Pineapple Farming - আধুনিক উপায়ে আনারস চাষ করে কৃষকবন্ধুরা আয় করতে পারেন দ্বিগুণ অর্থ

স্বপ্নম সেন
স্বপ্নম সেন
Pineapple tree (Image Credit - Google)
Pineapple tree (Image Credit - Google)

পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগরে আনারসের বার্ষিক উৎপাদন ০.৬ মিলিয়ন টন। এই ফসলটি উত্তরবঙ্গে প্রায় ২০,০০০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়। এই অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের মোট উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ অবদান রাখে, যা দেশের ২ মিলিয়ন মেট্রিক টন উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। ফল বড় হতে ১৮ মাস লাগে। তবে বিশ্বের সর্বত্রই এর চাষের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। কোস্টারিকা, ব্রাজিল এবং ফিলিপিন্স এই তিনটি দেশ একত্রে বিশ্বের সমগ্র আনারস উৎপদনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ উৎপাদন করে।

আধুনিক পদ্ধতিতে ও উন্নত জাতের আনারস চাষ করলে ফলন অনেক বেশি হয়। 

চলুন দেখে নেওয়া যাক, এর চাষ পদ্ধতি (Cultivation method) -

আনারস চাষ:

উপযুক্ত জমি ও মাটি:

উঁচু জমি ও জল দাঁড়ায় না। মাটি হতে হবে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ। জমি থেকে ১৫ সেমি উঁচু এবং ১ মিটার প্রশস্ত বেড তেরি করতে হবে। এক বেড থেকে অন্য বেডের মধ্যে ৫০-১০০ সেমি ফাঁক রাখতে হবে।

চারা রোপণের উত্তম সময় :

অক্টোবর থেকে নভেম্বরে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে সেচের সুবিধা থাকলে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রোপণ করা যেতে পারে। সারি থেকে সারি দূরত্ব ৫০ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৩০-৪০ হতে হবে।

সারের পরিমাণ :

প্রতি গাছে গোবর সার ২৯০ থেকে ৩১০ গ্রাম, ইউরিয়া সার ৩০ থেকে ৩৬ গ্রাম, টিএসপি ১০ থেকে ১৫ গ্রাম, এমপি সার ২৫ থেকে ৩৫ গ্রাম, জিপসাম ১০ থেকে ১৫ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে।

সার প্রয়োগ পদ্ধতি :

গোবর, জিপসাম এবং টিএসপি বেড তৈরির সময় মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া এবং পটাশ সার চার-পাঁচ মাস পর থেকে শুরু করে পাঁচ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।

আনারসের সাথে সাথী ফসল চাষ:

আনারসের সাথে অনায়াসে আদা, সয়াবিন, সরিষা, কলাই, কচু ইত্যাদি সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা যায়।

সেচ, নিকাশ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা: 

শুকনো মৌসুমে আনারস ক্ষেতে সেচ দেওয়া দরকার। তাছাড়া বর্ষাকালে যাতে অতিরিক্ত জল না জমে সে ব্যবস্থা করতে হবে।  চারা বেশি লম্বা হলে ৩০ সে.মি পরিমান রেখে আগার পাতা সমান করে কেটে দিতে হবে।

আগাছা আনারসের খুবই ক্ষতি করে। বছরে অন্তত দু’বার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে; একবার আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফল সংগ্রহ করার পর ও দ্বিতীয় বার অক্টোবর-নভেম্বর মাসে। জমিতে সেচ প্রদান এবং সার প্রয়োগের পর মালচিং করে নিলে জমি আগাছা মুক্ত থাকে। আগাছা দিয়ে মালচিং করার পর একসময় পচে জৈব সার হিসেবে মাটিতে যুক্ত হয় এবং এতে করে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন - Rose Cultivation – বাড়ির টবে গোলাপ চাষ এবং তার পরিচর্যা পদ্ধতি

ফসল সংগ্রহ :

চারা রোপণের ১৫ থেকে ১৬ মাস পর ফসল সংগ্রহ কর সম্ভব। হিমাগারে কয়েকদিন সংরক্ষণ করা যায়।আনারস হেক্টরপ্রতি ১০-১২ মেট্টিক টন, হানিকুইন ২৫-৩০ টন, জায়েন্ট কিউ ৩০-৪০ টন পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে।

হরমোন প্রয়োগে সারা বছর আনারস :

আনারস পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে সারা বছর উৎপাদন করা যায়। হরমোন প্রয়োগের পদ্ধতি হচ্ছে, আনারসের শাকার রোপণের আট-নয় মাস বয়সের ৩০-৩২টি পাতা সম্বলিত গাছে হরমোন প্রয়োগ করতে হয়। গাছপ্রতি ৫০ মিলি ইথ্রেল দ্রবণ প্রয়োগ করতে হবে। ইথ্রেল দ্রবণ তৈরির পদ্ধতি হচ্ছে- এক লিটার পানিতে ৫০০ মিলি ইথ্রেল ভালোভাবে মিশিয়ে প্রতি গাছে ৫০ মিলি করে প্রয়োগ করতে হবে। এভাবে এক লিটার দ্রবণ দিয়ে ৩০ টি গাছে প্রয়োগ করা যাবে। হরমোন প্রয়োগের ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে।

আরও পড়ুন - Tomato Disease Control – জেনে নিন টমেটোর বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার পদ্ধতি সম্পর্কে

Like this article?

Hey! I am স্বপ্নম সেন . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters