জানুন বিদেশী ফল কিউয়ি এর চাষ কৌশল

Friday, 09 April 2021 11:18 AM
Kiwi tree (Image Credit - Google)

Kiwi tree (Image Credit - Google)

কিউয়ি (Kiwi Fruit) একটি লতানো জাতীয় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যার বৈজ্ঞানিক নাম Actinidia deliciosa  । কিউয়ি নিউজিল্যান্ডের ফল হিসেবে পরিচিত হলেও এর আদি নিবাস চীনের দক্ষিণাংশে। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে মিশনারিদের মাধ্যমে কিউয়ি চীন থেকে নিউজিল্যান্ডে আসে এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে ইটালি, গ্রিস ও ফ্রান্সে। ১৯০৬ সাল থেকে কিউয়ি বহির্বিশ্বে পরিচিতি লাভ শুরু করলেও বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ করা শুরু হয় ১৯৩৭ সালে। নিউজিল্যান্ড ছাড়াও চিলি, তুর্কি, ইরান, জাপান, আমেরিকা,দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ায় কিউয়ি ফল বানিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।

বর্তমানে ভারতে দিন দিন কিউয়ি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ফলে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে যেমন- হিমাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর,সিকিম,মেঘালয়, অরুনাচল প্রদেশে, নীলগিরি ও ত্রিপুরায় বানিজ্যিকভাবে কিউয়ি ফল উৎপাদন করা হচ্ছে।

জাতঃ

এখনও কিউয়ি ফলের কোন জাত আবিষ্কৃত হয় নাই। তবে বিশ্ব ব্যাপী এই ফলের অনেক জাত আসে। তাদের মধ্যে কয়েকটি জাত হলো- ফুজি কিউয়ি ফল,গোল্ডেন কিউয়ি ফল, বেবি কিউয়ি ফল, আর্কটিক কিউয়ি ফল, রেড কিউয়ি ফল, সিলভার ভাইন, পার্পল কিউয়ি ফল এবং চাইনিজ গুজবেরী। এছাড়াও ভারতীয় কিছু জাত রয়েছে, যথা- অ্যাবোট, ব্রুনো, হেওয়ার্ড, অ্যালিসন, মন্টি ইত্যাদি।

উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া (Climate) -

জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ ও সুনিষ্কাশিত বেলে দোআঁশ মাটি কিউয়ি চাষের জন্য উপযোগী। মাটির উপযোগী PH অবশ্যই ৬.৫ -৭.০ হতে হবে।

উষ্ম ও আর্দ্র আবহাওয়া কিউয়ি চাষের জন্য উপযোগী। এই ফল সমুদ্রতল থেকে ৮০০-১৫০০ মিটার উঁচু জমিতে ভাল জন্মে। গাছ বড় হওয়া থেকে গাছে ফুল আসা অব্দি বার্ষিক ১৫০-২০০ সেমি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। গাছে ফুল থাকা অবস্থায় ঝড়হাওয়া ও তুষারপাত মারাক্তকভাবে গাছের ক্ষতি করে। প্রখর সূর্যতাপ ফল ধারনে ব্যাঘাত ঘটায়। ভালো ফলনের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ৩০-৩৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড।

জমি তৈরিঃ

জমি ৪-৫ টা চাষ দিয়ে মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। জমি ভালোভাবে আগাছামুক্ত করে নিতে হবে। জমি শেষ চাষের সময় জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর গর্ত তৈরি করে নিতে হবে

রোপণের সময়ঃ

শীতের শেষ থেকে বসন্তের শুরু পর্যন্ত গাছ লাগানো যায় অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থাকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত।

বংশবিস্তারঃ

বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা যায়। এছাড়া কাটিং ও গ্রাফটিং এর মাধ্যমেও সফলভাবে বংশবিস্তার করা যায়। টি বার ও পারগোলা ট্রিনিং সিস্টেমে কিউয়ি বাগান করা হয়।

চারা রোপণঃ

গাছ সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়। কিউয়ি চারা রোপণের জন্য গাছ থাকে গাছের দূরত্ব হবে ৫-৬ সেমি এবং সারি থাকে সারির দূরত্ব ৪ মিটার। প্রথমে নার্সারি বেডে চারা লাগানোর হয় । পরে ট্রান্সপ্লান্টিং করা হয়। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ভিন্ন ভিন্ন গাছে হয়। ১ টি পুরুষ গাছ দ্বারা ৯ টি স্ত্রী গাছের সফলভাবে পরাগায়ন সম্ভব। পতঙ্গ দ্বারাও পরাগায়ন হয়ে থাকে।

সেচ ও সার ব্যবস্থাপনাঃ

গাছের বয়স ২-৩ বছরের মধ্যে প্রয়োজনমতো সঠিকভাবে পানি দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০-১২ দিন অন্তর অন্তর গাছে পানি দিতে হবে।

বেসাল ডোজ হিসেবে ২৫ কেজি গোবর সার দিতে হবে। গাছের বয়স ১-৫ বছরের মধ্যে  প্রতি গাছে ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম, টিএসপি ৩৫০ গ্রাম এবং এমওপি ৫০০ গ্রাম দিতে হবে। গাছের বয়স ৫ বছরের পরে প্রতি গাছে ইউরিয়া ৯০০ গ্রাম, টিএসপি ৬০০ গ্রাম এবং এমওপি ৯০০ গ্রাম করে প্রয়োগ করতে হবে।

অন্যান্য পরিচর্যাঃ

আগাছা দমনঃ ভালো ফলন পাওয়ার জন্য নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে। মালচিং করতে হবে। অতিরিক্ত আগাছা হলে প্রয়োজনে আগাছানাশক ব্যবহার করতে হবে।

প্রুনিং - গাছের পর্যাপ্ত বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রুনিং  করতে হবে।

সাথী ফসল চাষঃ কিউয়ি চাষের জমি বা বাগান থাকে বাড়তি আয়ের জন্য কৃষক কিউয়ি গাছে ফল ধরার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ গাছের বয়স ৪-৫ বছরের মধ্যে সাথী ফসল লাগাতে পারবেন। সবজি ও লিগিউম জাতীয় ফসল চাষ করা যাবে।

পোকামাকড় ও রোগ বালাইঃ

কিউয়ি গাছে কিছু পোকার উপদ্রপ দেখা যায়। যেমন-লিফ রোলার ক্যাটারপিলার, বক্স এল্ডার বাগ, রুট নোড নেমাটোড ইত্যাদি। কিছু রোগের আক্রমনও দেখা যায়। যেমন- আর্মিলারিয়া রুট রট, ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট,ক্রাউন রট, ক্রাউন গোল, ক্যাঙ্কার ইত্যাদি। ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে উল্লিখিত রোগ বালাই ও পোকা-মাকড় দমন করা যায়।

ফলনঃ

 আন্তঃপরিচর্যার উপর কোন গাছের বা বাগানের ফলন নির্ভর করে থাকে। প্রতিটি ভাইন  থেকে গড়ে ৫০-১০০ কেজি  এবং ৭ বছরের বয়সের গাছ থাকে ২৫ টন/হেক্টর ফলন পাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন - পলি হাউসে জারবেরা ফুল চাষ করে আয় করুন অতিরিক্ত অর্থ

ফসল সংগ্রহঃ

কিউয়ি গাছে সাধারণত ৪-৫ বছর বয়সে ফল আসতে শুরু করে। ফলের পরিপক্বতা তাপমাত্রার তারতম্যের উপর নির্ভর করে থাকে। ৭-৮ বছর বয়সের গাছ থাকে বানিজ্যিকভাবে ফল উৎপাদন করা যায়।  প্রতিটি ফলের ওজন ৪০-৭০ গ্রাম হয়ে থাকে। ফলের ভিতরে ছোট ছোট কালো বীজ থাকে। গাছ থাকে ফল সংগ্রহের পর ফলের গায়ের শক্ত চুলের মতো অংশগুলো মুছে ফেলার জন্য মোটা কাপড় দিয়ে ফলগুলো ঘষে নিতে হবে।

আরও পড়ুন - গোলাপ চাষে এই মাসে কৃষকদের বিশেষ কী কী যত্ন নিতে হবে

English Summary: Learn the cultivation techniques of exotic fruit kiwi

আপনার সমর্থন প্রদর্শন করুন

প্রিয় অনুগ্রাহক, আমাদের পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকরা আমাদের কৃষি সাংবাদিকতা অগ্রগমনের অনুপ্রেরণা। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে কৃষক এবং অন্যান্য সকলের কাছে মানসম্পন্ন কৃষি সংবাদ বিতরণের জন্যে আমাদের আপনার সমর্থন দরকার। আপনার প্রতিটি অবদান আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান।

এখনই অবদান রাখুন (Contribute Now)

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.