Teasel Gourd Farming: কাঁকরোলের আধুনিক চাষ পদ্ধতি জানতে নিবন্ধটি পড়ুন

KJ Staff
KJ Staff
Teasel Gourd (image credit- Google)
Teasel Gourd (image credit- Google)

কাঁকরোল এক ধরনের কুমড়া গোত্রীয় ছোট সবজি যা মূলত বর্ষাকালে চাষ হয়ে থাকে। কাঁকরোল Cucurbitaceae পরিবারের যার ইংরেজি নাম Teasel gourd/spine gourd/kantola এবং বৈজ্ঞানিক নাম Momordica dioica । এর খোসা ছোট ছোট ঘন নরম কাঁটায় ভরা থাকে। ভেতরের শাঁস সাদাটে সবুজ,বিচি নরম ও ছোট। কাঁকরোল গাছের কাঁচা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, ভিটামিন-বি, শ্বেতসার ও খনিজ পদার্থ ক্যারোটিন আছে। এই সবজি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু ও বাজারে এর চাহিদা ব্যাপকভাবে পাওয়া যায় | কৃষকরাও কাঁকরোল চাষে (Spine Gourd cultivation) আর্থিক দিক থেকে লাভবান হয়ে থাকেন |

মাটি (Soil):

কাঁকরোল চাষের করার জন্য দোঁআশ ও এটেল দোআঁশ মাটি প্রয়োজনীয়। তবে জৈব সার প্রয়োগ করে অন্য মাটিতেও কাঁকরোল চাষ করা যেতে পারে।

জমি তৈরী:

জমিতে ভালোভাবে ৪-৫ টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে জমির উপরিভাগ সমান করে নিতে হবে। শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হবে। তারপর চাষকৃত জমিতে প্রয়োজনীয় মাপের বেড তৈরী করে নিতে হবে। জমি অব্যশই আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

চারা তৈরী:

বীজ থেকে কাঁকরোলের চারা তৈরি করা যায়। কিন্তু তা না করাই ভালো। কেননা বীজ থেকে মাত্র ৫০% চারা গজাতে পারে। তাছাড়া বীজ থেকে গজানো চারার বেশির ভাগ গাছই পুরুষ গাছ হয়ে থাকে। এছাড়াও বীজ থেকে গজানো গাছের ফলন কম হয় |

আরও পড়ুন -Balsam Flower Farming: জুলাই মাসেই চারা লাগান, জেনে নিন দোপাটির চাষ পদ্ধতি

সেজন্য কন্দ বা মোথা থেকে কাঁকরোলের চারা তৈরি বা বংশবিস্তার করা হয়। গাছের আগা কেটে বালি বা মাটির মধ্যে ছায়া জায়গায় পুঁতে দিলে ১০-১৫ দিনের মধ্যে চারা হয়। কাটিং এর গোড়ায় রুটিং হরমোন লাগিয়ে দিলে দ্রুত শিকড় গজায়। তবে এতো ঝামেলা না করে জমিতে মাদা তৈরি করে সরাসরি কন্দমুল লাগানো উত্তম।

জমিতে বেড বা মাদা তৈরী (Seedbed):

বেড তৈরির ক্ষেত্রে প্রস্থ হতে হবে ২ মিটার ও জমির দৈঘ্য অনুযায়ী লম্বা করতে হবে। ২ বেডের মাঝে নালার প্রস্থ ও গভীরতা হবে যথাক্রমে ৩০ সেমি এবং ২০ সেমি। প্রতিটি বেডে ২ টি করে সারি রাখতে হবে। বেডে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ২ মিটার। প্রতিটি সারিতে ৬০x৬০x৬০ সেমি আকারের গর্ত মাদা তৈরী করে নিতে হবে। মাদায় ৪-৬ সেমি গভীরে কন্দমুল পুঁততে হবে। তারপর মাটি দিয়ে মাদা ঢেকে তার ওপর খড় বিছিয়ে দিতে হবে যাতে মাদার মাটি শুকিয়ে না যায়।

প্রয়োজনে ২/১ দিন পর পর ঝাঁঝরি দিয়ে মাদায় সেচ দিতে হবে। রস না থাকলে কন্দ গজাবে ন আর বেশি রস থাকলে কন্দ পচে যাবে। মোথা লাগানোর সময় পুরুষ ও স্ত্রী মোথার অনুপাত ঠিক রেখে লাগাতে হবে। সেজন্য ৯ টি স্ত্রী মোথা লাগানোর পর ১ টি পুরুষ মোথা লাগাতে হবে। পুরুষ গাছে স্ত্রী গাছের তুলনায় দেরিতে ফুল আসে। তাই স্ত্রী গাছের মোথা লাগানোর ১৫-২০ দিন আগে পুরুষ গাছের মোথা লাগাতে হবে।

সার প্রয়োগ (Fertilizer):

কাঁকরোল গাছের নিয়মিত বৃদ্ধি ও ভালো ফলন পাওয়ার জন্য এইভাবে সার প্রয়োগ করতে হবে | গোবর ৩-৫ টন,  ইউরিয়া ১২৫-১৫০ কেজি, টিএসপি ১০০-১২৫ কেজি, এসওপি/এমপি ১০০-১২৫ কেজি, জিপসাম ৮০-১০০ কেজি ব্যবহার করতে হবে | মাটি অধিক অম্লীয় হলে হেক্টরপ্রতি ৮০-১০০ কেজি ডলোচুন শেষ চাষের সময় মেশানো যেতে পারে |

শীতের শুরুতেই কাকরোল গাছ মরে যায় এবং পরবর্তী বর্ষা না আসা পর্যন্ত মাটির নিচে মোথা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, যা থেকে পরের বছর আবার সঠিকভাবে যত্ন নিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এভাবে কাঁকরোল চাষ করলে বীজের খরচ, রোপণ এবং রোপণ পরবর্তী খরচ অনেকাংশে কমে যায় এবং বেশি লাভবান হওয়া যায়।

ফসল সংগ্রহ:

কাঁকরোল হলদে সবুজ হলে একটা একটা করে কেটে বা ছিঁড়ে সংগ্রহ করতে হয়। মোথা লাগানোর ৩০-৬০ দিনের মধ্যে স্ত্রী গাছে ফুল ফুটোতে শুরু করে। চারা গজানোর ৬০-৭০ দিন পর কাঁকরোল তোলা শুরু করা যায়। কাঁকরোল গাছে পরাগায়নের ১২-১৫ দিনের মধ্যে কাঁকরোল সংগ্রহের উপযোগী সময়।

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন -Cash Crop Garlic Farming: জেনে নিন কিভাবে অর্থকরী ফসল রসুন চাষ করা যায়

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters