Arabian jasmine Farming Process: বেল ফুল চাষ করে কি আদৌ প্রচুর লাভ সম্ভব? জেনে নিন

কৌস্তভ গাঙ্গুলী
কৌস্তভ গাঙ্গুলী
Arabian Jasmine Farming Process
Arabian Jasmine Farming Process

অত্যন্ত সুন্দর গন্ধের ফুল এই বেলফুল। পূজাপার্বণ বা বৈবাহিক অনুষ্ঠান সবখানেই এই ফুলের ভীষণ ভাবে ব্যবহারের চল আছে। বেলফুলের নির্যাস দিয়ে বিভিন্ন প্রসাধনী দ্রব্যও তৈরী হয়। সারা বছর এই ফুলের চাহিদা বাজারে থাকায়, অত্যন্ত বেশি হারে এই ফুলের চাষ বর্তমানে বাংলায় হচ্ছে। চাষিরাও এই ফুল চাষ করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক সহজ উপায়ে বেল ফুল চাষের পদ্ধতি।

মাটি(Soil)

বেল ফুল বেলে মাটি ও ভারি এঁটেল মাটি ছাড়া সবধরনের মাটিতে চাষ করা যায়। জমিতে জল সেচ ও জল নিকাশের ব্যবস্থা থাকা উচিত। জমি ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরা ও সমান করতে হবে। জমি তৈরির সময় জৈব সার, ইউরিয়া, ফসফেট এবং এমপি প্রয়োগ করতে হবে। বেল ফুলের গাছ রোপন করতে হবে প্রায় ১ মিটার অন্তর। চারা লাগানোর পর ইউরিয়া প্রয়োগ করে সেচ দিতে হবে।

কলম বা চারা

বেল ফুল গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। গ্রীষ্মের শেষ থেকে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেল ফুলের কলম বা চারা তৈরি করা যায়। চারা লাগানোর জন্য গর্ত খুঁড়ে গর্তের মাটির রোদ খাইয়ে, জৈব সার ও কাঠের ছাই গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। এরপর প্রতি গর্তে বেলির কলম বসাতে হবে। বর্ষায় বা বর্ষার শেষের দিকে কলম বসানোই ভালো। তবে সেচের ব্যবস্থা ভালো হলে বসন্তকালেও কলম তৈরি করা যায়।

টব

জৈব পদার্থযুক্ত দো-আঁশ মাটিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার পরিমাণমতো মিশিয়ে টবে বেল ফুলের চাষ করা যায়। টব ঘরের বারান্দা বা ঘরের ছাদে রেখে দেওয়া যায়।

সেচ(Irrigation)

বেল ফুলের জমিতে সবসময় রস থাকা দরকার। গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পরপর শীতকালে ১৫-২০ দিন পরপর ও বর্ষাকালে বৃষ্টি সময়মতো না হলে জমির অবস্থা বুঝে ২-১ টি সেচ দেওয়া দরকার।

আরও পড়ুন: Bean Farming: শিখে নিন শিম বা বিন চাষের কৌশল

আগাছা(Weed Managment)

জমি বা টব থেকে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। খড় কেটে কুচি করে জমিতে বিছিয়ে রাখলে সেচের প্রয়োজন কম হয় এবং আগাছাও বেশি জন্মাতে পারে না।

ছাঁটাই

প্রতিবছরই বেল ফুলের গাছের ডাল-পালা ছাঁটাই করা দরকার। শীতের মাঝামাঝি সময় ডাল ছাঁটাই করতে হবে। মাটির ওপরের স্তর থেকে ৩০ সেমি উপরে বেল ফুলের গাছ

রোগ-বালাই প্রতিকার (Disease Managment) 

বেল ফুল গাছে ক্ষতিকারক কীট তেমন দেখা যায় না। তবে পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। এদের আক্রমণে পাতায় সাদা আস্তরণ পড়ে। আক্রান্ত পাতাগুলো কুঁকড়ে যায় ও গোল হয়ে পাকিয়ে যায়। গন্ধক গুঁড়া বা গন্ধকঘটিত মাকড়নাশক ওষুধ যেমন সালট্যাফ, কেলথেন ইত্যাদি পাতায় ছিটিয়ে মাকড় দমন করা যায়। বেলি ফুলের পাতায় হলদে বর্ণের ছিটেছিটে দাগযুক্ত একপ্রকার ছত্রাক রোগ দেখা যায়। এগ্রোসান বা ট্রেসেল-২ প্রয়োগ করে এ রোগ দমন করা যায়।

ফলন

ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গাছে ফুল ফোটে। ফলন প্রতিবছর বাড়ে। লতানো বেল ফুলে ফলন আরও বেশি হয়। সাধারণত ৫-৬ বছর পর গাছ কেটে ফেলে নতুন চারা লাগানো হয়।

বেল ফুল চাষ করে বহু চাষি উপকৃত হচ্ছেন। লক্ষ্মীর ভাঁড়ার উপচে পড়ছে তাঁদের ঘরে। বহু নতুন কৃষকও বেল ফুল চাষে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত পেয়ে এই চাষে নেমেছেন।  অতএব বলাই যায়, এই চাষ করে নির্ভয়ে যে কোনও চাষি লাভের মুখ দেখতে পারবেন। 

আরও পড়ুন: Profitable Farming - রয়্যাল এমপ্রেস বৃক্ষ চাষে আয় লক্ষাধিক, জেনে নিন চাষের পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am কৌস্তভ গাঙ্গুলী. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters