Oilseed Farming Importance: ধান জমিতে তৈলবীজ চাষে বিপুল আয়ের সম্ভাবনা

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Oilseed farming (image credit- Google)
Oilseed farming (image credit- Google)

তৈলবীজ চাষের (oilseed farming) গুরুত্ব নিতান্তই অপরিসীম | সাধারণত, ধান চাষের পর অনেক জমি খালি পরে থাকে | সেইসব পতিত জমিতে তৈলবীজ চাষ করে আর্থিক উন্নতি ঘটানো সম্ভব | এ রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও  মেদিনীপুর জেলাগুলিতে আমন ধানের চাষের পর ডালশস্য বা তৈলবীজের চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সময় এই চাষ করে এলাকার কৃষকরা মোটা টাকা মুনাফা করতে পারবেন। এই চাষকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। এর ফলে বছরের বেশ কয়েকটা মাস চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত থেকে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বদল ঘটতে পারে।

তথ্য বলছে, এ রাজ্যে আমন ধানের চাষের পর প্রায় ১১ লক্ষ হেক্টর জমি অনাবাদী অবস্থায় পড়ে থাকে। খাদ্য,  শক্তি, কর্মবিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তৈলবীজ চাষের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষি অর্থনীতিতে দানা শস্যের পরই বলা যায় তৈলবীজের স্থান। শরীরের প্রয়োজনীয় ফ্যাট এই তেল থেকে পাওয়া যায়। এই রাজ্যে প্রায় ন’ধরনের তৈলবীজের চাষ করা যায়। সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখী, সয়াবিন, নাইজার, তিসি ও রেড়ি। এই নিবন্ধে এই তৈলবীজ চাষ (Oilseed cultivation) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো,

আরও পড়ুন -Pokkali Rice Farming: বিশ্বের প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম ধান হলো পোক্কালি

সূর্যমুখী(Sunflower):

সব ধরনের মাটিতে সূর্যমুখী চাষ করা সম্ভব। তবে জল নিকাশি ব্যবস্থা থাকা দরকার। মাটির পিএইচ ৬-৬.৫ হলে ভাল। তবে সূর্যমুখী লবণাক্ত মাটিতেও ভাল হয়। জনপ্রিয় হাইব্রিড জাতগুলি হল পিএসি-৩৬ ও সূর্য-৫১। একর প্রতি ২ কেজি বা বিঘা প্রতি ৬৫০ গ্রাম হাইব্রিড বীজের প্রয়োজন।

সরষে(Mustard):

মূলত ৩ প্রকার সরষের চাষ হয়। টোরি, শ্বেতসরিষা ও রাই। টোরি চাষের ক্ষেত্রে উন্নত জাতগুলি হল অগ্রনী (বি—৫৪), পাঞ্চালী। এই চাষের ক্ষেত্রে বেলে দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি প্রয়োজন। যেসব জমি জল নিকাশের সুবিধাযুক্ত সেখানে এই চাষ ভালভাবে করা সম্ভব। আশ্বিন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কার্তিকের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বীজ বোনা যায়। একর প্রতি ২.৫ থেকে ৩ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। আর শ্বেত সরিষাতে উন্নত জাত হল বিনয় (বি—৯), সুবিনয় ও ঝুমকা। টোরি চাষের মতো বেলে দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি এই চাষের ক্ষেত্রে সহায়ক। তবে শ্বেত সরিষার বীজ কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে বুনে ফেলা উচিত। রাই-র উন্নত জাত হল সীতা (বি—৮৫), বরুনা, সরমা ও ভাগীরথী। এই চাষও দোআঁশ মাটিতে সম্ভব। কার্তিকের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে বীজ রোপন করা উচিত। শ্বেত ও রাই সরষেতেও টোরির মতোই একর প্রতি ২.৫ থেকে ৩ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

তিল(Sesame):

উন্নত জাত হল তিলোত্তমা, কৃষ্ণা ও রমা। জল নিকাশের সুবিধাযুক্ত, দোআঁশ মাটি প্রয়োজন। ১ একর প্রতি ২.৫ থেকে ৩ কেজি বীজের প্রয়োজন।

চিনাবাদাম(Ground nut):

 

এই চাষে উন্নত জাত হল জেএল-২৪ জে-১৮। দোআঁশ মাটি এই চাষের ক্ষেত্রে উপযুক্ত। এই চাষে খোসা ছাড়ানো বাদাম একর প্রতি ২৫ থেকে ৩৫ কেজি লাগবে। এমএইচ- উন্নত জাতটির জন্য ৫০ কেজি খোসা ছাড়ানো বাদামের প্রয়োজন।

আরও পড়ুন -Papaya Farming Method: জেনে নিন পেঁপের সহজ চাষাবাদ পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters