Saffron Farming: জেনে নিন "লাল সোনা বা জাফরান" চাষের দুর্দান্ত পদ্ধতি

KJ Staff
KJ Staff
Saffron Farming (image credit- Google)
Saffron Farming (image credit- Google)

জাফরান পৃথিবীর অন্যতম দামী মসলা, যা রেড গোল্ড (Red Gold) নামেও পরিচিত। প্রাচীন যুগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাফরানের সুগন্ধ ও উজ্জ্বল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে এ জাফরান ব্যবহার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মধ্যে ব্যাপক প্রচলন ছিল। এ ফসলের আদিস্থান গ্রীস। ভারতের কোন কোন অংশে বিশেষ করে কাশ্মীরে এ ফসলের চাষ অনেক বেশি। জাফরানের ইংরেজি নাম সাফরন (saffron) |

ফুটন্ত ফুলের গর্ভদন্ড (স্টিগমা) সংগ্রহ করে তা থেকে জাফরান প্রাপ্তি একটা ব্যয় বহুল ও প্রচুর শ্রম নির্ভর কাজ। একই কারণে এ দামী মসলা চাষে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রথম বছর রোপণকৃত সব গাছে ফুল আসেনা, তবে এ সময় প্রায় শতকরা ৪০-৬০ ভাগ গাছে ফুল আসতে পারে। ১ গ্রাম জাফরান পেতে  প্রায় ১৫০ টা ফুটন্ত ফুলের প্রয়োজন হয়। পরের বছর একেক গাছ থেকে প্রায় ২-৩ টা করে ফুল দেয়। তবে তৃতীয় বছর থেকে প্রতি বছরে জাফরান গাছ ৫-৭ টা করে ফুল দিতে সক্ষম। তবে জেনে নিন, এই দামি ফসলের চাষ (Saffron cultivation) পদ্ধতি;

জমি নির্বাচন (Land selection):

প্রায় সব ধরনের জমিতে জাফরান চাষ করা যায়। তবে বেলে-দোঁআশ মাটি এ ফসল চাষে বেশি উপযোগী। এঁটেল মাটিতে জাফরানের ফলন ভালো হয় না, তবে এ ধরনের মাটিতে কিছু পরিমাণ বালি ও বেশি পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে এ মাটিকে চাষ উপযোগী করা যায়। এই ফসল জলাবদ্ধতা একেবারে সহ্য করতে পারে না। এ জন্য জল নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু বা মাঝারী উঁচু জমি এ ফসল চাষের জন্য প্রয়োজন। মাটির পি এইচ ৬-৮ হলে বেশি ভালো হয়। ছায়া বা আধা ছায়ায় এ ফসল ভালো হয় না। পর্যাপ্ত রোদ ও আলো-বাতাস প্রাপ্তি সুবিধা আছে এমন স্থানে এ ফসল আবাদ ব্যবস্থা নিতে হবে |

বীজতলা তৈরী (Seed bed):                                                                  

পরিবারিক প্রয়োজন মেটাতে সাধারণত বাগানের বর্ডার এলাকাতে এ ফসল চাষ প্রচলন আছে। অনেকে ছাদে, পটে বা ছোট ‘বেড’ তৈরী করে নিয়েও সেখানে সীমিত আকারে জাফরান চাষ করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে থাকে। অনেকে ১ মিটার চওড়া ও ৩ মিটার লম্বা এবং ১৫ সেমি উঁচু বীজতলা তৈরী করে নিয়ে তাতে জাফরান চাষ করে থাকে। এ ব্যবস্থায় পরিচর্যা গ্রহন ও ফুল থেকে স্টিগমা (গর্ভদন্ড) সংগ্রহ করা সুবিধা হয়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে বীজতলার আকার লম্বায় ৮-১০ মিটার করা হয়।

আরও পড়ুন Guava Farming: এই পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষে আপনিও লাভ করতে পারেন দ্বিগুন

চাষ পদ্ধতি (Farming process):

তৈরী বীজ তলা সরেজমিন হতে প্রায় ১৫ সেমি উঁচু হবে। প্রতিটা জাফরানের বাল্ব বা মোথা ১০-১২ সেমি দূরত্বে ছোট গর্ত তৈরি করে তা ১২-১৫ সেমি গভীরতায় রোপণ করতে হবে। তাতে এ মাপের বীজ তলার জন্য প্রায় ১৫০ টা জাফরানের মোথার প্রয়োজন হয়।

চাষের সময়:

বর্ষা শেষ হওয়ার পূর্বে জুলাই- আগষ্ট মাসে এ ফসলের মোথা বা বাল্প রোপণ করা হয়। শুরুতে বেশি গভীর ভাবে জমি চাষ করে বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি আগাছা মুক্ত ও সমান করে নেয়া প্রয়োজন। জমি তৈরিকালে প্রতি শতক জমিতে পচা গোবর/আবর্জনা পচা সার ৩০০ কেজি, টিএসপি ৩ কেজি এবং এমওপি ৪ কেজি প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটির সাথে সমস্ত সার মিশিয়ে হালকা সেচ দিয়ে রেখে দিয়ে দু’সপ্তাহ পর জাফরান বাল্ব রোপণ উপযোগী হবে। বসতবাড়ি এলাকায় এ ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী।

বর্ষার শেষে আগষ্ট মাসে মাটি থেকে গাছ গজিয়ে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ও ফুল দেওয়া অব্যাহত থাকে। মে মাসের মধ্যে গাছের উপরিভাগ হলুদ হয়ে মরে যায়। মোথা মাটির নিচে তাজা অবস্থায় বর্ষাকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

গাছের ফুল (Flower):

গাছে শীতের শুরুতে অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফুল আসে। বড় আকারের মোথা লাগানো হলে সে বছরই কিছু গাছে ফুল ফুটতে পারে। শীতকালে গাছের বাড় বাড়ন্ত ভালো হয়। শীত শেষে এ বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

পরিচর্যা:

জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাঝে মাঝে নিড়ানী দিয়ে হালকা ভাবে মাটি আলগা করে দেওয়া হলে মাটিতে বাতাস চলাচলের সুবিধা হবে এবং গাছ ভালোভাবে বাড়বে। শুকনো মৌসুমে হালকা সেচ দেয়া যাবে। তবে অন্য ফসলের তুলনায় সেচের প্রয়োজনীয়তা অনেক কম। বর্ষায় জল  যেন কোন মতে জমিতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জল জমে থাকলে রোপিত বাল্ব পচে যাবে।

রোগবালাই ও দমন (Disease management system):

গাছ ঢলে পড়া রোগ:

এক ধরনের মাটিতে বসবাসকারী ছত্রাকের (পিথিয়াম, রাইজোকটোনিয়া) আক্রমণে গাছের গোড়া নরম হয়ে গাছ বাদামী রং ধারন করে গাছ হেলে পড়ে। প্রতি লিটার জলে ২ গ্রাম হারে রিডোমিল গোল্ড অথবা কার্বোন্ডাজিম দলীয় ছত্রাকনাশক (জাষ্টিন/অটোস্টিন) স্প্রে করে সুফল পাওয়া যাবে।

শিকড় পচা রোগ:

এটা জাফরানের খুব ক্ষতিকর রোগ। এ রোগের আক্রমণে শিকড় পচে গাছ মারা যায়। এ রোগ যথেষ্ট ছোঁয়াচে, এ জন্য বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা দরকার এবং আক্রান্ত জমিতে ১-২ বছর জাফরান চাষ করা যাবে না। একই বাগানে ৩-৪ বছর ধরে জাফরান আবাদ অব্যাহত রাখা হলে এ রোগের উপদ্রব বাড়ে। এ জন্য ৩ বছর ফসল নেয়ার পর চতুর্থ বছর মোথা উঠিয়ে নিয়ে নতুনভাবে অন্য জমিতে এ ফসল চাষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফসল সংগ্রহ:

রোপণের প্রথম বছর সাধারণত ফুল আসে না। তবে জাফরানের রোপিত বাল্ব আকারে বেশ বড় হলে সে বছরই জাফরান গাছ থেকে মাত্র ১ টা ফুল ফুটতে পারে। পরের বছর প্রতি গাছে পর্যায়ক্রমে ২-৩ টা ফুল আসবে। দু’বছরের গাছে ৪-৫ টা এবং তিন বছরের গাছে ৭-৮ টা ফুল দিবে। গাছে অক্টোবর মাস থেকে ফুল দেওয়া আরম্ভ করে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তবে এ ফুল ফোটা মৌসুমী তাপমাত্রার উপর অনেকটা নির্ভর করে। ফুটন্ত ফুলের গন্ধের মাত্রা কিছুটা তীব্র। ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভদন্ড গাছ থেকে ছেঁটে সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ দন্ডের অগ্রভাগের অংশ তুলনায় চওড়া বেশি বা মোটা হয়। এ অংশের রং গাঢ় লালচে হয়। নীচের অংশ অনেকটা সুতার মতো চিকন এবং হালকা হলুদ রঙের হয়। উপরের অংশ জাফরান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা থেকে চাষীরা ভালো লাভ পেতে পারেন |

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন - GI Certified Jalgaon Bananas: ভারত থেকে GI স্বীকৃত জলগাঁও কলা রপ্তানি হচ্ছে দুবাইয়ে

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters