এই গ্রীষ্মে মৌমাছি পালনের ব্যবসা করে কীভাবে আয় করতে পারবেন প্রচুর অর্থ, জানুন বিস্তারিত

KJ Staff
KJ Staff
Honey Bee farming (Image Credit - Google)
Honey Bee farming (Image Credit - Google)

প্রচলিত কৃষি ব্যবসাগুলির (Agri Business) মধ্যে বর্তমানে মৌমাছি পালন একটি লাভজনক ব্যবসা রূপে প্রসারিত হয়ে চলেছে। সঠিক পদ্ধতিতে পরামর্শ নিয়ে চাষ করলে এই ব্যবসা আপনাকে ভবিষ্যতে ভালো লাভ দিতে পারে। সর্বোপরি এটি এমন একটি ব্যবসা যেখানে লাভের পরিমাণ ক্রমবর্ধমান। খাঁটি মধুর চাহিদা ক্রমশই বৃদ্ধি পাবে। তাই একবার এই ব্যবসা শুরু করলে আপনাকে আর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হতে হবে না।

মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগসংগ্রাহী পতঙ্গরা পৃথিবীর প্রায় ৮৭ টি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের পরাগসংযোগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি রাসায়নিক এর অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে এই বিশেষ কীট প্রজাতির অস্তিত্ব আজ বিপন্নের পথে। মৌমাছি না থাকলে বহু গাছের ফলন সম্ভব নয়, এমনকি সেই উদ্ভিদ প্রজাতি যেমন- আপেল, কফি, আমন্ড, টমেটো, পেঁয়াজ, ও কোকো গাছের অস্তিত্বও বিপন্ন হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও FAO গুলি কীটনাশক ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য বিশেষ বিধিনিষেধ চালু করেছে, যাতে উপকারী পতঙ্গদের হত্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

মৌ পালন (Honey Bee) কীভাবে শুরু করবেন?

আপনি স্থানীয় মৌমাছি পালন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বা কৃষি বিভাগের অধীনে ন্যাশনাল বি বোর্ড এবং সেন্ট্রাল বি রিসার্চ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মতো সরকারী সংস্থাগুলি থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কৃষকরা মৌ পালন করতে পারেন। এছাড়া যারা মৌ পালন করেন, তাদের সাথে এই কাজ করেও আপনি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

মৌমাছি পালন ব্যবসা শুরু করার সেরা সময় হল গ্রীষ্মকাল। কারণ গ্রীষ্মেই ফুল থেকে সবচেয়ে বেশী পোলেন এবং নেকটার পাওয়া যায়। মনে রাখবেন, সবসময় নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে পালনের জন্য মৌমাছি সংগ্রহ করা উচিত।

মৌ পালনের জন্য কিছু জিনিস মনা রাখা দরকার, তা হল -:

১) পোলেন এবং নেকটার উত্পাদনকারী উদ্ভিদ প্রচুর পরিমাণে কলোনির কাছাকাছি হওয়া উচিত।

২) পরিষ্কার জলের উত্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৌমাছি দ্বারা মধু মিশ্রিত করার জন্য এবং মধুচক্রের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য জল প্রয়োজন।

৩) কীটনাশক আছে, এমন অঞ্চল থেকে দূরে মৌ পালন করা উচিত। মৌমাছির পালন ক্ষেত্রের নিকটে কীটনাশক ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত।

৪) গ্রীষ্মকালীন সময়ে, মৌমাছির উপনিবেশগুলি ছায়াযুক্ত অঞ্চলে রাখতে হবে, সরাসরি সূর্যের আলো থেকে তাদের রক্ষা করতে হবে। শীতকালে, মৌচাকগুলি আংশিক সূর্যের আলোতে রাখা যেতে পারে।

মৌমাছি পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম:

১. নরম চামড়া বা ক্যানভাস কাপড় দিয়ে তৈরি গ্লোভসগুলি মৌমাছির হুল থেকে হাত বাঁচাতে ব্যবহৃত হয়

২. বি ভেল মুখ এবং ঘাড়কে হুল থেকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।

৩. মৌমাছির কলোনির ভিতরে হাইভ ফ্রেম সরাতে সহায়তা করার জন্য হাইভ টুলস ব্যবহার করা হয়।

৪. একটি বড় জায়গা বাসা তৈরির জন্য তাদের দেওয়া হয়।

অন্যান্য বিষয় যা বিবেচনা করা দরকার তা হ'ল মৌমাছি পালন পদ্ধতি। মৌমাছি পালন পদ্ধতি হিসাবে মূলত দুটি বিভাগ রয়েছে-

১) ক্লে পট, ওয়াল হাইভস, ট্রি ট্রাঙ্ক- এগুলির মতো প্রচলিত পদ্ধতি।

২) আধুনিক পদ্ধতি হাইভ ফ্রেম, সুপার চেম্বার, ফ্লোর বোর্ড, কুইন এক্সক্লুডার – ব্যবহারে পালন অর্থাৎ সরঞ্জাম ব্যবহারে আধুনিক পদ্ধতি।

আপনার কোন পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে চান তা নির্ধারণ করার পরে, স্থানীয় মৌমাছি চাষীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। অথবা উপরে উল্লিখিত সংস্থাগুলি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে পদ্ধতি শিখতে পারেন।

ভি. জ্যাকোবসনি এবং ট্রপিলিল্যাপস ক্লেরির মতো কীট মৌমাছিদের পক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিকারক। এছাড়া ছত্রাকের প্রভাবে চকবর্ড, স্যাক ব্রুড, আমেরিকান এবং ইউরোপীয় ফাউল ব্রুড রোগ মৌমাছির উপনিবেশগুলিকে প্রভাবিত করে।

ব্যবসায়ে লাভ এবং লোণের প্রাপ্যতা:

মধু এমন একটি পণ্য, যা মৌ পালনকারী বাণিজ্যিকভাবে সরাসরি ক্লায়েন্টের কাছে অথবা কোন সংস্থানের মাধ্যমেও বিক্রি করতে পারেন এবং তা যথেষ্টই লাভজনক।  দেশে কাঁচা ও খাঁটি মধুর চাহিদা বাড়ছে। আপনার যদি নিজের সংস্থা থাকে, তবে আপনি মধু বোতলে রেখে নিজের ব্র্যান্ডের অধীনেই তা বিক্রি করতে পারেন অথবা কন্টেনারে স্টোর করে জৈব মধু নিজেই মুদি দোকান, রেস্তোঁরা এবং অন্যান্য খাদ্য সংস্থাগুলিতে বিক্রি করতে পারেন। জৈব কোনও পণ্যের চাহিদা এখন ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তার দাম বেশ ভালোই। মৌমাছির অন্যান্য পণ্য, যা থেকে আপনি আরও বেশি লাভ অর্জন করতে পারবেন, সেগুলি হল রয়্যাল জেলি, মৌমাছি বিষ, মৌমাছির মোম এবং পরাগ।

আরও পড়ুন - Lord Buddha Jayanti: আগামীকাল বুদ্ধ জয়ন্তী, জানেন কি এই দিনটির বিশেষত্ব কি?

আপনার ব্যবসা শুরু করার মতো পর্যাপ্ত মূলধন না থাকলে সরকার জাতীয়করণকৃত ব্যাংকগুলির মাধ্যমে লোণ দিয়ে সহায়তা প্রদান করছে। এই শিল্পটি এসএসআই বিভাগের আওতায় আসায় আপনি সহজেই ২-৫ লক্ষ টাকার জন্য লোণের আবেদন করতে পারেন।

আরও পড়ুন - বাড়িতে সহজ উপায়ে ঔষধি গাছের চাষ করে হয়ে যান লাভবান

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters