(Complete guide on Saffron Cultivation) জাফরান-এর চাষ, জমি প্রস্তুতি, সেচ, সংগ্রহ, এর ব্যবহার- জাফরান চাষের সম্পূর্ণ তথ্য

KJ Staff
KJ Staff
Saffron farming
Saffron farming

জাফরান বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল উদ্ভিদ। এত ব্যয়বহুল হওয়ায় এটিকে লাল সোনাও বলা হয়। তবে জাফরান চাষ কিন্তু খুব সহজ, কারণ এই ফসল চাষের জন্য খুব বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও, এর ফসলের সময়কালও ৩-৪ মাস এবং এটি ১৫-২৫ সেন্টিমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর দামও দিন দিন বাড়ছে, সুতরাং এই উদ্ভিদটির চাষ করে কৃষকরা ভাল লাভ করতে পারবেন।

বন্য জাফরান-এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Crocus cartwrightianus. বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা জাফরান-এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Crocus sativus.

জাফরান এর ব্যবহার (Usees of saffron) -                          

  • জাফরান দুধ এবং দুধে মিষ্ট স্বাদ এবং রঙিন বর্ণ আনতে ব্যবহৃত হয়।
  • পনির, মেয়নিজ্‌, মাংস ইত্যাদি পদ রান্নায় এটির ব্যবহারে স্বাদে এক অনন্য মাত্রা আসে।
  • মুঘলাই জাতীয় খাবারে বর্ণ ও গন্ধ আনতে এটি ব্যবহৃত হয়।
  • আয়ুর্বেদে এটি বাত নিরাময়ের জন্য ও অন্যান্য রোগে, যেমন বন্ধ্যাত্ব, লিভার বৃদ্ধি এবং জ্বর ইত্যাদি রোগ কমাতে ব্যবহৃত হয়
  • এটি বাণিজ্যিকভাবে সুগন্ধি এবং প্রসাধনী তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।

মেজর জাফরান উত্পাদনে ভারতে রাজ্যগুলি -

প্রধান উত্পাদন রাজ্য হ'ল জম্মু ও কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রদেশ। এটি স্থানীয়ভাবে হিন্দিতে কেশর, কাশ্মীরিতে কং, বাংলায় জাফরান, পাঞ্জাবিতে জ্যাফরান, গুজরাটিতে কেশর, উর্দুতে জাফরান, আসরা, অরুণা, আশ্রিকা, সংস্কৃত ভাষায় কুনকুমা নামে পরিচিত।

তাপমাত্রা (Tempareture) -

স্যাফরন ফলনের ক্ষেত্রে কখনোই তাপমাত্রা গরমকালে ৩৫ ডিগ্রি বা ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশি হলে চলবে না, আবার শীতকালে -১৫ ডিগ্রি বা -২০ ডিগ্রির কম হলে চলবে না। তাই চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় স্যাফরন ভালো হয় না। খুব বেশি ঠান্ডায় পাতাগুলি শুকিয়ে যেতে পারে, ফুলও ঠিক মতো ফোটে না এবং গেরুয়া রঙও ঠিক মতো ধরে না। যদি হঠাতই খুব ঠান্ডা পড়ে যায়, তাহলে খড় দিয়ে বা ফাইবারের কাপড় দিয়ে গোটা জায়গাটাকে ঢেকে ফেলতে হবে। আর যদি খুব গরম পড়ে যায়, তাহলে বসন্তকালে একবার সেচের ব্যবস্থা করতেই হয়। তবে যদি এই সময় বৃষ্টিপাত খুব ভালো হয়, তাহলে তো কথাই নেই। এর চাইতে ভালো আর কিছুই হতে পারে না ফুল ফোটার ব্যাপারে।

Saffron Cultivation information guide
Saffron Cultivation information guide

বপন (sowing) -

স্যাফরন করম বপনের সময় মাথায় রাখতে হবে সেখানে যেন আগে কখনো স্যাফরন করম বপন না করা হয়ে থাকে। প্রায় ১০ বছর হলে সবচেয়ে ভালো হয়। বপনের সময় মাটিতে প্রায় ২০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার গর্ত খুঁড়তে হবে। যাতে করম দেওয়ার পরেও ভালো করে হাওয়া বাতাস খেলতে পারে। সঙ্গে দিতে হবে অর্গানিক সার। সেচ বা জল ঝড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। করম থেকে যখন পাতা বেরোবে তখন একবার অন্তত সেচ খুব প্রয়োজন। জুলাই, অগস্ট বা সেপ্টেম্বরে করম পুঁতলে অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের মাঝামাঝি ফলন শুরু হয়। বপনের আট সপ্তাহ পর থেকে। স্যাফরন ক্রোকাস সূর্যালোকে ফুটতে বেশি পছন্দ করে, ঢাকা জায়গার তুলনায়। করম সাধারণত ৭-১৫ সেন্টিমিটার গভীরে পোঁতা হয়। মনে রাখতে হবে যত বেশি গভীরে পোঁতা হবে করম, গুণমানে তত বেশি সমৃদ্ধ হবে স্যাফরন।

সী বেড ব্যবস্থা (Seed bed arrangement) -

শ্রেণি বিন্যাসের মাধ্যমে করম পুঁততে হবে। প্রতিটি শ্রেণির মধ্যে ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্ব থাকবে। এতে ড্রেনেজ এবং ভেন্টিলেশন দুটোরই সুবিধা থাকবে। দুটো শ্রেণির মাঝখান দিয়ে যদি হাঁটার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে প্রতিটি গাছকে আলাদা করে পরিচর্যাও করা যাবে। দুটো করমের মধ্যে কতখানি দূরত্ব থাকবে তা পুরোটা নির্ভর করে করমের মাপের ওপরে। গড়ে দুটি করমের মাঝখানে ৫-১০ সন্টিমিটার দূরত্ব থাকে এবং বড়গুলির ক্ষেত্রে ১০-২০ সেন্টিমিটার।

সঠিক পরিচর্যা হলে স্যাফরন ক্রোকাস চার বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। পঞ্চম বছরে তাকে নির্মূল করা যেতে পারে। স্যাফরন ক্রোকাসের গোড়ায় আগাছা জন্মানো একেবারেই উচিৎ নয়। কীটনাশকও ব্যবহার করতে হবে বুঝে। বিশেষ করে খরগোশের হাত থেকে সাবধান।

Pollen separation
Pollen separation

ফুল ফোটা -

অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ফুল ফুটতে থাকে এবং তা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে থাকে। ফুল সাধারণত রাতে ফোটে। পরেরদিন ভোরেই সেই ফুল তুলে ফেলা ভালো। দুপুর পর্যন্ত গড়ালে আবার পাঁপড়ি ঝরে যেতে পারে।

পরাগ পৃথকীকরণ (Pollen separation) -

ফুলগুলিকে তুলে নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করা হয়, তারপর একটা একটা করে ফুল থেকে লাল রেণু আলাদা করা হয়। সাদা বা হলুদ অংশটি নয়। এরপর রেণুগুলোকে শুকতো দেওয়া হয়। মনে রাখতে হবে ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রার চেয়ে বেশি যেন না হয় এবং প্রত্যেকটা রেণু যেন খুব ভালো করে শোকানো হয়। শুকিয়ে যাওয়ার পর ওজন এবং মাপ দুটিই কমে যায় প্রায় ৮০ শতাংশ। যেমন পাঁচ কিলো রেণু শুকিয়ে যাওয়ার পর মাপ এক কিলো হবে কী না সন্দেহ। গরম কয়লার ওপর বা ওভেনেও এই শুকনো করার কাজটা করা যায়। যতক্ষণ না পর্যন্ত কালচে লাল রঙ ধারণ করে রেণুগুলি।

শুকিয়ে গেলে এগুলিকে পাত্রে নিয়ে অন্তত ৩০ দিন পর্যন্ত ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হয়। তারপর পরিমাণ মতো সেগুলিকে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়।

Image source - Gppgle

Related link - (High yield of wheat at low cost) কম খরচে গমের উচ্চ ফলন পেতে চান? এই পদ্ধতির অনুসরণ করুন

(Successful farmer) এক একর জমিতে লাউ চাষ করে লক্ষাধিক উপার্জন করছেন এই কৃষক, আপনিও এই পদ্ধতিতে চাষ করুন আর দ্বিগুণ উপার্জন করুন

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters