দেশব্যাপী লকডাউন থাকলেও ভারতের গম (Wheat) উৎপাদন বৃদ্ধি পেল কৃষকদের পরিশ্রমে

Wednesday, 03 June 2020 05:58 AM

দুই মাস ধরে দেশব্যাপী লকডাউন থাকা সত্ত্বেও ভারতের গম সংগ্রহ গত বছরের স্তর অতিক্রম করেছে। ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও পাবলিক বিতরণ মন্ত্রক সোমবার জানিয়েছে, রবি বিপণন মরসুম (RMS) ২০২০-২১ -এ সরকারী সংস্থা গম সংগ্রহ করায় চলতি বছর ২৪ শে মে অবধি গমের সংগ্রহ ৩৪১.৫৬ লক্ষ মিলিয়ন টন ছুঁয়েছে। গত বছর এই পরিসংখ্যান ছিল ৩৪১.৩১ মিলিয়ন টন।

তবে, গম উত্পাদনের ক্ষেত্রে সাধারণত শীর্ষে থাকা উত্তরপ্রদেশ এই বছর পিছিয়ে পড়েছে। সরকার কেন্দ্রীয় পুলের জন্য এ বছর ৪০৭ লক্ষ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৮৩.৯২ শতাংশ অর্জন হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মহামারীকালীন সময়ে নিরাপদ পদ্ধতিতে শস্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা। করোনাভাইরাসের কারণে দেশে লকডাউনের প্রভাবে এ বছর ১৫ এপ্রিল থেকে গম সংগ্রহ কার্য শুরু হয়েছে।

আরএমএস ২০২০-২১ চলাকালীন ৪০৭ লক্ষ মিলিয়ন টন সংগ্রহের জন্য সরকারের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৫% হিসাবে এখনও পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে। এ বছর, পাঞ্জাব ১২৫.৮৪ লক্ষ মিলিয়ন টন গম সংগ্রহ করেছে ২৪ শে মে অবধি, যা ১৩৫ লক্ষ মিলিয়ন টন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৩.২১ শতাংশ। অন্য তিনটি প্রধান রাজ্যের মধ্যে মধ্য প্রদেশ এখনও পর্যন্ত ১১৩ লক্ষ মিলিয়ন টন গম সংগ্রহ করেছে। যা ১৪০ লক্ষ মিলিয়ন টনের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮০ শতাংশ। রাজ্য তার লক্ষ্যটিকে ১০০ লক্ষ মিলিয়ন টন থেকে ১৪০ লক্ষ মিলিয়ন টনে উন্নত করেছে। শতাংশের দিক থেকে, এই বছর হরিয়ানা রাজ্যটি লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ লক্ষ মিলিয়ন টনের ৭০.৬৫ লক্ষ মিলিয়ন টন বা ৭৪.৩৭ শতাংশ সংগ্রহ করেছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম।

২০২০ সালের এপ্রিলে হরিয়ানায় সংগ্রহ সামান্য দেরিতে শুরু হলেও মন্ত্রকের বিবৃতি অনুসারে, উত্তর প্রদেশে সংগ্রহের গতি অনেক কম। ইউপি তার ৫৫ লক্ষ মিলিয়ন টনের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২০.৬৬ লক্ষ মিলিয়ন টন বা মাত্র ৩৭ শতাংশ সংগ্রহ করেছে। ভারতে, খাদ্য ফুড কর্পোরেশন (এফসিআই) এবং বিভিন্ন রাজ্য সংস্থা ন্যূনতম সমর্থন মূল্যে গম সংগ্রহ করে।

বিনামূল্যে খাদ্য শস্য বিতরণ - রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী গরিব অন্ন যোজনা (পিএমজিওয়াই) এর অধীনে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণের জন্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে, তারা কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যেই তিন মাসের জন্য সম্পূর্ণ কোটা সম্পন্ন করেছে।

আরও সাতটি রাজ্য জুন মাসের কোটা তুলছে এবং ২০ টি রাজ্য বর্তমানে মে মাসের কোটা তুলছে। গম উৎপাদক রাজ্যগুলি এপ্রিল মাসের কোটা উত্তোলন করছে, যেটি মাসের শেষের দিকে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নভেল করোনার জেরে লকডাউন চলাকালীন কোনও গরীব মানুষ যাতে ক্ষুধার্ত না থাকে, তার ব্যবস্থা করে সরকার পিএমজিওয়াইয়ের আওতায় তিন মাস ধরে রেশন কার্ডহোল্ডারদের জন্য প্রায় ৫ কিলো খাদ্যশস্য বিনামূল্যে দিচ্ছে। এটি জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে দেওয়া কোটার উপরে। প্রয়োজনীয়তা মেটাতে এফসিআই সব রাজ্যে পর্যাপ্ত স্টক স্থাপনের ব্যবস্থা করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বলেছে যে, অল্প সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও ওড়িশা চারটি রাজ্য থেকে রাজ্যে ২২৭ টি ট্রেনের মাধ্যমে চাল নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। পিএমজিওয়াইয়ের অধীনে পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত প্রয়োজন তিন মাসের জন্য ৯,০০,০০০ টন চাল, তা কেন্দ্র সরবরাহ করবে।

Related link - https://bengali.krishijagran.com/news/the-government-has-increased-the-msp-of-kharif-crops/

https://bengali.krishijagran.com/news/bangla-fasal-bima-yojona-farmers-will-be-protected-from-financial-loss-even-if-the-crop-is-damaged-apply-today-for-wb-farmers/

https://bengali.krishijagran.com/agripedia/crop-insurance-15-lakh-farmers-to-get-rs-2-990-crore-by-next-week/

English Summary: Despite a nationwide lockdown, India's wheat production increased due to the hard work of farmers

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.