেসাল ডোজ হিসেবে ২৫ কেজি গোবর সার দিতে হবে। গাছের বয়স ১-৫ বছরের মধ্যে  প্রতি গাছে ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম, টিএসপি ৩৫০ গ্রাম এবং এমওপি ৫০০ গ্রাম দিতে হবে। গাছের বয়স ৫ বছরের পরে প্রতি গাছে ইউরিয়া ৯০০ গ্রাম, টিএসপি ৬০০ গ্রাম এবং এমওপি ৯০০ গ্রাম করে প্রয়োগ করতে হবে।

অন্যান্য পরিচর্যাঃ

আগাছা দমনঃ ভালো ফলন পাওয়ার জন্য নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে। মালচিং করতে হবে। অতিরিক্ত আগাছা হলে প্রয়োজনে আগাছানাশক ব্যবহার করতে হবে।

প্রুনিং - গাছের পর্যাপ্ত বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রুনিং  করতে হবে।

সাথী ফসল চাষঃ কিউয়ি চাষের জমি বা বাগান থাকে বাড়তি আয়ের জন্য কৃষক কিউয়ি গাছে ফল ধরার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ গাছের বয়স ৪-৫ বছরের মধ্যে সাথী ফসল লাগাতে পারবেন। সবজি ও লিগিউম জাতীয় ফসল চাষ করা যাবে।

পোকামাকড় ও রোগ বালাই (Pest & Disease Management) -

কিউয়ি গাছে কিছু পোকার উপদ্রপ দেখা যায়। যেমন-লিফ রোলার ক্যাটারপিলার, বক্স এল্ডার বাগ, রুট নোড নেমাটোড ইত্যাদি। কিছু রোগের আক্রমনও দেখা যায়। যেমন- আর্মিলারিয়া রুট রট, ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট,ক্রাউন রট, ক্রাউন গোল, ক্যাঙ্কার ইত্যাদি। ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে উল্লিখিত রোগ বালাই ও পোকা-মাকড় দমন করা যায়।

ফলনঃ

আন্তঃপরিচর্যার উপর কোন গাছের বা বাগানের ফলন নির্ভর করে থাকে। প্রতিটি ভাইন  থেকে গড়ে ৫০-১০০ কেজি  এবং ৭ বছরের বয়সের গাছ থাকে ২৫ টন/হেক্টর ফলন পাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন - Taro root farming - আধুনিক পদ্ধতিতে রোগবালাই এর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পানি কচু চাষ পদ্ধতি

ফসল সংগ্রহ (Harvesting) - 

কিউয়ি গাছে সাধারণত ৪-৫ বছর বয়সে ফল আসতে শুরু করে। ফলের পরিপক্বতা তাপমাত্রার তারতম্যের উপর নির্ভর করে থাকে। ৭-৮ বছর বয়সের গাছ থাকে বানিজ্যিকভাবে ফল উৎপাদন করা যায়।  প্রতিটি ফলের ওজন ৪০-৭০ গ্রাম হয়ে থাকে। ফলের ভিতরে ছোট ছোট কালো বীজ থাকে। গাছ থাকে ফল সংগ্রহের পর ফলের গায়ের শক্ত চুলের মতো অংশগুলো মুছে ফেলার জন্য মোটা কাপড় দিয়ে ফলগুলো ঘষে নিতে হবে।

আরও পড়ুন - Orchid Farming: আধুনিক পদ্ধতিতে উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে অর্কিডের চাষ

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters