জানুন সঠিক উপায়ে ওলকচু চাষ করার পদ্ধতি

KJ Staff
KJ Staff
Suran (Image Credit - Google)
Suran (Image Credit - Google)

ওল কচুর বৈজ্ঞানিক নাম amorphophallus paeoniifolius।ওল মাটির নিচে জন্মানো একটি সবজি। আমাদের দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই ওলকচুর চাষ (Suran/Jimikand Farming) হয়ে থাকে। ওল কচুতে পুষ্টি ও ঔষধি গুণ উভয়ই বিদ্যমান। ওল কচু তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়।ওলকচুর চাষ পদ্ধতি সঠিকভাবে না জানার কারণে চাষিরা তাদের কাঙ্খিত ফলন পান না। 

আসুন জেনে নেই ওলকচু চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে-

জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণঃ

ওলকচুর জমিতে অবশ্যই পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ছায়া থাকলে ভালো হয় না। ওল কচুর গাছ ভালোভাবে বৃদ্ধির জন্য ২৫-৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা ও বার্ষিক ১০০-১৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। মাটির নির্বাচনের ক্ষেত্রে এঁটেল দোআঁশ,  দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি ওলকচু চাষের জন্য উপযোগী।

ওলকচুর জাতসমূহ (Variety) -

বিভিন্ন জাতের ওলকচুর চাষ করা হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে ‘মাদ্রাজি´ জাতের ওলকচু উৎকৃষ্ট মানের। তবে আমাদের দেশে এখনও ওলকচুর তেমন কোন নির্দিষ্ট জাত আবিষ্কার করা যায়নি।

জমি তৈরি ও চারা রোপন (Plantation) -

ওলকচু চাষের জন্য প্রথমেই মাটি ভালোভাবে চাষ করে নিতে হবে ও মই দিয়ে মটি ঝুরঝুরে করে মই দিয়ে মাটি চেপে দিতে হবে। মাঘ মাসের মাঝামাঝি ও ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি ওলকচুর বীজ বপনের জন্য উপযুক্ত সময়। প্রয়োজনে মধ্য-চৈত্র থেকে মধ্য-বৈশাখ মাসেও লাগানো যায়। তবে এর পরে রোপণ করলে ফলন কমে যায়।

জমি থেকে সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ওল তোলা শুরু হয়। তখন ওলের চারপাশে যে মুখি জন্মে সেগুলো সংগ্রহ করতে হবে। এসব মুখি থেকেই চাকি তৈরি হয়। চাকির আকার যত বড় হয় ওল তত বড় হয়।

ওলকচু চাষে সার প্রয়োগঃ

ওলকচুর চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর প্রতি শতক জমির জন্য ১.২ কেজি টিএসপি, ০.৫ কেজি গোবর ও ০.৩ কেজি ইউরিয়া সার মাটির সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। প্রতি গর্তের মাটিতে কী পরিমাণ সার মেশাতে হবে তা নির্ভর করে একরপ্রতি গর্তের সংখ্যার ওপর। সারের মাত্রা একর প্রতি ৩০ কেজি ইউরিয়া, ১২০ কেজি টিএসপি, ৫০ কেজি এমওপি। সার মেশানো মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করে দিতে হবে।

ওলকচু চাষে সেচ ও পানি নিষ্কাশনঃ

ওলকচু চাষে প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থাও করতে হবে। বীজ লাগানোর পরে যদি বৃষ্টিপাত না হয় তবে সেচ দিতে হবে। দুই সারি বা প্রতি সারির পাশ দিয়ে হালকা নালা তৈরি করে দিতে হবে যাতে সহজেই বৃষ্টির পানি যেতে পারে। ওলের জমিতে পানি জমতে দেয়া যাবে না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ওলকচু চাষে  আগাছা ও নিড়ানিঃ

ওলকচু চাষে সময়মত আগাছা দমন ও নিড়ানি দিতে হবে। ধান, গমের খড় বা কচুরিপানা দ্বারা আচ্ছাদন দিয়ে ফলন অনেক গুণ বৃদ্ধি করা যায় এবং সহজেই আগাছা দমন করা যায়। চারা গজানোর পর আগাছা দমন করতে হবে।

ওলকচু চাষে পোকামাকড় ও রোগদমনঃ

ওলকচুর কীটপতঙ্গ ও রোগবালাই দ্বারা তেমন আক্রান্ত হয় না । তবে মাঝে মধ্যে ওলকচুতে লিম্ফ ব্লাইট কলার রট ও মোজাইক রোগ দেখা দেয়। আবার গোঁড়া পচা রোগ ওলের প্রধান ক্ষতিকর রোগ। চাকি লাগানোর আগে ছত্রাকনাশক ব্যাভিস্টিন  দিয়ে তা শোধন করে নিলে এ রোগ কম হয়।

কচু মুখি কার্তিক মাস থেকে অগ্রহায়ণ মাসের দিকে পরিপক্ব হয়ে থাকে। ওলকচু লাগানোর পর প্রায় ৭ থেকে ১২ মাস পর সংগ্রহ করা যায়। গোড়ার মাটি সরিয়ে ওল সংগ্রহ করা যায়।

আরও পড়ুন - বছরের কোন সময়ে কোন ফসল চাষে আয় বাড়বে কৃষকের? খাদ্যশস্য না খাদ্যশস্য নয়- কোন ফসল চাষ করবেন কৃষকবন্ধুরা? জানুন বিস্তারিত

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters