Urad Dal Cultivation: শিখে নিন বিউলির ডাল চাষের সম্পূর্ণ পদ্ধতি

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Urad dal (image credit- Google)
Urad dal (image credit- Google)

সাধারণত, আমাদের দেশেই অনেকে নিরামিষ খাবার খান | তারা এই ডাল জাতীয় শস্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল | আর এই বিউলির ডাল বা উড়াদ ডাল প্রচুর পরিমান প্রোটিনের আধার | এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো "Vigna Mungo " |  দক্ষিণ ভারতীয় বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার যেমন ইডলি, ধোসা তৈরিতে এর ব্যবহার অপরিসীম | তাই, এই বিউলির ডালের বাজার চাহিদাও  প্রচুর বেশি | কৃষকরা এই চাষ করে ভালো অর্থ উপার্জনেও সক্ষম | এই ডালের চাষ মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপকভাবে চাষ হয় | তবেদেখে নিন এই বিউলির ডাল চাষের সম্পূর্ণ পদ্ধতি;

জলবায়ু(Climate):

সাধারণত এই ডালের চাষ উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য বিশেষ উপযোগী | বেশিরভাগ কৃষকবন্ধুরা এই ডালের চাষ গ্রীষ্মকালে বা বর্ষাকালে চাষ করে থাকেন | ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এই চাষের জন্য উত্তম | বার্ষিক ৬০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন এই ডাল চাষের জন্য | তবে, অতি ভারী বৃষ্টি ফুলের পক্ষে ক্ষতিকর | সমুদ্র স্তর থেকে ১৮০০ মিটার উঁচুতে বিউলির ডাল চাষ সফলভাবে করা হয়।

মাটি(Soil):

বিউলির ডাল বা উড়াদ ডাল চাষের জন্য বেলে দোআঁশ, দোআঁশ বা ভারী কাদামাটির দোআঁশ মাটি প্রয়োজন। লবনাক্ত, জলাবদ্ধ মাটি ও ক্ষারযুক্ত মাটিতে গাছ জন্মায়না | মাটির প্রাকৃতিক PH প্রয়োজন হয় এর  উচ্চ ফলনের জন্য । মাটির অবশ্যই জল ধারণ ক্ষমতা ভালো হওয়া প্রয়োজন এবং উপযুক্ত সেচ ব্যবস্থাও রাখতে হবে |

জমি তৈরী:

এই ডাল চাষের জন্য সঠিকভাবে  জমি তৈরী খুবই গুরুত্বপূর্ণ | নির্বাচিত জমিতে খারিফ মৌসুমে ১ ২ টি চাষাবাদ করার পর বিউলির ডালের বীজ বপণ করা যেতে পারে | জমিতে বীজ বপণের আগে অবশ্যই অতিরিক্ত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং নুড়ি-পাথর সরিয়ে ফেলতে হবে | বীজ ফেলার আগে জমিতে ৫ থেকে ৬ টন কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করতে হবে | বীজ বপনের আগে যদি প্রয়োজন হয় তবে সেচও দিতে হবে জমিতে |

আরও পড়ুন - Floating Farming Technique: জলা জমিতে ধাপ পদ্ধতিতে চাষের উন্নত উপায়

বীজ শোধন:

বীজ কেনার আগে লক্ষ্য রাখতে হবে, বীজগুলি যেন সতেজ ও পরিষ্কার হয় | প্রথমে এক কেজি  বীজের উপর আড়াই গ্রাম থাইরাম প্রয়োগ করে শোধন করতে হবে । এছাড়াও, এই নির্বাচিত বীজগুলিকে রাইবোজিয়াম এবং নাইট্রোজেন দিয়ে শোধন করে নিতে হবে |

রোপণ পদ্ধতি:

খরিফ মৌসুমে বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হ'ল 15 থেকে 30 জুন।  গ্রীষ্মকালীন এই ফসল লাগানো যেতে পারে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে | বপণ করা বীজের গভীরতা হতে হবে ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার | ভালো করে জমি তৈরী করে নিয়ে নিয়ে বীজ রোপণ করতে হবে |

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

প্রথম সার প্রয়োগ করতে হবে বীজ বপণের ২৫ থেকে ৩৫ দিনের পরে এবং দ্বিতীয় সার ৪০ থেকে ৫০ দিন পরে প্রয়োগ করতে হবে | ৪৪ কেজি ইউরিয়া, ৬৭ কেজি এমওপি , ২৫০ কেজি এসএসপি বীজ বপণের শুরুতে মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে |

আগাছা দমন(Weed management):

বীজ বপনের ৪০ দিনের পরে ক্ষেত থেকে অতিরিক্ত আগাছা দূর করতে হবে। তবেহাত ব্যবহার করে আগাসিয়াহ পরিষ্কার করলে ভালো তবে, প্রয়োজনে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা যেতে পারে | এক হেক্টর জমির জন্য এক কেজি বেসালিন ৮০০-১০০০ লিটার জলে মিশিয়ে জমিতে স্প্রে করতে হবে |

ফসল সংগ্রহ:

 

সঠিক ভাবে চাষে করলে এক হেক্টর জমি থেকে ৪৫০ কেজি ডাল পাওয়া যেতে পারে | বাজারে এই ডালের দামও ভালো, তাই ডাল বিক্রি করে ভালো লাভ পাওয়া যায়

আরও পড়ুন - Agriculture pest management: ক্ষতিকর কীটনাশক নয়, জেনে নিন শাক-সবজির পোকা দূর করার সহজ উপায়

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters