মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে নিরাপত্তার উন্নীতকরণ

Thursday, 14 November 2019 01:00 AM

খনি তে কাজ করা এবং বিমান চালানোর মতোই সমুদ্রে মাছ ধরা একটি অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জীবিকা। “বিশ্ব শ্রমিক সংগঠন” –এর মতে বছরে প্রায় ২৪,০০০ মৎস্যজীবী সমুদ্রে মৎস্য শিকারের সময় মৃত্যুর কবলে পড়েন। এই সংখ্যা মূলত উন্নত বিশ্বের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে ঘটা দুর্ঘটনার রিপোর্ট থেকে হিসাব করা। তবে যেখানে এই ধরণের রিপোর্ট সহজে পাওয়া যায় না, গণনা করলে জানা যাবে, সেখানে এই সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশী, সম্ভবত দুই থেকে তিনগুণ বা তারও বেশী। গত তিন দশক ধরে, ‘বে অফ বেঙ্গল’ প্রোগ্রাম ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার উপর কাজ করে চলেছে। বিশেষত, নিরাপত্তা নির্দেশিকা বানানো, নৌ-যান বানানো, স্বল্প খরচে প্রযুক্তির প্রবর্তন, স্টেক হোল্ডারদের ক্ষমতা নির্মাণ, মৎস্য ব্যবস্থাপকদের উপদেশ প্রদান, সমুদ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা সৃষ্টি, সৌর শক্তির ব্যবহার, ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ, যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সমুদ্রে বেঁচে থাকার পদ্ধতি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচী পরিচালনা করা ইত্যাদির উপর তারা কাজ করছে।

মৎস্যজীবীদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অংশীদারিত্ব সংগঠনের মাধ্যমে সমুদ্রের সুরক্ষায় আঞ্চলিক প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে বিওবিপি সর্বাগ্রে রয়েছে। তাদের প্রচেষ্টার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফলগুলির মধ্যে একটি হল ফাইবার – রিইনফোর্সড প্লাস্টিকের তৈরি লাইফ ফ্লোট। লাইফ জ্যাকেট এবং লাইফ ব্লোট সমুদ্র যাত্রীদের জীবনরক্ষার জন্য বহুল প্রচলিত উপকরণ। এখানকার মতো উষ্ণ আবহাওয়ার দেশে, মৎস্যজীবীরা লাইফ জ্যাকেট পরে মাছ ধরতে অসুবিধা বোধ করে। বিপর্যয়ের সময় সমুদ্রতরঙ্গ প্রবল আকার ধারণ করে মৎস্যজীবীদের একে অপরকে আলাদা করে দেয়, ফলে বিপর্যয়ের কবলে পড়া মৎস্যজীবীদের সমুদ্রের মধ্যে একসঙ্গে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে লাইফ ফ্লোটের অনেকগুলি সুবিধা আছে। মাঝারি আকৃতির একটি লাইফ ফ্লোট ৫-৮ জন মৎস্যজীবীকে একসাথে সমুদ্রে ভাসিয়ে রাখতে পারে। ফলে তারা একত্রে থাকতে পারে। এর মধ্যবর্তী খোলা অংশটি নাইলনের দড়ি দিয়ে বোনা। ফলে কোন মৎস্যজীবী দুর্যোগের কবলে পড়ে আক্রান্ত হলে তাকে উদ্ধার করে এই অংশটিতে শুইয়ে রাখা যেতে পারে। এই ফ্লোটটির আর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, এটি জলে ভাসমান থাকায় বিপদের সময় এর উপর সহজে দাঁড়িয়ে কোন মৎস্যজীবী সংকেত দিয়ে অনুসন্ধানরত দলের বা পাশ দিয়ে যাওয়া জাহাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।

ফ্লোট ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা –

মৎস্যজীবীদের মধ্যে একজন জানান, তিনি প্রায় ৪৫ বছর ধরে সমুদ্রে মাছ ধরছেন এবং এই ফ্লোট ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে তিনি বেঁচে ফিরেছেন। এটি খুবই দরকারি এবং নিরাপদ মৎস্য চাষীদের জন্য। তিনি আরও বলেন যে, তিনি সরকারকে অনুরোধ করছেন, ‘পুদুচেরি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিটি মাছ ধরার নৌকাকে একটি করে লাইফ ফ্লোট প্রদানের জন্য’।

যে সকল মাছ ধরার জাহাজ সমুদ্রের ১৫-২০ নটিক্যাল মাইল দূরে যায় ‘বে অফ বেঙ্গল’ প্রোগ্রামের এই লাইফ ফ্লোটটি তাদের জন্য খুবই উপকারী। কয়েকজনের মতে, এই লাইফ ফ্লোটটির সাথে দুটি দাঁড় বা বৈঠা রাখা যেতে পারে, যাতে মাঝির নৌকা তীরের নিকটবর্তী থাকলে, দাঁড় বেয়ে তীরে পৌছতে পারে।

২০১৭ সালে ভারত মহাসাগরে অক্ষি ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে অনেক মৎস্যজীবী প্রাণ হারান। বিশ্বাস করা হয়, তখন এই লাইফ ফ্লোটটি মাছ ধরার জাহাজগুলিতে থাকলে অনেক মৎস্যজীবীর প্রাণ রক্ষা পেত।

সমুদ্রে নিরাপত্তা মৎস্য ব্যবস্থাপনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে স্বীকৃত। এটি কোন সতন্ত্র প্রয়োজনীয়তার উপকরণ নয়। সকল মৎস্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোক্তাদেরই মৎস্যজীবীদের জাল এবং নৌকার অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকা উচিৎ এবং নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করা উচিৎ। সমুদ্রে নিরাপত্তা যেমন যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন, ব্যক্তিগত ফ্লোটিং ডিভাইস, নৌকার উন্নত নকশা এবং নির্মাণের যথাযথ বিধি, জালের যথাযথ ব্যবহার এবং সমুদ্রের উত্তম আচরনের বিধি – এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি মৎস্য প্রশাসক/ পরিচালকদের তত্তাবধানে থাকা আবশ্যক।

তথ্য সূত্র – ডঃ প্রতাপ কুমার মুখোপাধ্যায় (প্রধান অধ্যাপক, মৎস্য বিভাগ, নেওটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)

স্বপ্নম সেন (swapnam@krishijagran.com)

English Summary: Promoting- Safety -of -fishermen -at -sea


Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

Helo App Krishi Jagran Monsoon 2020 update

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.