Dragon Fruit Farming: ড্রাগন ফল চাষে ব্যাপক লাভ, মাসে লাখ টাকা আয় কৃষকের

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Dragon tree (image credit- Google)
Dragon tree (image credit- Google)

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কৃষক বাহার উদ্দিন শেখ ড্রাগন ফল চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন | শুরুতে অনেকে তার এই সাধের গাছ নিয়ে ব্যাঙ্গ করলেও পরে তারাই অবাক হয়েছে ফলন দেখে | দুই বিঘা জমি দিয়ে চাষ শুরু করলেও এখন ৪ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে খামার পরিচালনা করছেন। তিনি মাসে উপার্জন করছেন প্রায় লাখ টাকা।

কিভাবে তিনি চাষ শুরু করেন(How he started)?

শিক্ষকতা করে কোনোরকম কষ্ট করে সংসার চালাতেন তিনি | ৬-৭ বছর আগে অবসরের পর আয় আরো কমে যায়। তখন কৃষি কাজই পুরোদমে শুরু করেন। ধান, পাট, গম চাষ শুরু করেন। কিন্তু খরচের তুলনায় দাম না পাওয়ায় তিনি হতাশ ছিলেন। এরই মধ্যে তার এক ছেলে তাকে ড্রাগন চাষের কথা জানান।

টেলিভিশনে বিভিন্ন প্রতিবেদন দেখে তিনিও উৎসহিত হন। শুরুতে সামান্য কিছু চাষ করেন। ২০১৭ সালে ২ বিঘা জমির উপর বাণিজ্যিকভাবে ৫৫০টি ড্রাগনের চারা রোপণ করে গড়ে তোলেন ভিয়েতনামি ফল ড্রাগনের এক খামার। ফলন ও উৎপাদন বেশি হওয়ায় পরে জমির পরিমাণ বাড়ান আরো দুই বিঘা। এখন তার ৪ বিঘার বাগানে লাল, সাদা, হলুদ, কালো ও গোলাপি মোট ৫ জাতের ১০০০টি ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে।

আরও পড়ুন -Magur Fish Farming: দেশি মাগুর মাছ চষে বিপুল অর্থ উপার্জন করুন

তার বাগানের ড্রাগন গাছকে ওপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের কিংবা বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দেয়া হয়েছে। ড্রাগনের চারা বা কাটিং রোপণের ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়। তাকে দেখে অনেকেই এগিয়ে আসছেন ড্রাগন চাষে |

ড্রাগন ফল চাষে লাভের পরিমান(Profit):

ড্রাগনের ভালো ফলন পাচ্ছেন তিনি। এখন প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫ মণ করে ড্রাগন ফল বিক্রি করতে পারছেন যা বাজারে পাইকারি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা দরে। এ ছাড়াও এখন প্রতিদিন তার খামার থেকে বিক্রি হচ্ছে ড্রাগ গাছের চারা।

প্রতিটি ড্রগনের চারা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা দরে। এ বছর করোনার মধ্যে ক্রেতাদের চাহিদা প্রচুর বলে জানান। সব মিলিয়ে (ফল এবং কাটিং বা চারা) বছরে ১০-১১ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। এ হিসেবে মাসে প্রায় লাখ টাকার মতো আয়। এমন সফলতা দেখে অনেকেই তার কাছ থেকে চারা কিনছেন, ছোট-বড় খামার করছেন।

চাষাবাদ পদ্ধতি(Farming process):

ড্রাগন ফলের চারা রোপণের জন্য ২০-৩০ দিন আগে প্রতি গর্তে ৪০ কেজি পচা গোবর, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি ১০০ গ্রাম করে এবং জিপসাম, বোরন ও জিংক সালফেট ১০ গ্রাম করে দিয়ে, গর্তের মাটি উপরে-নিচে ভালোভাবে মিশিয়ে রেখে দিতে হবে। ক্যাকটাস গোত্রের গাছ বলে বছরের যে কানো সময়ই ড্রাগন লাগানো যায়। তবে এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে লাগানো ভালো বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশে ১২ থেকে ১৮ মাস পর একটি গাছ ফল ধারণ করে। ড্রাগন ফল চাষে জল খুব কম লাগে। শুকনো মৌসুমে অবশ্যই সেচ ও বর্ষা মৌসুমে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। ড্রাগন ফলের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় খুব একটা চোখে পড়ে না। ফল আসা শুরু হয় জুন মাসে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। পাকা ফল ফ্রিজিং বাদেই ১৫ দিন ভালো থাকে।

প্রথম বছরে খুব বেশি লাভ না পেলেও পরের বছর নিজের উৎপাদিত চারা দিয়ে বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন তিনি। বিঘা জমি থেকে প্রতি বছর খরচ বাদে গড়ে প্রায় -১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাটিং ( চারা) বিক্রি করে আয় হচ্ছে লাখ টাকার বেশি।

 

জন্য তিনি আরো ২০ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি পাবনায় ড্রাগন ফল বিক্রির পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের মাঝে এই ফলের চাষ ছড়িয়ে দিতে চান। এলাকায় ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে দিতে তিনি অন্যদের প্রায় পাঁচ হাজার চারা দিয়েছেন বলে জানান।বাহার উদ্দিনের ড্রাগন চাষের সফলতা দেখে অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন -Pomegranate Farming: বেদনা চাষে লাখ টাকা উপার্জন সফল চাষী মোকাররমের

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters