আদা চাষে লাভ হবে প্রচুর, জেনে নিন চাষ করার আধুনিক পদ্ধতি

Saikat Majumder
Saikat Majumder
আদা
আদা

গৃহস্থের কাছে আদার কদর যে কতখানি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আদা দৈনন্দিন জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু। আমাদের দেশে আদার উৎপাদন চাহিদার তুলনায় খুবই কম। চাহিদা পূরণের জন্য প্রতি বছর বিদেশ থেকে প্রচুর আদা আমদানি করতে হয়। ভেষজ গুণ থাকায় আদা কাঁচা ও শুকনা দুভাবেই ব্যবহার করা যায়। আদার ইংরেজি নাম Zinger এবং বৈজ্ঞানিক নাম Zingiber officinale ।  আসুন জেনে নিই আদা চাষের পদ্ধতি ।

জমি ও মাটি নির্বাচন

আদা চাষ করার জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু পূর্ণ আবহাওয় দরকার। আদা চাষ করার জন্য উঁচু অথবা মাঝারী উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে। জল নিকাশের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু বেলে-দো-আঁশ ও  বেলে মাটি আদা চাষের জন্য উপযোগী ।

বপন পদ্ধতি

সাধারণত বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে আদা চাষ শুরু হয়। এই সময়ে বাজারে বীজ আদা কিনতে পাওয়া যায়। বেলে, বেলে-দোঁয়াশ বা এঁটেল-দোঁয়াশ মাটি আদা চাষের উপযোগী। সারিতে ৫০ সেমি এবং কন্দ থেকে কন্দ ২৫ সেমি দূরত্বে রোপণ করতে হবে ।আদার ফলন ভাল পেতে হলে শেষ চাষের আগে একরে ৪০ : ৬০ : ৫০ অনুপাতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম প্রয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

সার প্রয়োগ

বেশি ফলন পেতে হলে আদার জমিতে প্রচুর পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া একরে ২৫০ কেজি সরিষা খোল প্রয়োগ করতে পারলে আদার ফলন আরও ভাল হয়। আদা লাগানোর এক মাস পর জমিতে ২০ কেজি নাইট্রোজেন প্রয়োগ করতে হবে। আদা চাষের জমিতে আগাছা জন্মাতে দেওয়া চলবে না।

আদার রোগ ও পোকামাকড়

(পিথিয়াম এফানিডারমেটাম  ) নামক ছত্রাকের আক্রমণের কারনে এ রোগ হয়। এ রোগ রাইজমে আক্রমণ করে বলে আদা বড় হতে পারে না ও গাছ দ্রুত মরে যায়।

আরও পড়ুনঃ আমের রাজা আলফানসো,এবার আমেরিকায় আম রপ্তানি করবে ভারত

অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা

আদার গাছ বেড় হতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ সময় লাগে । আদা রোপন করার ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ পর জমির আগাছা  ভালোভাবে নিড়িয়ে নিতে হবে। আদা লাগানোর পর বৃষ্টি হলে সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে বৃষ্টি না হলে ও মাটিতে রসের অভাব থাকলে নালাতে সেচ দিতে হবে এবং ২-৩ ঘন্টা পর নালার অতিরিক্ত জল বের করে দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ (Ginger cultivation) আদা চাষ করে প্রতি বিঘায় মুনাফা অর্জন করুন ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত

আদা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

৭-৮ মাস পরেই আদা তোলা যায় । গাছের পাতা হলুদ রঙের হলে ও গাছের ডাঁটা শুকোতে শুরু করলে আদা তোলা শুরু করতে হবে। আদা তুলে গায়ে লেগে থাকা মাটি পরিষ্কার করে নিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। অনেক সময় প্রথম বছর আদা না তুলে দ্বিতীয় বছরে তোলা হয়। এতে ফসল বৃদ্ধি হয় বলে জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

Like this article?

Hey! I am Saikat Majumder. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters