(Green chilli farming) অর্থকরী ফসল মরিচের উন্নত প্রজাতির চাষ ও বীজ বপন পদ্ধতি

Friday, 21 August 2020 02:29 PM
Chilli farming

Chilli farming

চিরাচরিত ধান, গম, আলু, এসব চাষের বাইরে যদি কোনও কিছু চাষের কথা পরিকল্পনা করছেন কৃষকেরা, তাহলে মরিচ/লংকা চাষ (Chilli Cultivation) তাদের জন্য লাভজনক হতে পারে৷ এটি একটি অর্থকরী ফসল৷ এর চাষে কৃষকেরা উপার্জনের পাশাপাশি প্রচুর লাভও করতে পারেন৷ লংকাতে ভিটামিন এ, সি ছাড়াও আরও বহু ধরণের উপাদান বিদ্যমান যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়৷ তাই রান্নাতে, মশলা বা আচার তৈরিতে লঙ্কা ছাড়া অনেকে ভাবতেই পারেন না৷

যদি উন্নত মানের লঙ্কা চাষ করা হয়, তাহলে তার প্রভাব ফলনে পড়বে৷ সঠিকভাবে চাষ করতে পারলে লাভ নিশ্চিত৷ অর্থাৎ, উন্নত মানের লঙ্কার পাশাপাশি জলবায়ু, মাটি, সার, পরিচর্যা সবকিছু সঠিক হতে হবে, তবেই এই চাষে কৃষক লাভের মুখ দেখবেন।

জেনে নিন লংকা চাষের জন্য আদর্শ জলবায়ু, মাটি, প্রজাতি, বীজ বপন ও অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত-

জলবায়ু:

লংকা সাধারণত উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু পছন্দ করে, যদিও ফল পাকার সময় শুষ্ক আবহাওয়াই আদর্শ। ৭৫-১০০ সেমি বার্ষিক বৃষ্টিপাত আদর্শ, যদিও বৃদ্ধির সময় অতিরিক্তি বৃষ্টিপাত পাতাঝরা এবং গাছ পচার মত বিপদ ডেকে আনে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০-৩০ ডিগ্রি সে: ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সে: হওয়া বাঞ্ছনীয়। গ্রীষ্মকালে অধিক তাপমাত্রায় ফুল-ফল ঝরে যায়।

মাটি:

নিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত বেলে-দোঁয়াশ মাটি লংকা চাষের জন্য উপযুক্ত। মাটিতে অক্সিজেনের অভাব গাছের বৃদ্ধির জন্য হানিকারক। মাটির অম্লতা ৫.৫- ৬.৮ হওয়া বাঞ্চনীয়। লংকা আম্লিক মাটির প্রতি সংবেদনশীল।

রপ্তানিযোগ্য জাত:

কাশি আর্লি, সি.এইচ-১, সি.এইচ-৩, অর্ক মেঘনা, অর্ক শ্বেতা, অর্ক হরিতা, কাশি অনমল, পুসা সদাবাহার, পাঞ্জাব লাল, অর্ক লোহিত, আজাদ মির্চ-১, ভাগ্যলক্ষ্মী, ফুলে সূর্যমুখী, ভাস্কর।

Green chilli

Green chilli

বীজতলা তৈরী:

বীজতলার মাটিকে বারবার কুপিয়ে ঝুরঝুরে করে বীজতলাটি জমি থেকে ১৫সেমি উঁচুতে এবং এক মিটার চওড়া করে বানানো উচিত। ভালোভাবে পচানো গোবর সার বা কম্পোস্ট সার প্রতি বর্গমিটারে ৩-৪ কেজি হিসাবে প্রয়োগ করে মাটিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ৪.০% ফরমালডিহাইড বা ২-৩ গ্রাম ক্যাপটান প্রতি লিটার জলে গুলে বীজতলা শোধন করে, ৭-১০ দিনের জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত।

বীজের হার:

এক হেক্টর জমি চাষের জন্য সাধারণ জাতের ক্ষেত্রে ৫০০-৬০০ গ্রাম এবং হাইব্রিডের ক্ষেত্রে ২৫০-৩০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন।

বীজ শোধন:

বীজ বপনের পূর্বে বীজকে ক্যাপটান বা থাইরাম প্রতি কেজি বীজে ২-৩ গ্রাম মিশিয়ে শোধন করা প্রয়োজন।

বীজ বপন:

বীজকে মাটির নীচে ৫ সেমি গভীরে লাইন করে রোপন করে তার উপর পাতাপচা সারের স্তর বিছিয়ে বীজতলা শুকনো খড় বা লম্বা ঘাস দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। প্রতিকূল আবহাওয়া যেমন প্রখর রৌদ্র ও অতি বৃষ্টিতে বীজতলাটি দু-পাশ খোলা পলিটানেলের মধ্যে করা উচিত। চারাগুলো যেন পর্যাপ্ত অথচ সরাসরি তীব্র সূর্যালোক না পায় তার জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বীজতলার চারা বেরোনোর ১০-১২ দিনের মাথায় চারা ঘন হলে তাকে পাতলা করতে হবে। প্রয়োজনমত প্রতিদিন বীজতলায় জল দিতে হবে। চারাকে শক্তপোক্ত করার জন্য জমিতে চারা রোপনের ৪-৬ দিন আগে বীজতলায় জল দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ৩৫-৪০ দিন বয়সি পুষ্ট ও নীরোগ চারা মূল জমিতে রোপনের উপযোগী। বীজতলার মাটি ভালোভাবে ভিজিয়ে চারা তোলা উচিত যাতে শিকড়ের কোন ক্ষতি না হয়।

বীজ বপনের সময়:

১) মে- জুলাই: শরৎ ও শীতকালীন ফসলের জন্য

২) সেপ্টেম্বর- অক্টোবর: শীত ও প্রাক গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য।

৩) জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি: গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন ফসলের জন্য

৪) ফেব্রুয়ারি- এপ্রিল: পার্বত্য অঞ্চলের জন্য

 

ড. শুভ্রমাল্য দত্ত (বরিষ্ঠ গবেষক, সবজি বিজ্ঞান বিভাগ, উদ্যানবিদ্যা অনুষদ, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)

Image source - Google

Related link - (Dragon fruit cultivation) সর্বরোগহারা ফল -ড্রাগন ফল, লাভজনক ড্রাগন ফল চাষের সম্পূর্ণ তথ্য

(Chrysanthemum flower cultivation) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাষ করে উপার্জন করুন অধিক অর্থ

English Summary: Earn more by farming green chilli in this method

আপনার সমর্থন প্রদর্শন করুন

প্রিয় অনুগ্রাহক, আমাদের পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকরা আমাদের কৃষি সাংবাদিকতা অগ্রগমনের অনুপ্রেরণা। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে কৃষক এবং অন্যান্য সকলের কাছে মানসম্পন্ন কৃষি সংবাদ বিতরণের জন্যে আমাদের আপনার সমর্থন দরকার। আপনার প্রতিটি অবদান আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান।

এখনই অবদান রাখুন (Contribute Now)

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.