অত্যাবশকীয় পণ্য (Essential Commodities) আইনে সংশোধন আনল মোদী সরকার

KJ Staff
KJ Staff

অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনে খাদ্যশস্য মজুত ও কৃষিপণ্য বিপণন আইনে ফসল বেচার উপরে যে সব বিধিনিষেধ ছিল, সংশোধন এনে, পুরনো আইন বদলে সেই সব বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হল। পাশাপাশি, কৃষকদের প্রক্রিয়াকরণ, বড় খুচরো ব্যবসায়ী, রফতানিকারী হিসেবে ভূমিকা পালনের অনুমতি দেওয়ার জন্য অধ্যাদেশও মন্ত্রিসভা জারি করেছে।

বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা শস্য, ডাল, তেল বীজ, পেঁয়াজ এবং আলুর মতো কৃষিপণ্যকে 'নিয়ন্ত্রণমুক্ত' করার জন্য ১৯৫৫ সালের প্রয়োজনীয় পণ্য আইনে সংশোধনের অনুমোদন দেয়। মন্ত্রিসভা কৃষকপণ্যের ব্যবসাদার, বড় খুচরা ব্যবসায়ী এবং রফতানিকারীদের সাথে জড়িত থাকার অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি অধ্যাদেশও জারি করে।

এই প্রস্তাবগুলি করোনা ভাইরাসের পরে দেশব্যাপী লকডাউন শেষে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ত্রাণ প্যাকেজের ঘোষণা করেছিলেন। এটি তারই অংশ ছিল।

কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং সাড়ে ছয় দশকের পুরনো এই আইনটির সংশোধনীগুলি ঐতিহাসিক হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেন যে, তারা "কৃষিক্ষেত্রে রূপান্তর করার পাশাপাশি ভারতের কৃষকদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে যাবে"। তিনি আরও বলেন, "অত্যাবশকীয় পণ্য আইনে প্রস্তাবিত সংশোধন অতিরিক্ত বেসরকারী বিনিয়োগকারীদের অত্যধিক নিয়ন্ত্রণ এবং হস্তক্ষেপের আশঙ্কা কম করবে।"

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিক্ষেত্রে বাণিজ্য (প্রচার ও সুবিধাদি) অধ্যাদেশ, ২০২০ অনুমোদিত হয়েছে, যাতে কৃষিক্ষেত্রে বাধা-মুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও যোগ করেন, "কৃষকরা কেবল তাদের নিজ নিজ জেলায় বাজার কমিটি মন্ডিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের ফসল বিক্রি করতে বাধ্য থাকবে না।" পাশাপাশি “কৃষক [ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা] মূল্য আশ্বাস এবং কৃষি পরিষেবা অধ্যাদেশ, ২০২০" সংক্রান্ত চুক্তি কৃষকদের কৃষিপণ্যের ব্যবসাদার, বড় খুচরা ব্যবসায়ী, রফতানিকারীদের সাথে কোনও প্রকার শোষণের ভয় ছাড়াই লেনদেন করার সুযোগ তৈরি করে দেবে।"

উপভোক্তা, খাদ্য এবং বণ্টন বিষয়ক মন্ত্রক, অত্যাবশকীয় পণ্য আইনে সংশোধন করার জন্য অধ্যাদেশের একটি খসড়ার  প্রচার আগেই করেছিল।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ ভারতে, বিশেষত শ্রমজীবী ​​কৃষকদের উপর "খুব ইতিবাচক প্রভাব" পড়বে। “কৃষিক্ষেত্র বাণিজ্য ও বাণিজ্য (প্রচার ও সুবিধার্থে) অধ্যাদেশ, ২০২০ ‘এক ভারত, একটি কৃষি বাজার’ তৈরির পথ সুগম করবে। এমন বিধান রয়েছে যা প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে এবং সহজেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধা দেবে। ”

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমন জানিয়েছেন, “আমরা হাতে টাকা পাইয়ে দেওয়ার বদলে ক্ষমতায়নের উপরে জোর দিচ্ছি, যাতে গরিব চাষিরা নিজেদের রোজগার বাড়াতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্র মেনে আত্মনির্ভর হতে পারেন।”

তবে কী থাকছে নতুন সংস্কারে? এক, স্বাধীনতার পরে কালোবাজারি ও বেআইনি মজুত রুখতে যে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন তৈরি হয়েছিল, তা সংশোধন করা হয়েছে। চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, গম, ভোজ্য তেলতৈলবীজ যত ইচ্ছে মজুত করা যাবে। একমাত্র যদি না মহামারি বা জাতীয় দুর্যোগ আসে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা, রফতানিকারী সংস্থাগুলিকে একসঙ্গে অনেক খাদ্যশস্য মজুত করতে হয়। নিয়ন্ত্রণ উঠে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা বাড়বে, আরও লগ্নি আসবে। দুই, রাজ্যে রাজ্যে কৃষিপণ্য বাজার কমিটি আইন মেনে চাষিরা শুধু নির্দিষ্ট মান্ডিতে লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীদের কাছেই ফসল বেচতে পারেন। রাজ্যের আইনের বদলে কেন্দ্র নিজের আইন আনবে। তাতে চাষিরা যেখানে ভাল দাম পাবেন, সেখানেই ফসল বেচতে পারবেন। তিন, বেসরকারি সংস্থাগুলি যাতে চাষিদের ঠকাতে না পারে, তার জন্য আইনি কাঠামো তৈরি হবে।

সুব্রত সরকার

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters