Agri Machine: কৃষিক্ষেত্রে নয়া প্রযুক্তি, জমির মান নির্ধারণে DGPS প্রযুক্তির ব্যবহার

KJ Staff
KJ Staff
DGPS technology (Image Credit - Google)
DGPS technology (Image Credit - Google)

কৃষকবন্ধুদের সুবিধার্থে ক্রমে উন্নত প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন হয়ে আসছে | এবার, খোদ খড়গপুর আইআইটি (IIT-KGP) কৃষিক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছে | জমির মান নির্ধারণ করবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্র। বর্তমান যুগে জিপিএস (GPS) বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম অত্যন্ত প্রচলিত ও জনপ্রিয় এক প্রযুক্তি |

বিভিন্ন সময়ে ম্যাপে কোনও অবস্থান জানার জন্য বা কোনও গন্তব্যে সহজে পৌঁছানোর জন্য জিপিএস ব্যবহার এখন অতি প্রচলিত। আর এই জিপিএসের আরও অত্যাধুনিক রূপান্তর হল ডিজিপিএস (DGPS )বা ডিফারেন্সিয়াল গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম। এই প্রযুক্তি (Agricultural technique) ব্যবহার করে খড়গপুর আইআইটির অধিকর্তা অধ্যাপক বীরেন্দ্র কুমার তেওয়ারি ও অধ্যাপিকা স্নেহা ঝা এক বিশেষ অত্যাধুনিক যন্ত্র তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে অতি সহজেই যে কোনও স্থানের মাটির ধরণ ও চরিত্র সহজেই নির্ধারণ করা যাবে। মাটির প্রকৃতি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট মানচিত্র আরও সহজ হয়ে উঠবে |

যন্ত্রের ব্যবহার (Uses):

কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, এই যন্ত্রের সাহায্যে আরও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাটির ব্যবহার সম্ভব।

১) কোন জমিতে নাইট্রোজেন, পটাশ ও ফসফেটের মাত্রা কত

২) কোন জমিতে কী ধরনের খনিজ পদার্থ রয়েছে এবং তার পরিমান

৩) জমিতে  ঠিক কী ধরনের কীটনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহার করতে হবে

৪) জমি অনুযায়ী জল কতটুকু লাগবে

এই সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের হদিশ দেবে খড়গপুর আইআইটি-র অধ্যাপকদ্বয়ের তৈরি এই অত্যাধুনিক যন্ত্র।

নমুনা পরীক্ষা (Examine process):

সাধারণত, প্রচলিত পদ্ধতিতে কৃষকরা নিজেদের জমির মাটির নমুনা নিকটবর্তী মাটি পরীক্ষাগারে নিয়ে যান। সেই পরীক্ষার ফলাফল জানতেও সময় লেগে যায় বেশ কিছুদিন। পাশাপাশি সেই ফলাফলের ভিত্তিতে মানচিত্র তৈরি করা আরও কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ফলত, চাষের কাজে যেমন দেরি হয় তেমনি কৃসকদের সমস্যার মুখে পড়তে হয় |

কিন্তু এই যন্ত্র মাটির নমুনা পরীক্ষা করে দ্রুত | এবং সঠিক সময় তথ্য দিয়ে মানচিত্র তৈরি করে দিতে পারবে। জমির মাটির চরিত্র সঠিকভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। তাই, কৃষকরা খুব সহজেই চাষের কাজ শুরু করে দিতে পারবে নির্ভুল উপায়ে |

যন্ত্রের উদ্ভাবকের মতামত:

এই অত্যাধুনিক আবিষ্কারের ব্যাপারে খড়গপুর আইআইটির অধিকর্তা অধ্যাপক তথা যন্ত্রের উদ্ভাবক বীরেন্দ্র কুমার তিওয়ারি বলেছেন, তারা প্রথমে ১ হেক্টর জমিকে পুষ্টিগত মূল্যের বিচারে ৩৬টি গ্ৰিডে ভাগ করেছিলেন | তারপর সার প্রদানকারী যন্ত্রাংশের সাথে ডিজিপিএস মডিউল এবং জিইউআই সংযুক্ত মাইক্রো প্রসেসর ও মাইক্রো কন্ট্রোলারের মাধ্যমে কোন গ্ৰিডে কতটুকু সার লাগবে, সেটি সহজেই নির্ণয় করতে তারা সক্ষম হয়েছিলেন |

আরও পড়ুন - Tuberose Cultivation: রজনীগন্ধা চাষের খরচ কমাতে ও ফলন বৃদ্ধিতে পলিথিন ব্যবহার করুন

সাধারণভাবে ট্রাক্টরের সঙ্গে  এটি সংযুক্ত থাকবে। উদ্ভাবকদের মতে তাঁদের তৈরি যন্ত্র জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেবে। আর রাসায়নিক সার ব্যবহার যত কমানো সম্ভব হবে জমি বন্ধ্যা হওয়ার আশঙ্কাও তত কমবে। ফলে একদিকে জমির উর্বরতা যেমন বাড়ানো যাবে, অপরদিকে জমি ব্যবহারের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের আগ্ৰহ বৃদ্ধি পাবে। জমিতে জৈব সারের ব্যবহারের চাহিদা বাড়বে, ফসলের গুণগতমান তেমনি বৃদ্ধি পাবে |

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন - মাহিন্দ্রা ফিন্যান্স: সহজ ট্রাক্টর লোণ এবং কৃষি সরঞ্জাম লোণ, জানুন সম্পূর্ণ বিবরণ

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters