Pudina Farming: ছাদ বাগানে পুদিনা পাতার সহজ চাষ পদ্ধতি

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Pudina Farming (image credit- Google)
Pudina Farming (image credit- Google)

পুদিনা পাতা খুবই পরিচিত এক ঔষধি গাছ |খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি পুদিনা পাতার রয়েছে অনেক ভেষজ গুণ। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে পুদিনা পাতা মিশ্রিত জল মুখে নিয়ে কুলি করলে উপকার পাবেন। গরমের সময় খুশকির সমস্যা দূর করতে পুদিনা পাতা চটকে স্নানের জলে মিশিয়ে স্নান করা যেতে পারে | এছাড়া গরমে ত্বকের জ্বালাপোড়া হলেও পুদিনা পাতা এর বিরুদ্ধে ভালো কাজ করে। যাদের হজমে সমস্যা হয় এবং অরুচিতে ভোগেন তারা হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য পুদিনা পাতার ব্যবহার করতে পারেন । আপনার বাড়ির ছাদে (Terrace farming) খুব সহজেই পুদিনা পাতা চাষ (Mint Cultivation) করা যায় | নিজের প্ৰয়োজন ব্যাতিত বাজারে বিক্রি করেও ভালো লাভ পেতে পারেন | কারণ, পুদিনা পাতার বাজার চাহিদা প্রায় সারাবছর তুঙ্গে |

মাটি(Soil):

প্রায় সব মাটিতেই পুদিনা পাতার চাষ (Medicinal Plant farming) করা যায় তবে দো-আঁশ মাটিতে ভাল হয়। বিভিন্ন ধরণের আবহাওয়ায় বিভিন্ন ধরণের পুদিনার সহনশীলতা রয়েছে।

আবহাওয়া(Climate):

সাধারণত আর্দ্র আবহাওয়া ও আর্দ্র মাটিতে ভাল জন্মায়। হালকা শেডের নীচে ভাল হলেও পূর্ণ রোদ্রেও জন্মাতে পারে।

জাত:

 প্রায় ৬৫০ জাতের পুদিনা পাওয়া যায় যাদের অধিকাংশই প্যারিনিয়েল এবং কতিপয় একবর্ষজীবি। বিশ্বব্যাপি পিপারমিন্ট, স্পিয়ারমিন্ট ও আর্বেনেসিস জাতের পুদিনা বেশি দেখা যায়। চাষাবাদের জন্য পুদিনার সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতসমূহ হচ্ছে পিপারমিন্ট, স্পিয়ারমিন্ট ও অ্যাপেলমিন্ট।

আরও পড়ুন -White Pumpkin Farming: বর্ষায় বাড়ির ছাদে সহজে চাষ করুন চাল কুমড়ো

টবের মাটি তৈরী:

টবে পুদিনা পাতা চাষ করলে অন্তত ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি সাইজের মাটির টব নেওয়া উচিত। এছাড়া এর জন্য বেলে দোঁ-আশ মাটি তৈরি সময় টবের মাটির অর্ধেক পরিমাণ জৈব সার অথবা পচা গোবর বা ভার্মি কম্পোস্ট মিশিয়ে মাটি তৈরি করে দিতে হবে। মাটি রোদে দিয়ে কিছুটা শুকিয়ে গেলে এর উপর পুদিনা পাতার কাটিং একটা একটা করে নির্দিষ্ট দূরত্বে লাগিয়ে দিন কাটিং সংগ্রহ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যদি পুরনো ডালে শিকরসহ কাটিং পাওয়া যায় সেটা সবচেয়ে ভালো হয়। কাটিং এ শিকড় গজানোর জন্য চাইলে আপনি রুটিং হরমোন ব্যবহার করতে পারেন।

রুটিং হরমোন:

টবে পুদিনা চাষ পদ্ধতি আরো অনেক সহজ হয়ে যায় যদি আপনি রুটিং হরমোন ব্যবহার করেন। রুটিং হরমোন হিসেবে বাজারে পর রুটিং হরমোন অথবা দারুচিনির গুঁড়া অথবা মধু এগুলোর যে কোন একটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্যবহার করলে পুদিনা পাতার কাটিং থেকে খুব দ্রুতই শেকর গজাবে। আপনি চাইলে ছায়াযুক্ত স্থানে বা ঘরের ভেতর ও টবে পুদিনা চাষ করতে পারেন। পুদিনা গাছের জন্য খুব বেশি আলোর প্রয়োজন হয় না।

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

চাষের সময় মাটির সাথে ১০ থেকে ১৫ টন গোবর বা জৈবসার মিশিয়ে দিতে হয়। এটি চাষের জন্য অন্যান্য সার যেমন ইউরিয়া, পটাশ, টিএসপির প্রয়োজন পড়ে না। হাড়ের গুঁড়া ৫ কেজি, টিএসপি সার ১-১.৫ কেজি, কাঠের ছাই ৫ কেজি অথবা এমওপি সার ১ কেজি। এসব সার বেড তৈরির সময় বেডের মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

রোপন পদ্ধতি:

পুদিনা চাষ ২ ভাবে করা হয়। কাটিং করে এবং শিকড় দিয়ে। কাটিং করে করলে বেশি সাফল্য পাওয়া যায়। ডাল ভেজা বা আদ্র মাটি পুতে রাখলেই এ গাছ জন্মে।কাটিং বা তেউড় লাগিয়ে চারা তৈরি করা হয়। পুরনো ক্ষেত থেকে কাটিং নিয়ে হাপরে বসিয়ে চারা তৈরি করে নিতে হবে। কাটিংয়ের দৈর্ঘ্য হবে ১০ সেন্টিমিটার। জমিতে চারা রোপণের সপ্তাহখানেক আগে চারা তৈরি করতে হবে। বেডে ৩০ সেন্টিমিটার পরপর চারা রোপণ করা যেতে পারে। চারা রোপণের পর সেচ দিতে হবে। প্রতি ২ মাস পরপর প্রতি বর্গমিটারে ২০ গ্রাম করে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি ২ বার কাটার পর একই নিয়মে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার দেওয়ার পর সেচ দিতে হবে। বাণিজ্যিক জমিতে চারা রোপণের ১০-১২ সপ্তাহ পর থেকে প্রতি মাসে ১ বার করে প্রতি বর্গমিটারে ২০ গ্রাম করে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করে যেতে হবে।

ফসল সংগ্রহ:

একবার কয়েকটি গাছ রোপণ করলেই কিছুদিনের মধ্যে তা অনেক গাছে রূপান্তরিত হয়। তখন থেকেই পাতা সংগ্রহ করা যায়। পাতা সংগ্রহের সময় গাছের গোড়া বা শিকড়ের কোনো ক্ষতি না হয়।

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন -Paddy and Fish Farming: বর্ষায় ধানের জমিতেই মৃগেল কাতলার লাভজনক চাষ করুন

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters