জেনে নিন গ্রীষ্মকালে ডালের কীটশত্রুকে কিভাবে ধ্বংস করবেন?

KJ Staff
KJ Staff
Pulses (Image Credit - Google)
Pulses (Image Credit - Google)

সাধারণত, গ্রীষ্মকালে চাষীদের ডাল চাষে (Pulses farming) প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় কীটপোকার আক্রমণ | এই সমস্যা থেকে সমাধানের উপায় দিয়েছেন বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি কীটতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাধারণত, ডাল গরিব মানুষদের প্রোটিনের একমাত্র উৎস। যে কোনও ডাল থেকেই প্রায় ২০-২৫ শতাংশ প্রোটিন অনায়াসে পাওয়া যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে আমাদের প্রতিদিন গড়ে ৩২-৩৩ গ্রাম ডাল খাওয়া উচিত। অন্যদিকে, এই ডালজাতীয় ফসল জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে | এদের শিকড়ে রাইজোবিয়াম (Rhizobium)নামক ব্যাকটেরিয়া গুটি তৈরি করে বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে গাছকে সরবরাহ করে।

এরকমই একটি প্রোটিনযুক্ত ডালজাতীয় ফসল হলো মুগ (Moong dal)। নিরামিষাশীদের কাছে মুগ প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস যা থেকে প্রায় ২৪ শতাংশ প্রোটিন পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, ১০০ গ্রাম পরিণত মুগ দানা থেকে ৬৩ গ্রাম শর্করা, ১.২ গ্রাম স্নেহপদার্থ, ১৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১৩২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম , প্রায় ৭ মিলিগ্রাম লৌহ ও ১২৪৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়।  পশ্চিমবঙ্গের মতো কিছু রাজ্যে গ্রীষ্মকালীন বা প্রাক-বর্ষাকালীন ফসল হিসাবে মুগচাষ বেশ লাভজনক।

ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদের সর্বভারতীয় ডালশস্য গবেষণা প্রকল্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী  গ্রীষ্মকালীন ফসল হিসাবে ০.৯৪ মিলিয়ন হেক্টর জমি থেকে ০.৫৭ মিলিয়ন টন মুগ উৎপাদিত হয় এবং গড় ফলন থাকে হেক্টর প্রতি ৬০২ কিলোগ্রাম | দৈনিক পুষ্টি যোগানোর ক্ষেত্রে ডালশস্যের ভূমিকা অপরিসীম হলেও আমাদের রাজ্যে এর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় যে অনেকাংশেই কম ডালের ক্রমবর্ধমান বাজার দরই তার প্রমাণ।

কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, ডালচাষে কৃষকদের একমাত্র অনীহা হলো কীটপোকার (Bugs problem) আক্রমণ | এর ফলে, ডাল জাতীয় শস্যের ফলন কম হয় । বিভিন্ন কীটতত্ত্ববিদের মতে মুগে প্রায় ৬৫টি প্রজাতির কীটশত্রুর আক্রমণ লক্ষ্য করা যায় যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় প্রায় ৫টি প্রজাতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

শুঁটি ছিদ্রকারী পোকা (Disease):

পূর্ণাঙ্গ পোকা সবুজাভ বাদামী, উপরের ডানায় ‘ভি’ আকৃতির দাগ আছে, নিচের ডানায় ধূসর কালো সীমা থাকে। পাতার নিচের তলায়, ফুলের কুঁড়িতে, ফুলের উপরে, কচি শুঁটিতে এবং কখনও কখনও কাণ্ডের ডগায় স্ত্রী মথ ডিম পাড়ে। প্রথম অবস্থায় ডিমগুলি সাদা ও চকচকে হয়, পরে ডিম ফোটার সময় গাঢ় বাদামী রঙের হয়। শূককীটগুলি হলুদ, সবুজ, গোলাপি, কমলা, বাদামি, কালো ইত্যাদি  বিভিন্ন রঙের হতে পারে। তবে মুগে আক্রমণকারী শুককীটগুলি সাধারণতঃ হালকা সবুজ বা হলুদাভ সবুজ রঙের হয়। অপরিণত শূককীটগুলি সবুজ অংশ কুরে কুরে খায় আর পরিণত শূককীটগুলি শুঁটি ছিদ্র করে বীজগুলি খায়। শূককীটগুলি সাধারণতঃ শুঁটির ভিতরে মাথা ঢুকিয়ে রাখে এবং বাকি অংশ শুঁটির বাইরে বের হয়ে থাকে। এরা বহুভোজী। এরা ডাল শস্য ছাড়াও চীনাবাদাম, তৈলবীজেও আক্রমণ করে থাকে |

দমনের উপায় (Disease remedy):

একদিকে এরা বহুভোজী আবার  প্রচলিত একাধিক কীটনাশকে এদের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে। তাই সুসংহত পদ্ধতিতে এদের নিয়ন্ত্রণ বাঞ্ছনীয়। তাই,  পরিচর্যামূলক ব্যবস্থা হিসাবে গ্রীষ্মকালীন গভীর চাষ, পরিচ্ছন্ন চাষ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বীজ বপন কার্যকরী। জমিতে পাখি বসার খুঁটি লাগাতে হবে। এছাড়া জমিতে বন্ধুপোকার সংরক্ষণ দরকার। ফেরোমোন ফাঁদের মাধ্যমে নজরদারি দরকার। ভেষজ কীটনাশক হিসাবে নিম বীজের নির্যাস (৫%) ১% সাবান দ্রবণে মিশিয়ে বা নিমঘটিত অন্যান্য  বাণিজ্যিক ফরমুলেশন ব্যবহার  করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন - Organic Farming: অর্গ্যানিক ফার্মিং বা জৈব কৃষিকাজে ফলছে সোনার ফসল

জৈব কীটনাশক যেমন এইচ এ এনপিভি ২৫০ এলই প্রতি হেক্টরে ব্যবহার করা যায়। পরিবেশ বান্ধব কীটনাশক যেমন এমামেক্টিন বেঞ্জোয়েট ৫ এস জি (প্রতি লিটার জলে ০.৫ গ্রাম) বা ২০ এস সি (প্রতি লিটার জলে ০.২৫ মিলি) বা ইনডক্সাকার্ব ১৪.৫ এস সি (প্রতি লিটার জলে ১ মিলি) ব্যবহার করতে হবে। তবে কোনও কীটনাশকই একটানা ব্যবহার করা চলবে না।

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন - এই গ্রীষ্মে মৌমাছি পালনের ব্যবসা করে কীভাবে আয় করতে পারবেন প্রচুর অর্থ, জানুন বিস্তারিত

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters